ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 
null

কথায় আছে কোন কাজে বাঙালী বেশি দিন একসঙ্গে থাকতে পারে না । সেটি আজ আবারও প্রমাণ হলো – এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের পোষা সাংবাদিকরা মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে কর্মসূচী চাইলে সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর আলমের উপর ঝাঁপিয়ে পরে । জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তৃতায় বলেছিলেন “সাংবাদিক সাগর-রুনির মৃত্যুর জন্য এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান দায়ী। তার কার্যালয় ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।” বক্তৃতা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি শওকত মিল্টন তেড়ে গিয়ে বলেন, “কর্মসূচি ঘোষণা করার আপনি কে?” পাশ থেকে এটিএন বাংলার অন্য এক সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে আঘাত করেন । সে সময় শওকত মিল্টন ও জাহাঙ্গীর আলমকে কিল ঘুষি মারতে থাকলে – এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর দৌঁড়ে প্রেসক্লাবের ভেতরে চলে যেতে থাকলে ধাওয়া করে তার ওপর চড়াও হন মিল্টন, জ ই মামুন, এসএম বাবু, রাহাত মিনহাজসহ এটিএন বাংলার অন্য সাংবাদিকরা। পুরো আক্রমনের দৃশ্যটি ক্যামেরা বন্দি হয়েছে । তবুও জ.ই মামুন সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন তাদের উপড় নাকি আক্রমন করা হয়েছে । এর পর ও কি এটিএন বাংলা চ্যানেলটির প্রচারিত সংবাদের উপড় আস্তা রাখা যায় ?

সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে সাংবাদিক সমাজ এক ছাতার নিচে আশ্রয় নিলেও আজকের আঘাত আবারও সাংবাদিক সমাজের ভেতরের দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। সাংবাদিকরা মাহফুজুর রহমান যে বর্তমান সরকারী দলের একজন মদত পুস্ট ব্যক্তি তা সকলের জানা। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব কেউই সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডটির কোন সুরাহা করতে না পারায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে , অনেকের ধারণা সরকার ঠিকই বের করে ফেলেছে কারা হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে জড়িত কিন্তু তারা সরকারের মদদ পুষ্ট ব্যক্তি হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মামলাটি পুলিশ থেকে ডিবিতে , ডিবি থেকে র‌্যাবে হস্তান্তর করে আইওয়াশ করার চেষ্টা করে এসেছে । কিন্তু লন্ডনে সাগর-রুনির চরিত্র নিয়ে মাহফুজুর রহমানের বক্তৃতা সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করে । দেশের সাংবাদিকরা আবার ফুসে উঠেন । তারা বারবার মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে তাকে জিজ্ঞাসা বাদ করার দাবী জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি । তাই সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়ে মাহফুজুর রহমানের পোষা সাংবাদিক নামক গুন্ডা বাহিনী আজ যেভাবে অন্য একজন সাংবাদিকের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল – তাতে কি প্রমাণিত হয় ?

পোষা সাংবাদিকদের দিয়ে আঘাত করে “সাগর-রুনি হত্যাকারীদের আড়াল করা কিংবা বাঁচানো যাবে না ।” এ দেশে সংবাদ মাধ্যম বেঁচে থাকলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডটির বিচার হতেই হবে। মাহফুজুর রহমানের এমন শক্তি নেই যে, সাগর-রুনি হত্যাকারীদের আড়াল করতে পারবে কিংবা বাঁচাতে পারবে । তার হাত যতোই লম্বা হোক না কেন ।