ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

মতিউর রহমান, হ্যা প্রথম আলোর সম্পাদক যিনি সাংবাদিক মহলে মতি ভাই নামে বহুল পরিচিত । প্রথম আলো নি:সন্দেহে বাংলাদেশের একটি অত্যান্ত জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদপত্র । এতোটা জনপ্রিয়তা সংগামের পর আর কোন সংবাদ পত্র অর্জন করতে পারেনি । করলেও তা এতো দীঘ সময় ধরে রাখতে পারেনি । মতিউর রহমান দেখিয়েছেন কি করে একটি দৈনিক সংবাদপত্রকে জনপ্রিয় করতে হয় । এবং শুধু জনপ্রিয় করেই তিনি তার কর্ম শেষ করেননি এই জনপ্রিয়তা ধরেও রেখেছেন প্রায় এক যুগ ধরে । যা নি:সন্দেহে প্রশংসা পাবার যোগ্য । আমার এই লেখার বিষয় বস্তু মতিউর রহমানের প্রশংসা করার জন্য নয় । তার বিরুদ্ধে যে সব মিথ্যা,অপ্রীতিকর নোংড়া কথাবার্তা প্রায়শই দু’টো সংবাদপত্রে প্রচার করা হয় তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ।

ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি- সংবাদ পত্র হলো সমাজের দর্পণ স্বরুপ । আয়নার যেমন নিজের চেহারা দেখা যায় ঠিক তেমনি একটি সংবাদ পত্রের মাধ্যমেও সমাজের নানান অসঙ্গতির চিত্র ফুটে উঠে । কিন্তু সে সংবাদপত্রকে কেন্দ্র করে যখন একটি বুজুয়া শ্রেনী আর কিছু বিক্রি হয়ে যাওয়া হলুদ সাংবাদিকের কলমের আঘাতে অন্য কোন সাংবাদিকের নামে মিথ্যা, কুৎসা নোংড়ামির আশ্রয় নিয়ে যাচ্ছে তাই লিখে চলে তখন সমাজের সাধারন মানুষের বিবেক নড়ে উঠে । মনে হয় পুরো সমাজটাই বুঝি নোংড়ামিতে ভরা গেছে । এরপর সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের উপড় সাধারণ পাঠকদের আর কোন আস্তা থাকে না ।

দৈনিকগুলোতে মতিউর রহমানকে ২১শে আগস্টের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে প্রায়ই সংবাদ প্রচার করা হয় । শুধু তাই নয় টাকা দিয়ে কিছু লোক যোগার করে মানব বন্ধন পর্যন্ত করানো হয় । কখনও কখনও মতিউর রহমানকে কাফের,ফাসেক, বন্যা দূগর্তের জন্য গঠিত ত্রান তহবিল লুন্ঠনকারী বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেয়ালের পর দেয়াল পোস্টারে ছেয়ে ফেলে । উদ্দেশ্য একটাই মতিউর রহমানকে ভয় দেখিয়ে সত্য প্রচার থেকে বিরত রাখা ।

২১শে আগস্টের সঙ্গে যে মতিউর রহমানের কোন সম্পিকততা নেই তা এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার । তার নামে মিথ্যা প্রচার, মানব বন্দন করার উদ্দেশ্য ছিল প্রধান মন্ত্রীকে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা। মতিউর রহমান ইচ্ছে করলেই আদালতে মানহানির মামলা করতে পারতেন বা এখন ও পারেন । কিন্তু তিনি তা করেন নি , হয়তো ভেবেছেন -কুকুরের কাজ কুকুর করেছে ………..।

আমি মাঝে মাঝে সেইসব সংবাদিকদের কথা ভেবে অবাক হই যার এক সময় প্রথম আলোতে ছিলেন যাদের অনেকেই মতিউর রহমানের কাছে অনেক কিছু শিখেছেন । অনেকের কাছেই মতি ভাই ছিলেন শিক্ষাগুরুর ভূমিকায় কিন্তু তারাই কি করে কিছু অসৎ মানুষের কাছে নিজেদের বিক্রি করে দিলেন ?

