ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই । সেই চরম দিনগুলোতে পশ্চিমা শক্তিকে উপেক্ষা করে ভারত যে ভাবে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তাতে আমরা পুরো জাতি আজও ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে আছি । বঙ্গবন্ধু বলে ছিলেন, বিদেশে আমাদের প্রভূ নেই; বন্ধু আছে । ভারত তখন সত্যিকার অথেই বন্ধু হিসাবে আমাদের পাশে ছিল ।

কিন্তু ধীরে ধীরে ভারতের চেহারা পরিবর্তিত হতে থাকে, বন্ধুর চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর এক হায়না মুখচ্ছবি যেন জেগে উঠে ক্রমশ । যার প্রথম আঘাত ছিল ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ । যার ফলে বাংলাদেশের হাজার হাজার একর জমি মরুভুমিতে পরিনত হয় । মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণে প্রতিবাদ করে ফারাক্কা অভিমুখে লং মার্চ করেছিলেন । কিন্তু তাতে ভারত কোন র্কণপাত করেনি । শুধু তাই নয় বাংলাদেশর দিকে প্রবাহিত প্রতিটি নদীর উপড় ভারত একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে প্রবাহিত পানি ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলে পুরো বাংলাদেশকে মরুভূমি বানিয়ে ফেলার নীল নকশা করে এগিয়ে চলেছে । ভারতের বিভিন্ন নদীমুখে একের পর এক বাঁধ ফলে বাংলাদেশে চরম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটলেও – এদেশের ক্ষমতায় আসা প্রতিটি সরকার কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেনি ।

গ্লোবাল ওয়ারমিং এর জন্য বাংলাদেশে যতোটা না পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে তার চাইতে অনেক বেশি ঘটছে বিভিন্ন নদীর মুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণের ফলে । বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল চাষাবাদ আজ চড়মভাবে বিপর্যস্ত । বারবার প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয়নি । আন্তরজাতীক আইনকে তোয়াকা না করে পানি ব্যবস্হাকে একচাটিয়া ভাবে দখল করে বসে আছে ।

বাংলাদেশেরও দূ:ভাগ্য আওয়ামীলীগ, বিএনপির যে দু‘টি সরকারই ক্ষমতায় এসেছে হয় তারা নতজানু হয়ে ভারতের তাবেদারী করেছে নয়তো শুধুমাত্র বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করেছে । কিন্তু ভারতের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পারেনি ।

এমনও হয়েছে ভারতের সচিব পর্যায়ের লোকদের দাওয়াত করে এনে ইলিশ ভোজ করিয়েছে – আর তারা ফিরে যাবার পূর্বেই সীমান্তের কাটাতারে ঝুলেছে ফালানীর মতো হাজারো মানুষের লাশ । অনেক দেন দরবার করার পর গুলি বন্ধ হলেও – শুরু হয়ে ছিল -পাথর ছুঁড়ে মানুষ হত্যা করা । এটা কোন বন্ধুসুলভ আচড়ন হতে পারে না ।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে অনেকে ভেবেছিল – অবস্থার উন্নতি হবে কিন্তু তা হয়নি । ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রন করে নিয়ে আসলেও এক মমতার কারনে তিস্তা চুক্তি করা সম্ভব হয়নি । মনমোহন যে পুতুল প্রধানমন্ত্রী তা এখন আর কারো বুঝতে বাকি নেই । নাকি ভারত আসলে তিস্তা চুক্তি করতেই চায়নি – মমতার ধুয়ো তুলে ট্রানজিট নিয়ে গেছে ।

সম্প্রতি ভারতের মনিপুরি রাজ্য সরকার টিপাই মুখে বাঁধ তৈরি করে বিদ্যূত উৎপাদন করবে বলে কয়েকটি রাস্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করে । বরাক নদীর উপর বাঁধ তৈরি হলে বাংলাদেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।
অথচ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনও কোন প্রতিবাদ ও জানানো হয়নি । পক্ষান্তরে চীন তাদের একটি নদীর উপড় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিলে ভারত সরকার জাতীসংঘে পযর্ন্ত বিষয়টি উপস্হাপন করে প্রতিবাদ জানায়।
ভারতের উক্ত আচড়ন জন্য কিছুতেই আর ভারতকে বন্ধু রাস্ট্র হিসাবে মেনে নেওয়া না । বাংলাদেশের প্রতি ভারত সরকারের বিবিধ আচড়নই বলে দেয় ভারত এখন আর বাংলাদেশ জন্য বন্ধু রাস্ট্র নয় ।

সময় এসেছে বাংলাদেশের স্বার্থে বিকল্প বন্ধু বেছে নেবার এবং তাদের সঙ্গে বৈদেশিক সর্ম্পক জোরদার করার । সে ক্ষেত্রে চীনই হতে পারে বাংলাদেশের এক মাত্র প্রকৃত বন্ধু ।