ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “যতো দোষ নন্দ ঘোষ” ।এর অর্থ হচ্ছে যেই দোষ বা অন্যায় করুক না কেন নন্দকে সেই দোষে দুষি করা । বাংলাদেশের রাজনৈতিক পেক্ষাপটে এখন এটি অতিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে ।যেই অন্যায় করুক না কেন – সেই দোষ সরকারের ঘারে চাপিয়ে বেশ ফায়দা লোটার চেস্টা সকাল সন্ধ্যা চোখে পরছে । বিশেষ করে মিডিয়াতে বক শো নামক সরি “টক শো” নামক অনুষ্ঠানে যারা অংশ নেন তাদের মধ্যে এ প্রবণতা অতিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে । বকের মতো গলা লম্বা করে তারা সরকারকে বিভিন্ন দিক থেকে খোঁচা দিয়ে বিশেষ এক ধরনের আরাম বোধ করেন। সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানী হিসাবে প্রমাণের একটি বিশেষ চেষ্টা তাদের মধ্যে অতিমাত্রায় দেখা যায় । যে কেউ এর প্রতিবাদ করলেই তারা তাতে বেশি আমোদিত হয়ে উঠেন, পাবলিসিটি পাবার প্রত্যাশায় তাদের চোখ মুখ চকচক করে উঠে । এ পর্যন্ত যা লিখলাম তাতে আমাকে সরকারী দলের বা আওয়ামীলীগের সমর্থক বলে আখ্যা দিতে কারো বিন্দু মাত্র দেরি হবে না । কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে ঢালাও সমালোচনাই আমাকে এ লেখাটি লিখতে বাধ্য করেছে ।

টক শোতে অংশ গ্রহন করা ব্যক্তিদের অধিকাংশই জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন সরকারের চাকরী করে । উঠতে বসতে জি স্যার, হ্যা স্যার, প্রমোশন চাই স্যার , মাছটা পাঠালাম স্যার, আমার দিকটা একটু খেয়াল রাখবেন স্যার এসব ছিল তাদের নিত্য দিনের ডায়ালগ । এখন তারা নেমেছেন দেশ উদ্ধারে । আর দেশ উদ্ধারের সবচাইতে বড় উপায় হচ্ছে সরকারের খারাপ খারাপ কাজগুলো খুঁজে বের করো এবং ঢালাও ভাবে সমালোচনা চালাও । তাতেই দেশের উদ্ধার হবে । কথায় কথায় পদ্মা সেতু,কুইক রেন্টাল বিদ্যুত,শেয়ার বাজারের প্রসঙ্গ তুলে তারা বিশেষ আরাম বোধ করেন ।

সম্প্রতি যোগ হয়েছে, বিশ্বজিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি নিয়ে সরকারের আন্তরিকতার যে কোন শেষ নেই সেটি দেখলেই বোঝা যায় । এ পর্যন্ত খুনীদের প্রায় সবাই গ্রেফেতার হয়েছে । সরকারের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে খুনিদের শাস্তি দেবার ঘোষনা বারবার দেওয়া সত্বেও ঢালাওভাবে সরকারের সমালোচনা করে চলেছে । যে কোন হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয় , কই বিশ্বজিতের সকল খুনীদের গ্রেফতার করার পর ওতো কাউকে সরকারকে ধন্যবাদ দিতে দেখা গেল না ।

বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কোন শেষ নেই । সেটি প্রতিটি সরকারেরই থাকে ।এ সরকারের হয়তো একটি বেশিই । কিন্তু ব্যর্থতার পাশাপাশা সরকারের সফলতাও আছে । কয়েকটি বিদেশি পত্রিকার দিকে চোখ বুলান চিত্রটা পেয়ে যাবেন । জেডিপির হার যেভাবে বাড়ছে সেটি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের গোটা চিত্র পরিবর্তন হতে খুব একটা সময় লাগবে না । এ কথাটি কিন্তু ঐ সব সমালোচকদের বলতে শুনা যায় না । আমলা মন্ত্রীদের দূর্নীতি পরেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকছে । যেখানে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো তাদের অর্থনীর্তি ঠিক রাখার জন্য হিমসিম খাচে সেখানে বিশ্বব্যাংক, আমেরিকার সঙ্গে তিক্ত সর্ম্পকের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা উর্ধ্বমুখী, এটা কি এমনি এমনি হচ্ছে ?

সমালোচনা হওয়া উচিত গঠনমূলক । যেখানে সরকারের ব্যর্থতা সফলতার উভয় চিত্রই ফুটে উঠবে । কিন্তু যারা প্রতিদিন সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের কোন নীতি আছে বলে মনে হয় না । তারা সমালোচনা করেন নিজের আখের গোছাবার স্বার্থে । সরকারের কাছ থেকে কোন কিছু পাবার সম্ভাবনা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে তারা হয়ে উঠেন সমালোচক । আলোচনা শেষ করে তৃপ্ত কন্ঠে মিডিয়ার দেওয়া চেকটা হাতে নিয়ে গভীর রাত্রিরে বাসায় ফেরেন । সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশায় থাকেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি প্রাপ্তির সম্ভাবনার দার যদি খুলে যায় ।

স্বাধীনতার একচল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে ।আজো আমরা প্রকৃত পক্ষে স্বাধীন হতে পারিনি। যুদ্ধাপরাধীরা আজো বুক ফুলিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে । হুকার দিচ্ছে । গাড়ী পোড়াচ্ছে ।পুলিশ মারছে । আর এসব হচ্ছে এই সব তথাকথিত ব্যক্তিদের জন্য । একজন মুক্তিযোদ্ধাও বিএনপি করার স্বার্থে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটার লোভে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধা করছে না । আমাদের মনে রাখা উচিত , যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায় শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের নয় ।এ দায় আমাদের সকলের। সরকারের সমালোচনা করুণ ভাল কথা কিন্তু সেটি যেন হয় গঠন মূলক। তাতে সমালোচকের ফায়দা না হলেও গোটা জাতির জন্য মঙ্গল জনক। সব দোষ সরকারের কাধে চাপিয়ে দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সরকারের কাজের গতিকে মন্থর করে কোন লাভ নেই। সমালোচনা করুণ ঈমানের সঙ্গে সেটিই সকলের জন্য মঙ্গলকর ।