ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

Piyash-Karim

ছোট বেলার একটা কথা খুব মনে আছে, তখন কিউবা নামক একটি রাষ্ট্র যে, পৃথিবীর বুকে তা রয়েছে জানতাম না । কিন্তু প্রায়ই খবরে দেখতাম , কিউবা সম্পর্কে আমেরিকা এই বলেছে , ঐ বলেছে । বিটিভি ও সেসব সংবাদ ফলাও করে প্রচার করত । আমি ভাবতাম বাবা, কিউবা বুঝি খুব শক্তিশালী রাষ্ট্র আমেরিকারে আঙুল দেখায় । আমার আব্বা ফিদোল কাস্টকে বলতেন, একেবারে বাঘের বাচ্চা ।

আমেরিকার হইচই এর ফলে আমার মতো একটি শিশুও সেদিন জেনে ফেলেছিলাম, কিউবার মতো ছোট্র একটি রাস্ট্রের নাম, তার রাজধানীর নাম , সে রাস্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান কে , ইত্যাদি ইত্যাদি । সবই হয়েছিল আমেরিকার নামের দানব এক রাস্ট্রের হইচই এর কল্যাণে । কিউবাকে সারা পৃথিবীর কাছে তার বদনাম করে পরিচিতি পাইয়ে দেবার কৃতিত্ব ছিল আমেরিকার ।

এবার আসি মুল প্রসঙ্গে , শহীদ মিনারে পিয়াস করিমের মরদেহ রাখা না রাখা নিয়ে যা হচ্ছে , তার ফলে মৃত পিয়াস করিম জীবিত পিয়াস করিমের চেয়ে অনেক অনেক বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছেন । টক শো গুলোতে ব্যক্তিটিকে কয়েকবার দেখেছি । কিন্তু তখন তার নাম জানতাম না। জানার চেষ্টাও ছিল না । কেননা টক শোতে যারা অংশ নেন, তাদের বেশির ভাগই  হচ্ছেন এক্সপেয়ার জিনিষ । । অথাৎ মেয়াদ উত্তীর্ণ । মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে । এখন কিছু করার নাই । তাই জাতিকে , সরকারকে উপদেশ দিয়ে টাইম পাস করছেন ।( এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত । )

যা বলছিলাম, পিয়াস করিম সর্ম্পকে একদল বলছে, তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে রাজাকার ছিল । তার বাবাও শান্তি কমিটির সদস্য বা প্রধান ছিলেন । অন্যদল তাকে দেশ প্রেমিকের মর্যাদা দিতে উঠে পরে লেগেছে । কর্মসূচি পাল্টা কর্মসূচি এবং মিডিয়াতে আলোচনার ঝড় বইছে । ফলে জীবিত পিয়াস করিমের চেয়ে মৃত পিয়াস করিম অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠছেন । অনেক বেশি পরিচিতি লাভ করেছেন ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি, হাইড এন্ড সিক খেলা এবং সর্বশেষ নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও কর্মসূচী আমাকে পিয়াস করিম কে চিনতে বাধ্য করেছে ।  এখন শুধু আমি না, অনেকেই পিয়াস করিমকে জানি এবং  তাকে বেশ ভাল করে চিনি ।
শাহরিয়ার কবির ও নাকি রাজাকার ছিলেন তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে ও অনেকে রাজাকার ছিলেন । এ কথাও অনেকে অনেক সময় জোরাল ভাবে বলেছে । কাদের সিদ্দিকিও সে দলে আছেন । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শাহরিয়ার কবির মারা যাবার পর তার মৃতদেহ কি শহীদ মিনারে রাখা হবে ? নাকি হবে না ? আমরা কিন্তু শাহরিয়ার কবিরকে রাজাকারদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার দেখেছি ।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও এদেশে মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করে, চা বিক্রি করে , পেপার বিক্রি করে জীবন চালাতে হয় । আবার চিহ্নিত রাজাকারেরা গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায় । সংসদে বসে । দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই বলে হুঙ্কার ছাড়ে । আবার সেই সব রাজাকারদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও শুনা যায় নানান আঁতাতের কথা । তা না হলে, সাইদীর ফাঁসি হয় না কেন ? এ প্রশ্ন আমার নয় ১০ কোটি মানুষের । ( বাকিরা বিএনপি কিংবা জামাত সমর্থক ) ।
সব হচ্ছে ক্ষমতার খেলা । ক্ষমতার কাছে, দেশ প্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এসব আসলে কিছু না । সব হচ্ছে ক্ষমতার জন্য কামড়া কামড়ি । বোদাই জনগনকে কিছু একটা দিয়ে বুঝ দিয়ে রাখা আর কি । যতদিন না এদেশের রাজনীতি থেকে সুবিধাবাদী ক্ষমতা ভোগী, লোভীদের ঝাড়ু মেরে দূর করা না যাবে তোতদিন এসব চলতেই থাকবে ।