বর্তমানে সরকারের সবচাইতে বড় শুভাকাঙ্খি যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো,তা – প্রথম আলো । কেননা সরকারের এমপি,মন্ত্রীদের যে কোন অপকর্মের কথাই ছেপে প্রথম আলো সরকারকে তার এমপি,মন্ত্রীদের ভুল সুধরাবার সুযোগ করে দিয়েছে । কিন্তু ঐসব এমপি মন্ত্রীরা জাতীয় সংসদেও প্রথম আলোকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে কিন্তু প্রথম আলো সত্য প্রচারে পিছ পা হয়নি । আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে – লিমনকে নিয়ে প্রথম আলো সে সাহসি সংবাদ প্রচার করেছিল তাতে প্রথম আলোকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারিনি । যেখানে সামান্য দু-এক লাখ টাকায় একটি পত্রিকার মালিক বা সম্পাদক বিক্রি হয়ে যায়, সেখানে প্রথম আলো ত শানিত করেছে তার লেখার গতি । কোন হুন্কারই তার পথকে রোধ করতে পারেনি । এখানে আমরা দেখেছি ঐ বুজুয়া শ্রেনী RABকেও মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে চেস্টা করেছে । মতিউর রহমানকে RAB এর প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়ে প্রচার করেছে একের পর এক মিথ্যা সংবাদ । কিন্তু মতিউর রহমান আর তার প্রথম আলো তাতেও পিছ পা হয়নি , তাই বুঝি এখনও বেঁচে আছে লিমন ।

দুই নেত্রিকে নিয়ে মতিউর লিকেও মতিউর রহমান অনেকে চক্ষুশূল হয়েছিলেন । ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তিনি যা লিখে ছিলেন তা আজ পুরো জাতি হারে হারে টের পাচ্ছে ।
কেউই আইনের উধ্বে নয় , মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে তার অপকর্মের যদি কোন প্রমান থাকে তাহলে তা আদালতে পেশ করুণ । আমরাও দেখতে চাই ঐ বুজুয়া শ্রেণ বুকে কতোটা সাহস রাখে । মতিউর রহমানতো আর সরকারের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে পালিয়ে যান না । তিনি দেশেই অবস্থান করে । তিনি মতিউর রহমান বলে , এতো মিথ্য প্রচারের পরেও টিকে আছেন , অন্য কেউ হলো কি হতো তা আল্লাহই ভাল জানেন ।

পাদটিকা : মতিউর রহমান সর্ম্পকে এতো কথা লিখতে দেখে অনেকেই হয়তো ভাবছেন আমি মতিউর রহমানেরই লোক । কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে মতিউর রহমানের সঙ্গে আমার কোন পরিচয় নেই । তাকে আমি কাছ থেকে কখনও দেখিনি । শুধু মাত্র বিবেকের তারনায় কথাগুলো লিখলাম । এসব লেখার কথা ছিল সেই সব সাংবাদিকদের যারা বর্তমানে মতিউর রহমানের আশে পাশে আছেন । তারা বলবেন – ঐ সব প্রচারকে তার গুরুত্ব দেন না । কিন্তু বিবেক বলে তো কিছু একটা আছে, নাকি ? হয়তো তাদের মধ্যেও অনেকে অপেক্ষায় আছেন মোটা বেতনে কখন তাদের ডাক পরে তার অপেক্ষায় ।
মতিউর রহমান আমার কাছের কোন মানুষ নন । কিন্তু অনেক প্রবীন সংবাদিকের কাছে তার সর্ম্পকে অনেক ভাল মন্দ শুনেছি । মানুষ মাত্রই ভুলো শুদ্ধতে গড়া বিধাতার এক অপূর্ব সৃস্টি । তাই প্রার্থনা দিয়ে শেষ করছি –

হে প্রভু তুমি ক্ষমা করো ।
আলোয় আলোয় ভরিয়ে দাও
মানুষের হদয় ।
মানব যখন করেছো তখন
মানবের মতোই মৃত্য দাও
পশুর মতো নয় ।।