ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ধর্ম কী? মানব জীবনে ধর্মের প্রয়োজনই বা কী? ধর্ম না থাকলে কি মানব সভ্যতা টিকে থাকতে পারবে না? পৃথিবী নামক গ্রহে প্রায় সাড়ে ৬শ কোটি মানুষের জন্য কয়টি ধর্মের প্রয়োজন? ধর্ম রক্ষণাবেক্ষনের টেন্ডার স্রষ্টা কাদেরকে দিয়েছেন? স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য যদি ধর্ম হয়ে থাকে তা হলে সে ধর্ম রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বও তো স্রস্টার নিজের উপরই বর্তায় । স্রষ্টার ধর্মকে রক্ষার জন্য তো স্রষ্টাই কাফি । অন্যের কাঁধে বন্দুক রাখার কোন প্রয়োজন তো স্রষ্টার নেই ।

কতো আক্কাস আলি, সুলেমান, জোসেফ, যদু, কদু এল আর গেল। কিন্তু ধর্মগুলো তো যেমন ছিল তেমনিই আছে । কই? কোন পরিবর্তন তো দেখি না। কোন পরিবর্তন হয়নি। সুতরাং বলতে পারি ধর্মগুলো চলে নিজের গতিতে । কেউ এই গতিধারা পরিবর্তন করতে পারবে না । মানুষ শুধু পারবে যে ধর্ম মানুষের জন্য বেশি গ্রহণযোগ্য সেটি অনুসরণ করতে।

অন্য ধর্মের কথা বাদ দিলাম নিজের ধর্মের কথাই বলি । বতর্মান মুসলিম বিশ্বে যারা আলেম বলে খ্যাতিপ্রাপ্ত তারা সকলে একত্রে বসেও কি কুরআনের একটি আয়াত কিংবা অক্ষর পরিবর্তন করতে পারবে? পারবে কি কুরআনের সমতুল্য একটি আয়াত বানিয়ে আনতে? পারবে না । সত্যি বলতে জ্ঞানের যত উচ্চ স্তরে এরা অবস্থানই করুক না কেন প্রকৃতপক্ষে নবী,রসূল ছাড়া কুরআনকে পরিপূর্ণ ভাবে বুঝতে পারা কোন মানুষ বা জ্বিন জাতির পক্ষে সম্ভব না । কুরআন মুখস্থ করা যায় কিন্তু পরিপূর্ণ ভাবে বুঝতে পারা সম্ভব নয় । সেটা কারো পক্ষেই নয় । তবে যেটুকু বোঝা যায় তা দিয়ে মানব জাতির জীবন পরিচালনা করা পরিপূর্ণ ভাবে সম্ভব ।

পবিত্র কুরআনে যেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে – লা কুম দ্বিনকুম ওয়ালিয়া দিন । অর্থাৎ যার যার ধর্ম তার তার কাছে । অথচ দ্বীনের নামে, ধর্মের নামে প্রতিদিন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কোন না কোন মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে । নির্মম ভাবে হত্যা করা হচ্ছে শিশু এবং নারীদের । এসব ক্ষেত্রে স্রষ্টার নীরব ভূমিকা আমাকে ভাবিয়ে তুলে । যার ধর্মের জন্য এসব নিরীহ নারী, শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে তার এই নীরব ভূমিকা সত্যিই বড় কষ্টের, নিদারুণ বেদনার ।

ধর্ম যার, রক্ষা করা দায়িত্বও তার । স্রষ্টাই তার ধর্মকে রক্ষা করবেন । মসজিদের ইমাম , ঠাকুর আর ফাদারদের যাঁতাকলে পরে আমাদের ধর্ম হয়ে পরেছে মসজিদ,মন্দির আর গির্জা কেন্দ্রিক । মসজিদ,মন্দির আর গির্জায় আমরা হাজার হাজার টাকা দান করলেও গরীব মানুষকে দান করি না । মাজারে হাজার টাকার বাতি জ্বালিয়ে গান বাজনা করলেও পথে পাশে বসে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাই না । পাথরের মূর্তির শরীরে মনের পর মন দুধ ঢাললেও অভুক্ত শিশুর মুখে এক ফোটা দুধ দেওয়ার কথা কারো মনে থাকে না । ধর্মের নামে সাপ, ব্যাঙ, কুইচাকেও মানুষ পূজা করে । মসজিদ, মন্দির,গির্জা হয়ে গেছে ভিক্ষা গ্রহণের কেন্দ্রস্থল । শান্তির জন্য আসো এবং ভিক্ষা দাও । নতুবা শান্তি পাবে না । শান্তি তোমায় দানের মাধ্যমে কিনে নিতে হবে । ধর্মের নামে মসজিদ,মন্দির,গির্জাগুলো নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্য ভিক্ষা করছে ।

পৃথিবীতে ধর্মের নামে যতো অশান্তি হয়েছে । তার মূলে কারণ হচ্ছে মানুষের অশিক্ষা কিংবা স্বল্প শিক্ষা । আলেম তালেবর,যদু,কদুরা গ্রাম থেকে কুরআন কিংবা ধর্মগ্রন্থ মুখস্থ করে এসে শহরের হোমরা, চমরা, উকিল, ব্যারিস্টার, মন্ত্রী, মিনিস্টার-দেকেও নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরায় । আর সেটা সম্ভব হয়েছে কেবল পরকালের আরাম আয়েশের প্রতি মানুষের লোভ আর ধর্মের প্রতি মানুষের অন্ধ সমর্থনের কারণে ।
অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ তায়ালা শিক্ষার প্রতি জোড় দিয়েছেন । অনেক যাচাই বাছাই করে নিজের ধর্মকে বেছে নিতে বলেছেন । জ্ঞান অর্জনের জন্য বহু দূর পর্যন্ত যেতে বলেছেন । এ থেকে বোঝা যায় মূর্খের স্থান ইসলামে নাই ।

আজ একজন মুসলমান অন্য একজন মুসলমানকে মতের মিল না হওয়ায় হত্যা করতে বিন্দু মাত্র কুণ্ঠা বোধ করছে না । ইরাকে কিছুদিন আগেও ধর্মের নামে ধর্ষণ করাও জায়েজ বলে ফতুয়া দেওয়া হয়েছে । এসবই হচ্ছে অশিক্ষার কারণে । মুহাম্মদ (স:) নিজে অশিক্ষিত হয়েও ধর্মের যে বাণী প্রচার করে গেছেন তা অনুধাবন করার জ্ঞান আজ পর্যন্ত কারো হয়নি । যদি হতো তা হলে  ইসলাম রক্ষার নামে কাউকে হত্যা করা হতো না । শান্তির ধর্ম ইসলাম পৃথিবীতে সন্ত্রাসীদের ধর্ম বলে প্রচার পেত না । ভারতে হিন্দু শিব সেনাদের হুকুমে নির্বিচারে মুসলমান হত্যা করা হচ্ছে । মায়ানমারে মুসলমান অধিবাসিদের হত্যা করা হচ্ছে ,শিশু এবং নারীদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে,ধর্ষন করা হচ্ছে । হাজার হাজার মানুষকে ইউরোপে ধর্মের জন্য হত্যা করা হয়েছে । কথা হচ্ছে ধর্ম কি শুধু রক্তই চায় ? ধর্মের জন্য মানুষ নাকি মানুষের জন্য ধর্ম ? সব হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়িদের জন্য । এরা ধর্মের নামে মুখে শান্তির কথা বলে আবার ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ মারে ,এবং নিজেদের পেটে ভরার জন্য ভিক্ষা করে ।