ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

প্রতিদিন নিত্য-নতুন অভিনব প্রতারনার কাহিনী আমরা শুনে থাকি । কিন্তু কিছু করতে পারিনা । আইন রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গেলেও অনেক সময় তার কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না । কেননা, প্রতারক ততোক্ষনে সটকে পরে । কখনো সখনো প্রতারিত ব্যক্তিও উটকো ঝামেলা মনে করে আর আইন রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যেতে চায় না । সারাটা জীবন হায় উতাস করে কাটিয়ে দেয় । আল্লাহ্ কাছে বিচার চেয়ে স্বান্তনা খুঁজে ।

আজ একটি অভিনব অথচ পুরাতন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে শতশত মানুষের সামনে ঘটে চলা একটি প্রতারনার খবর শুনাবো । শুনে যদি সর্তক হয়ে গিয়ে কারো কাজে আসে তবেই লেখাটা স্বার্থক হবে ।
মতিঝিল-পল্টন এলাকার আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কয়েক ডজন ব্যাংক,বীমা অফিস । বাংলাদেশ বিমানের অফিসও এখানে অবস্থিত । প্রতিটি ব্যাংকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বেঁচা কেনা হয়ে থাকে । কেননা যারা বিভিন্ন কাজে বিদেশে যায় তাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয় ।

জীবন বীমা ভবনের সামনে জনতা ব্যাংকে ঢুকতে গেলেই আপনি টের পাবেন আশ পাশ থেকে আপনাকে আওয়াজ দেবে , স্যার, ডলার, রিয়াল, পাউন্ড লাগবে ? যদি আপনি ব্যাংকের কাজে যেয়ে থাকেন তাহলে তো কোন কথা নেই । কিন্তু যদি সত্যিই আপনার ডলার,পাউন্ড,রিয়াল কেনা বা বেচার দরকার হয়ে থাকে আর তাদের কথা শুনে দাঁড়ান তাহলেও মনে রাখবেন আপনি ফেসে যেতে পারেন । ডালার বা পাউন্ডের প্রকৃত বাজার মূল্য যা আছে তারা আপনাকে তার চাইতে অনেক কম মূল্য বলবে । স্বাভাবিক ভাবেই আপনি রাজি হবেন না । ততোক্ষনে আপনাকে তিন চারজনের একটা দল ঘিরে ধরবে। তারা আরেকটা দাম বলার পরও আপনি রাজি না হলে , শেষে ওরা আপনাকে বলবে, আপনি বলেন কতো হলে বেচবেন ? আপনি একটু চালাক হলে ব্যাংকে যা দাম আছে তার চাইতে একটা বাড়িয়ে বলবেন । আর সঙ্গে সঙ্গে ওরা রাজি হয়ে যাবে । হাতে থাকা পাচশত টাকার নোট গুনতে শুরু করবে । কিছু টাকা আপনার হাতে দিয়ে আবার ও টাকা গুনতে থাকবে । এভাবে কয়েক ধাপে আপনার হাতে টাকা দেবে । এর মধ্যে দেখবেন একজন হাত বাড়িয়ে আপনি যখন টাকা গুনে নিতে থাকবেন তখন বারবার আপনার হাতে থাকা টাকাগুলোতে থাবা দিয়ে বলবে, স্যার পঞ্চাশটা টাকা দিয়া যান । ওর উদ্দেশ্য হচ্ছে ,আপনার মনোযোগ নস্ঠ করা । অথাৎ আপনি যেন টাকাটা ঠিক মতো গুনে নিতে না পারেন । এভাবে কয়েক বার চেস্টায় যখন আপনি টাকা গুনে নেবের । বাসায় বা অফিসে গিয়ে দেখবেন এক, দু,হাজার টাকা কম । এবং আরো উপড়ি হিসাবে তার মধ্যে একটা বা দ’টো পাঁচশত টাকার নোট জাল ।

কয়েক দিন যাবত জাল নোটের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ আর RAB এর অভিযান পরিচালনার হবার ফলে জাল নোটের কাজটা তারা আপাততো বন্ধ রেখেছে । কিন্তু টাকা কম দেবার কাজটা পুরো দমে চালিয়ে যাচ্ছে ।
এরা সবাই অবৈধ মুদ্রার লেনদেনকারী এদের সঙ্গে জড়িত আছে অনেক বড় বড় হতাকতা । এবং ব্যাংকগুলোর ইউনিয়নের অনেক নেতা । পুলিশও এদের কাছ থেকে মাসহারা পেয়ে তাকে । তাই কারো কাছে গিয়েই আপনি আর সুবিচার পাবেন না। আর একবার টাকা নিয়ে চলে আসার পর আপনি দাবীও করতে পারবেন না যে আপনাকে কম টাকা বা নকল টাকা দেওয়া হয়েছিল । এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে উল্টো তারা পুলিশ দিয়ে আপনাকে জাল নোটের কারবারি হিসাবে হেনস্তা করতে পারে ।

অতএব সাবধান; মুদ্রা কেনা বেচার দারকার হলে ব্যাংকে যান কিংবা ব্যাংকের ভেতরে অনেকে মুদ্রা কেনা-বেঁচা করে তাদের কাছে যান । মূল্য ঠিক হলে তাদের দিয়েই আপনার এ্যকাউন্টে টাকাটা জমা করিয়ে নিন । তাহলে প্রতারনার হাত থেকে বেঁচে যাবেন । আর একটা কথা আপনার কাছে থাকা মুদ্রাগুলো কোন অবস্থাতেই ওদের হাতে দেবেন না । তা হলেও ফেঁসে যেতে পারেন । চোখের পলকে ওরা আসল নোট বদলে ফেলে জাল নোট আপনার কাছে দিয়ে দেবে ।