ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

প্রথমেই শামিম ওসমানকে ধন্যবাদ দিচ্ছি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবার জন্য, আইভীকে শুভেচ্ছা জানানোসহ পুরো নির্বাচনে তার সহনশীল আচড়নের জন্য । এক কথায় আমি মুগ্ধ । নাসিক নির্বাচনে আমরা অন্য এক শামিম ওসমানকে দেখলাম । ধন্যবাদ শামিম ওসমান ।

এবার আসি আসল কথায় – আইভী রহমানের বিজয় নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন । এরই মধ্যে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তে আইভীর বিজয়কে ৪০ বছরের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন । স্বয়ং আইভী রহমানও তৃপ্তির ঠেকুর তুলছেন । তা তিনি তুলতেই পারেন, কেননা এমন বিজয় ক’জনার ভাগ্যে জুটে ? আমরা আম-জনতা নাসিক নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির চুড়ান্ত দেখলাম । টান টান উত্তেজনার একটা টেস্ট ম্যাচ দেখে দারুণ লাগল ।

স্বাধীনতার পরে এদেশে কখনও সুস্থ্য রাজনৈতিক চর্চা হয়নি । জনগন কখনও এ দলে, কখনও ও দলে ভোট দিয়ে পরে নিজেদের কপাল চাপরিয়েছে । আইভীর এ বিজয়কে ছোট না করেই বলছি , তার এ বিজয়ের পেছনে যে, জিনিষটি কাজ করেছে তা হলো আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতা । এখানে শামিম ওসমান অতীত মূখ্য ছিলেন না । দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যদি শেখ হাসিনা নিজেও যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতেন তা হলেও তাকে বিপুল ভোটে ফেল করতে হতো । সরকারের জনপ্রিয়তা একেবারে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে । আর বাকি দু’বছরে এর থেকে বের হয়ে আসতে পারবে বলে মনে হয় না ।

বানিজ্য মন্ত্রী ও তার ভাইয়ের ব্যবসায়িক বন্ধুদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটা, দ্রব্য মূল্যে নিয়ন্ত্রিন হীন উর্ধ্ব মূল্য,যোগাযোগ মন্ত্রীর দূনীতি, অর্থমন্ত্রীর উর্চ্চ বিলাসি বার্জেট , আর সুবিধা বাদিদের পাল্লায় পরে পুরো দেশের অবস্থা আজ নাজুক । ভাল আছে শুধু এদেশের ব্যবসায়িরা তারা স্বাধীনতার পরে এতো ভাল আর কোন দিনও ছিল না । কেননা শুধু মাত্র দু’একজনকে খুশি রেখে যেমন ইচ্ছে তেমন বানিজ্য করতে পারছে । তাদের শাসন বা শাস্তি দেবার কেউ নেই । জনগন এ অবস্হা থেকে মুক্তি চাচ্ছে । কিন্তু তারা নিরুপায় তাদের পাশে দাঁড়াবার মতো কেউ নেই । যদি নাসিক নির্বাচনে তৈমুর প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করতেন তা হলে এ রকম ফলাফল কখনই হতো না । তৈমুরই বিজয়ী হতেন আইভী নয় । কেননা আওয়ামীলীগ সরকারের সকল ব্যর্থতার জবাব দেবার জন্য নায়ায়নগঞ্জবাসী ফুসছিলেন। যেহেতু আইভীও আওয়ামীলীগের সেহেতু তারা আইভীকে বিজয়ী করতেন না । কিন্তু আইভী বিদ্রোহী প্রার্থি হওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন আইভী হয়তো আর আওয়ামী লীগ করবেন না । তাই নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মী আইভীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন । ঐ সব নেতাকর্মী তাদের নৈতিকতার জন্য তৈমুরকে সমর্থন করতে পারছিলেন না । তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই তারা আইভীকে বেছে নিয়েছিলেন । আইভী আওয়ামী লীগ ত্যাগ না করায় এখন তারা , আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করছেন ।

যা বলছিলাম, মাঝ রাত্রিরে খালেদা জিয়ার এক রাজনৈতিক পদক্ষেপে সব হিসাব নিকেষ ওলট পালট হয়ে যায় । তৈমুর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে সাধারণ মানুষের কাছে আর কোন অল্টার নেটিভ ছিল না । তাই আইভীকে ভোট দিয়েই তারা মনের জ্বালা মিটিয়েছে ।

আমি যে, মিথ্যে বলছি না , এর প্রমান পাবেন আগামী সংসদ নির্বাচনে – দেখবেন শুধু তৈমুর কেন আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে একটা কলা গাছ ও নির্বাচনে দাঁড়ালে পাশ করে সংসদে যাবে ।

পরিশেষে বলতে চাই , আইভী আপা শেখ হাসিনার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন । শেখ হাসিনারও বিপুল সংখ্যক আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিলেন – কিন্তু জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি । কিছু অযোগ্য মন্ত্রী আর চাটুকার ব্যবসায়িদের,আর চাদা বাজ ছাত্রলীগের কিছু কর্মীর জন্য । আপনিও যেন আবু সুফিয়ানদের মতো ঠিকাদারদের পাল্লায় পরে চিরতরে দুণীর্তির চোরাবালিতে তলিয়ে না যান । সেদিকটা খেয়াল রাখবেন ।