ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

কয়েক মাস পূর্বে মালয়শিয়া গিয়েছিলাম ব্যবসায়িক কাজে । মালয়শিয়াতে আমার বেশ কিছু বাঙালী বন্ধু বান্ধর রয়েছে। তারা এদেশের পাঠ চুকিয়ে মালশিয়াতেই সেটেল্ট । সুবাং জায়ায় এক বিকাল বেলা কয়েকজন আঙালী, দু’জন স্থানীয় আর একজন চাইনিজ মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম । বক্তা বলতে আমরা বাঙালী ক’জনই আলোচনা করছিলাম । মাঝে মাঝে আমার বাঙালী বন্ধুরা তার মালয়শীয়ান ও চাইনিজ বন্ধুদের বুঝিয়ে দিচ্ছিল আমাদের আলোচনার বিষয় বন্তু ।

জাতিগত ভাবে হোক বা অন্য কোন কারণেই হোক চাইনিজ এবং মালয়শিয়ানদের মধ্যে অনেক মিল । তা হলো; ওরা কথা খুব কম বলে । আমাদের আলোচনার বিষয় বন্তু না বুঝলে ওরা বিয়ার খাতে খেতে আমাদের আলোচনা হাসি হাসি মুখ করে শুনে যাচ্ছিল । এটা সেটা আলোচনার এক ফাঁকে নোবেল বিজয়ী ইউনুসের কথা উঠে এলো । তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কতোটা করেছেন, গ্রামীন ব্যাংকের পক্ষে বিপক্ষে এটা সেটা আলোচনার এক ফাঁকে চাইনিজ বন্ধু বলে উঠল, তোমাদের শেয়ার বাজারের কি অবস্থা ? শুনেছি সেটা নাকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ? ভিন দেশি একজন মানুষের মুখে হঠাৎ এরকম প্রশ্নে শুনে আমি একটু থমকে গেলাম । সম্পূর্ন অপ্রাসঙ্গিক ভাবে শেয়ার বাজারের কথা উঠে আসায় আমরা সবাই যেন একটু থতমত খেয়ে গেলাম । ভিন দেশি একজন মানুষের মুখে আমাদের শেয়ার বাজারের কথা শুনবো আশা করিনি । এর পরে আমাদের আলোচনা আর জমেনি । ঐ চাইনিজ বন্ধু যেন , জোকের মুখে নুন দেয়ার মতো করে আমাদের সবার মুখে শেয়ার বাজার চেপে দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিল ।

আমার বাঙালী বন্ধু পরে আমাকে বলেছে – ঐ চাইনিজ বন্ধুর মা’র নাকি বাংলাদেশে ব্যবসা রয়েছে । তাই বাংলাদেশের অনেক কিছুই তার জানা ।
পরে একা একা বিষয়টা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি , আসলেইও তো আমাদের শেয়ার বাজারে হচ্ছে কি ? কাদের পোলেসি মেকিং এর জন্য দিনকে দিন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নি:স্ব থেকে নি:স্বতর হয়ে যাচ্ছে । সরকারের শত চেস্টা থাকার পরেও শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না । কিন্তু কেন ?

আমেরিকা,কানাডা,সিঙ্গাপুর তাদের শেয়ার বাজারেও তো ধস নেমে ছিল । তারা তো রাতা রাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে । তবে আমরা কেন পারছি না । অনেক ভেবে শুনে একজনের একটি উক্তি মনে এসেছে , সেটি হলো – শেয়ালের কাছে মুগি বর্গা দেওয়া হয়েছে । শেয়াল যখন মুরগী ফেরত দেবে তখন পশম ছারা আর কিছুই থাকবেনা ।

গতকাল প্রথম আলো পত্রিকা অফিসে বার্তা সম্পাদক শেয়ার বাজার নিয়ে দু’টো জোকস্ শুনালেন । সেটিও শেয়ালের কাছে মুরর্গী র্বগা রাখার মতো ।

অনেক ভেবে চিন্তে শেয়ার বাজারের রক্ষা করার ৮ টি তরিকা বের করেছি ………

১. মিচুয়ালফান্ডগুলো থেকে সাধারণ শেয়ার হোল্ডারা কোন রকম মুনোফা বা পায়দা পাচ্ছে না । মিচুয়ালফান্ডগুলোর কর্তা ব্যক্তিরা এগুলো থেকে বিভিন্ন ভাবে ফায়দা লুটছে । এটা বন্ধ করা করা উচিত । মিচুয়ালফান্ডগুলোকে চাঙা করতে হবে । মিচুয়ালফান্ডগুলোর মূল্য বৃদ্ধিপেলে বাজারে তেজিভাব অনেকটাই ফিরে আসবে ।

২. প্লেলেসমেন্টের নামে কোটিকোটি টাকার প্রাইমারি শেয়ার চলে গেছে সেনাবাহীনি, সরকারী আমলা ও ব্যাংক কর্মকতাদের হাতে । লটারির মাধ্যমে সাধারন আইপিও একাউন্ট হোল্ডারা যেনো শেয়ার পেতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে ।

৩. সরকারী রুল অনুযায়ী এসব সরকারী কর্মকতাদের হাত থেকে শেয়ারগুলো ফিরিয়ে এনে লটারির মাধ্যমে সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদের হাতে দিয়ে দিতে হবে ।

৪.সাধারণ শেয়ার হোল্ডার যারা ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে শেয়ার কিনে ব্যবসা করে তাদের ঋন পরিশোধের জন্য কোন প্রকার চাপ দেওয়া যাবেনা এবং শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য করা যাবে না । তবে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করার জন্য নিদিস্ট একটি সময় বেঁধে দিতে হবে যেমন এক বছর , কিংবা দু’বছর ।

৫.শেয়ার বাজারে কেলেন্কারীর সঙ্গে জড়িতদের অতিশীগ্রই গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগোরায় দাঁড় করাতে হবে ।

৬.যে সব শেয়ার হোল্ডারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে অগ্রনী ভূমিকায় ব্যাংক ঋন দিতে হবে ।

৭.স্টকএকচ্যেঞ্জগুলোতে মিডিয়া প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে ।

৮. সালমান এফ রহমান বির্তকিত ব্যক্তি হওয়ায় তাকে ঢাকা স্টকএকচ্যেঞ্জ থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ কাউকে নিয়োগ দিতে হবে ।

আশা করি উল্লেক্ষিত পদক্ষেপগুলো নিলে শেয়ারবাজার অনেকটাই গতির ধারায় ফিরে আসবে । এছাড়া শতশত কোটি টাকার ফান্ড আর ব্যাংকগুলোর শেয়ার কেনা উদ্দ্যেগ নিলেও তা কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না । মোট কথা হচ্ছে শেয়ার হোল্ডাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে কোন পদক্ষেপই কাছে আসবে না ।