ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

বর্তমান যুগ হচ্ছে পণ্য এবং বিজ্ঞাপনের যুগ । গৃহস্থালি থেকে শুরু করে অফিস আদালতের জন্য উৎপাদিত প্রতিটি পণ্যের বাজার দখলের জন্য যুদ্ধ চলে ঝকঝকে তকতকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে । এসব বিজ্ঞাপনে নামি দামি অভিনয় শিল্পীদের পাশাপাশি অনেক ছেলে-মেয়েরা তাদের উজ্জল ভবিষ্যতের আশায় পিতা-মাতা পরিবার পরিজন এর মতামতকে উপেক্ষা করে ঝাপিয়ে পরে পঙ্গপালের মতো ।

চোখ ভরা স্বপ্ন আর বুক ভরা আশা নিয়ে অনেক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা আসে রাজধানী ঢাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা বিজ্ঞাপন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে । এসব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের মুখভরা বুলি আর মিথ্যা ছলাকলায় ভুলে গিয়ে নিজের অজান্তেই অনেকে অন্ধকারের দিকে পা বাড়ায় আর যখন বুঝতে পারে তখন আর ফিরে আসার পথ থাকেনা । হারিয়ে যায় অন্ধকার এক গহব্বরে । যেখানে পিতা মাতা, ভাই বোন, আত্মীয়-স্বজন বলে কিছু থাকে না। থাকে শুধু আলো আঁধারির খেলা । দেশি-বিদেশি মদ,ইয়াবা,হেরোইন এর মতো মাদকে আসক্ত হয়ে, হয় মৃত্যুকে বেছে নেয়, নয়তো কারো হাতে জীবন দিয়ে জীবনের সবচাইতে বড় ভুলের পায়শ্চিত্ত করে যায়।

অনেক পরিবারের পিতা মাতা আছেন যারা নিজেদের ছেলেমেয়েকে মডেল হবার জন্য প্রথম প্রথম উৎসাহ দেন । নিজের ফুলের মতো ছেলে-মেয়েকে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে দেখলে কার না ভাল লাগে । সহজে পরিচিতি লাভের এ সুয়োগ কতোজনেরই বা ভাগ্যে জুটে ? কিন্তু বিষাক্ত সাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর কিছু পেশাদার বিজ্ঞাপন নির্মাতা আসলে দালালের মতো ফাঁদ পেতে বসে থাকে । তারা কোমলমতি মেয়েদেরকে দু’একটা ছোট বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের সুযোগ করে দেবার পর তাদের বুঝায়, বর্তমান যুগ হচ্ছে গিভ এন্ড টেকের । কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। তারা এসব ছেলেমেয়েদেরকে ধীরে ধীরে উশৃঙ্খল জীবনের দিকে টেনে নিয়ে পরিবার থেকে সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলে । কোন পরিবারই সামাজিক মান-সন্মানের ভয়ে নিজ ছেলে-মেয়েদের এই উশৃঙ্খল চাল চলন মেনে নিতে না পারলেও কিছু করার থাকে না ।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার বছর খানিকের মধ্যেই তাদের কাছে সব পরিস্কার হতে থাকে । কিন্তু ততক্ষণে আর কিচ্ছু করার থাকেনা । বিজ্ঞাপন শিল্পী হতে আসা অনেকের নগ্ন ভিডিও চলে যায় ইন্টারনেটে । ধীরে ধীরে তারা পরিনত হয়ে সমাজের অনেক উঁচুতে থাকা কিছু নরপশুর মনোরঞ্জনের পণ্যতে । অনেকের

তিন্নির কথা কি আপনারা ভুলে গেছেন ? যার লাশ পাওয়া গিয়েছিল বুড়িগঙ্গায় । কলাবাগানে সে ছিল এক সাংসদের রক্ষিতা হয়ে । স্ত্রীর অধিকার চাওয়ায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলে দেওয়া হয় বুড়িগঙ্গায় । পরে বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে দাফন করা হয় জুরাইন কবরস্তানে । তিন্নির বাবা আজও মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আদালদের চৌকাঠে মাথা ঠুকছেন । অন্য দিকে সেই সাংসদ আছেন বহাল তবিয়তে। টাকার পর টাকা ঢেলে তিন্নি হত্যাটি মাটি চাপা দেয়া হয়েছে ।

দ্বিতীয় ঘটনাটি হচ্ছে গত ৩রা নভেম্বরের মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের সি ব্লকের ১৬/৬ নম্বর ভবনের ছাদে পাওয়া যায় এক নবাগত মডেল কন্যা অদৃতার লাশ । তাকেও মিথ্যা প্রলোভনে ভুলিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় । অদৃতারও ছিল ইয়াবা আসক্ত । ঘর থেকে বের হয়ে এসেছিল মডেল হিসাবে নিজের জীবন গড়বে বলে কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস চলে যেতে হলো পৃথিবী ছেড়ে । আসলে ভাগ্যকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই,পুরোটাই সেই ফাঁদ পেতে বসে থাকা জানোয়ারগুলোর দোষ । আর বাকিটা অদৃতার । এখনও শতশত অদৃতা হয়তো মৃত্যুর প্রহর গুনছে নয়তো নিয়তির কাছে নিজেকে সপে দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে । এরকম অসংখ্য ঘটনার কটাইবা প্রকাশ পায় । আর বিচারের বাণী তো চিরকাল নীরবে কাঁদে ।
তাই; নিজ সন্তান সর্ম্পকে সচেতন থাকুন তারা কোথায় যায়,কি করে , কার সঙ্গে মেশে । মোট কথা হচ্ছে আপনার সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আপনার জানা থাকে । যে কোন পরিস্থিতিতে পুলিশের সাহায্য নিতে ভুলবেন না । আপনার সন্তানের নিরাপত্তা বিধান করা আপনার সবচাইতে বড় দ্বায়িত্ব ।

পাদটিকা : ছেলে মেয়ে যেহেতু আপনার, তাই তাদের ভবিষ্যত গড়ার দ্বায়িত্ব এবং সেই চিন্তা ভাবনাও আপনার । ছেলে মেয়ের চাল চলনের দিকে খেয়াল রাখুন । কোন পিতা-মাতার সন্তানের মাথায় মডেল হবার ভূত চাপলে- এই ভাই, ঐ ভাই এর সঙ্গে দেখা করতে যেতে চাইলে সঙ্গে যান । তাদের কোথাও একা পাঠাবেন না । মনে রাখবেন, একা হয়েছে তো সেও মরবে আর আপনিও মরবেন ।

আপনার উপস্থিতি যদি আপনার কণ্যা সহজ ভাবে না নেয় তাহলে – উদাহরণস্বরূপ ভারতেই ঐশ্বরিয়া বচ্চনের কথা বলতে পারেন । অভিষেকের সঙ্গে বিয়া হবার পূর্ব পর্যন্ত ঐশ্বরিয়া রায়ের প্রতিটি সূট্যিংএ তার মা আঠার মতো আটকে ছিলেন । আর তাইতো চলচিত্র জগতের হালচাল জেনেও অমিতাভ তার ছেলের জন্য ঐশ্বরিয়াকে বেছে নিতে অমত করেননি ।