ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

দীর্ঘ ৯ মাস ,৩০ লাখ শহীদ আর 2 লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময় অর্জিত হয়েছে যে স্বাধীনতা, তা ক্রমশ মলিন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত একটু একটু করে বিকৃত করা হচ্ছে স্বাধীনতার ইতিহাস ।

স্বাধীনতার পরবর্তীতে প্রতিটি সরকারের আমলেই ইতিহাস পরিবর্তন, পরিবর্ধনের ঘটনা ঘটেছে । অতি রঞ্জিত তথ্য অন্তুভুক্ত করতে গিয়ে ইতিহাস সংরক্ষণের তোয়াক্কা করেনি কেউ । নেতা, নেত্রীকে খুশি করার জন্য ইচ্ছে মতো ভুল তথ্য যেমন জুরে দেয়া হয়েছে ঠিক তেমনি সঠিক তথ্যও ফেলে দেওয়া হয়েছে এ ধারা এখনও চলছে ।

সব চাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে , স্বাধীনতার পরবর্তীতে যতোগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের প্রধানরা স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যতোখানি না বিকৃত করেছেন তার চাইতে ঢের বেশি করছে- সরকারের সুবিধা ভোগী চেলা-চামুন্ডেরা । এরা নিজ স্বার্থ সিদ্ধি করার প্রয়াসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে একটুও কুণ্ঠা বোধ করেনি এখনও করে না ।

মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পরেও যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি । ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও অবিকৃত ভাবে লিপিবদ্ধ করে রাখার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি নাম সর্বস্ব মন্ত্রণালয় থাকলেও সেটি এই দীর্ঘ ৪৫ বছরে কাজের কাজ কিছুই করেনি । প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর কিংবা ২৬ শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কিছু ভিডিও আর বঙ্গবন্ধুর ৭ইমাচের ভাষণ সম্মিলিত একটি, দুটি সিডি বাজারে ছেড়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে ।

যে জাতি নিজের স্বাধীনতার ইতিহাস তার নতুন প্রজন্মের জন্য সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে না সে জাতি নতুন প্রজন্মের কাছে কিছু আশাও করতে পারে না ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিক ভাবে তুলে ধরার পরিবর্তে এদেশের রাজনীতিবিদেরা মুক্তিযুদ্ধকে ক্ষমতায় থাকার এবং ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে । ঠিক তেমনি; সাধারণ মানুষও কিন্তু অনেকাংশে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার জন্য দায়ী । অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যে কেউ, যাকে ইচ্ছে তাকে রাজাকার বলে গালি দিতে পারে । মতের মিল না হলে, স্বার্থে আঘাত লাগলেই এখন মানুষ রাজাকার বলে গালি দিতে আর কুণ্ঠা বোধ করে না ।

দিনে দিনে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে । নতুন প্রজন্মরা বঞ্চিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে । শরীর আর ক্ষমতার বলে, শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ হয়তো দখল করে রাখা যায় , কিন্তু সঠিক ইতিহাসের অভাবে সে দখল ক্রমশ নাজুক আর দুর্বল হয় পরে । ক্ষণিকের আবেগ , ক্ষণিকের স্বার্থের খেলার কাছে প্রতিদিন বলি হচ্ছে ৩০ লাখ শহীদের ভালবাসা, ত্যাগ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব ব্যক্তি ভারতের আতিথেয়তায় পরম নি-চিন্তে সময় কাটিয়েছেন । তারাই আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় । আর যারা সন্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন, দীর্ঘ ৯ মাস বনে, জঙ্গলে যুদ্ধ করে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছেন তাদের ঠাই হয়েছে আস্তা-কুড়ে । সুতরাং আরাম আয়েশা থাকা মানুষগুলো তো আর তাদের আরাম আয়েশ ত্যাগ করতে পারেন না । তাই তারাও নিজেদের আরাম আয়েশ আরো পাকা পোক্ত করার জন্য তোষামোদি, জী, হুজুর , জী আপা , জী ম্যাডাম ,জী স্যার করে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন বা বাড়িয়ে চলেছেন ।

দলীয় সমর্থন না থাকলে চাকরী পাওয়া যায় না, ব্যবসা করা যায় না । ব্যবসা করা গেলেও দলীয় সমর্থন না থাকলে কোন সুবিধা পাওয়া যায় না । চাঁদা দিতে হয় । নেতাকে ডোনেশন দিতে হয় । থানায় টাকা দিতে হয় । তাই, কে যায় এতো ঝামেলায় ? দেশ , স্বাধীনতা চুলোয় যাক আগে নিজ স্বার্থ হাসিল করে নেই । এই মন্ত্রতে চলছে এখন দেশ । তাই স্বাধীনতার ইতিহাস যদি আগামী ৪০ বছরে একেবারে মুছে যায় তা হলে বলার কিছু থাকবে না । আমি অনুমান করছি, আগামী ৪০ বছর পর স্বাধীনতার ইতিহাস বলে কিছু আর থাকবে না ।