ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কথায় আছে, অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ । ঠিক মতো নামাজ পরি না , জাকাত দেই না । গরীবের হক আদায় করি না । এমন কি আত্মীয় স্বজনেরও না । সুযোগ পাইলে , এতিমের হক ও ছাড়ি না । কিন্তু তবুও কে কাকে কি বলল, সেইটা নিয়া ফালা ফালির কমতি নাই । ফ্যাসাদ তৈরি করা, তিলকে তাল বানানোই এদের কাজ প্রধান কাজ । ইসলাম এতো সস্তা জিনিষ না যে, কেউ ধরে নাড়াচাড়া দিলেই পরে যাবে বা ধ্বংস হয়ে যাবে ।

যাদের ঈমান ঠিক নেই তাদের উদ্দেশ্যে বলছি,আমাদের প্রিয় নবী, রসূল কিংবা ইসলামকে নিয়ে কেউ কোন কটূক্তি করলেই লাফিয়ে উঠবেন না । আগে নিজের ঈমান ঠিক করেন । নামাজ আদায় করেন , অন্যের হক আদায় করেন পরিপূর্ণ ভাবে যাকাত আদায় করেন । তারপর প্রমাণ দিয়ে হাজির হন আপনি সাচ্চা মুসলমান এবং প্রতিবাদ করুণ । তা না হলে অন্যের দোষ নিয়ে ফালাফালি করায় আল্লাহ আপনাদের বেহেস্ত নেবে না । আল্লাহ্ তার ধর্ম রক্ষার জন্য একাই যথেস্ঠ ।
পল্টনে,আমেরিকায় কুরআন পোড়ানো হয় আপনারা প্রতিবাদ করেন না , ভারতে নির্বিচারে মুসলমান মারা হয়, কোরবানির মাংস বহন করায় দায়ে পিটানো হয় , আপনারা প্রতিবাদ করেন না । চারটা বিয়ে করলে কোন দোষ হয় না কিন্তু চারটি বিয়ে করতে নিষেধ করলেই সমস্যা ! কোন মানুষের পক্ষে চার জন নারীর প্রতি সমান হক আদায় করা সম্ভব কি না , এটা কি একবার ভেবে দেখেছেন ? শুধু মুখে মুখে আল্লাহ ও রাসূল প্রীতি।
কোথাকার কোন যদুমধু আল্লাহ আর তার রসূলকে নিয়ে কি বলল, তাতে আপনাদের অন্তর পুড়ে যায় । নিজেরা যখন আল্লাহ্ হুকুম পালন না করে রাসুলের নির্দেশ অমান্য করে অন্যের হক নস্ষ্ট করেন তাতে কিচ্ছু হয় না ,তাই না ?
ইসলাম এতো সস্তা না । মূর্তি দেখলেই যাদের ভাঙতে ইচ্ছে জাগে তাদের উদ্দেশ্য বলব , মুতি দেখলেই যদি ইমান চলে যাবার ভয় দেখা দেয় । তা হলে ঈমানের মধ্যে সমস্যা রয়েছে । আগে নিজের ঈমান ঠিক করুণ । অন্যের হক আদায় করুণ । তাতেই বরং আল্লাহ এবং রসুল বেশি খুশি হবেন ।
লতিফ সিদ্দিকী যা বলেছে তার দায় ওনার । সেটা নিয়ে রাজনীতি করার কোন প্রয়োজন নাই । এক শিয়াল ডাকলেই সকল শিয়াল ডেকে উঠে । আমরা যে মানুষ সেটা আমরা ভুলে যাই । দয়া করে ওনাকে কাফের বানাবেন না , যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন সেটা ওনাকেই বুঝতে দিন । একসময় নিজে থেকেই তিনি নিজের বক্তব্য পরিহার করবেন ।
আপনার আমার চেয়ে উনি হয়তো আল্লাহর বেশি প্রিয়, তা না হলে ওনার কপালে আরো দশ বছর আগে হ্জ্জ নসিব হতো না । হাতি গর্তে পরলে চামচিকাও লাথি মারে । লতিফ সিদ্দিকীরও সেই অবস্থা । যারা তার সামনে কেন পেছনে থেকেও সমালোচনা করার সাহস পেতো না তারাই এখন তার সমালোচনায় মুখর । প্রথম আলো তো তার দূনীর্তির পশরা সাজিয়ে বসেছে ।( প্রথম আলোর উদ্দেশ্য অবশ্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলা । ) কৈই উনি যখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের রিরুদ্ধে গিয়ে সরকারের , বিজিএমইএর পক্ষে কথা বলেছেন, আমেরিকার রাস্ট্র দূর্ত ড্যান মর্জিনার উদ্দেশ্য নানান বক্তব্য দিয়েছেন তখন তো কেউ প্রতিবাদ করেননি । হজ্জ নিয়ে কিছু বললে, কারো না খেয়ে থাকতে হয় না কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলাতে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিক তাদের বেতন বোনাস পাননি । তখন আপনাদের এতো রাগ,ক্ষোপ ছিল কোথায় ?
সমালোচনা যদি করতে হয়, তবে যে মানুষগুলো এতোদিন তার দ্বারা উপকৃত হয়েছেন তাদের কথাও বলুন । উনিই বাংলাদেশের এক মাত্র এমপি যিনি প্রচুর পরাশুনা করেন । দান খয়রাত করেন । এবং যথেস্ঠ জ্ঞান রাখেন । সুতারাং ওনাকে সময় দিন । উনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন ।
সারা জীবন ইবাদত করেও কেউ হয়তো জান্নাতে যাবে না আবার মদ খেয়েও হয়তো কেউ জান্নাতে চলে যাবে সব আল্লাহর ইচ্ছে । আল্লাহই সব শক্তিমান । বিচারের ভার তার উপড় ছেড়ে দিন