ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

পুলিশের গাড়িতে আগুন ......
১৮ তারিখ সকাল ১০ থেকে ১২টার মধ্যে প্র্রেসক্লাব,পুরানো পল্টন ,মতিঝিলসহ পুরো ঢাকা শহরে কেপে কেপে উঠল ককটেল বোমার আঘাতে , চোখের সামনে পুড়িয়ে দেওয়া হলো পুলিশ এর পিকাপসহ বেশ কয়েকটি বাস ও প্রাইভেট কার। মুর্হুতে ঢাকা শহর পরিনত হলো আতন্কের নগরীতে । নিজের শরীরে বহন করা ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে মারা গেল একজন । হঠাৎ করে মনে হলো আমরা যেন পাকিস্তানের করাচি,কিংবা লাহোরে বসবাস করছি । পাকিস্তানের শহরগুলো যেমন কোন রকম পূর্বাভাস ছাড়াই একের পর এক বোমার ‌আঘাতে শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে, মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে শত শত সাধারণ মানুষ । সকালে যে, বাসা থেকে বেড় হয় সন্ধ্যায় সে আর ফিরে আসতে পারবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা থাকে না ।
ঠিক তেমনি ১৮ তারিখ এর আতন্ক আর তার প্রভাব শুধু ঢাকাশহরের মধ্যেই সীমাবদ্ব থাকেনি – ছড়িয়ে পরেছে – সারা দেশে । সিলেটেও বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে- তাতে মারাও গেছেন একজন ।
পুরোনগর বাসী যখন গুপ্ত হত্যার আতন্কে ভুগছে – তার উপড়ে নতুন যোগ হওয়া এই বোমা হামলার আতন্ক যে গোটা জাতীকে অন্য এক আতন্কের নগরীতে নিয়ে গেছে ।
১৮ তারিখ এর বোমা হামলার পরের দিন ১৯ তারিখেও ঘটেছে একই রকম ঘটনা । ককটেল বিস্ফোরনের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসক্লাবের সামনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ি । এ সব ঘটনার পেছন রয়েছে যে, ঘটনাটি সেটি হলো – বিএপির মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাধনা দেওয়া । একদিকে খালেদা জিয়া জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনীতি করছেন অন্য দিকে মুক্তিযোদ্বাদের সম্মাধনা দেবার নামে শুরু করেছেন নতুন রাজনীতি।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পর প্রথম বারের মতো -যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে । খালেদা জিয়া তখন তার তীব্র বিরোধীতা করছেন – শুধু বিরোধীতাই করছেন না । যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যাতে না হয় তার জন্য বিদেশী প্রভুদের কাছে তদবীর করতেও ভুলেননি । খালেদা জিয়ার কাছে গোলাম আযম,নিজামি,মুজাহিদি,কামরুল নামের জানোয়ারগুলো যুদ্ধ অপরাধী নয় । তিনি প্রকৃত নাকি যুদ্ধ অপরাধী বিচার চান । যদি গোলাম আযম,নিজামি,মুজাহিদি,কামরুল নামের জানোয়ারগুলো যুদ্ধ অপরাধী না হয় তা হলো যুদ্ধ অপরাধী কারা ? শেখ মুজিব,জিয়াউর রহমান, ভাসানী , উসমানী মতো নেতারা ?

স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে মুক্তিযোদ্ধারা যখন লড়ছে বেঁচে থাকার যুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত তখন বিভিন্ন সরকারের ছত্র-ছায়ায় গড়ে তুলেছে – সম্র্পদের পাহাড় । আর তাই এখন ব্যয় হচ্ছে রাস্ট্রের বিরুদ্ধে,জনগনের বিরুদ্ধে । দেশে বিদেশে চলছে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা । আওয়ামী সরকার রাস্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হতে পারে । এ সরকারের মন্ত্রীরা দুণীতি পরায়ন হতে পারে – তবুও এ সরকারের সবচাইতে বড় অর্জণ হচ্ছে – ঐ জানোয়ারগুলোকে এতো দিন জেলখানায় বন্ধি করে রাখা । ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত যে স্বাধীনতা সূর্যকে অম্লান রাখতে হলে যুদ্বাপরাধীদের বিচারের কোন বিকল্প নেই ।
যদি প্রতিনিয়ত একের পর এক গুপ্ত হত্যা আর বোমা হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে তা হলো সোনার এ বাংলাদেশটি পাকিস্তানের মতো আর একটি ব্যর্থ রাস্টে পরিনত হতে বেশি দিন সময় লাগবে বলে মনে হয় না ।
তাই যারা গুপ্ত হত্যা এবং ১৮ এবং ১৯ তারিখে ঢাকা শহরে বোমা ফাটালো,গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদরকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠিন বিচারের সন্মুক্ষিন করতে হবে । আমরা চাইনা দেশটা পাকিস্তানের মতো আরেকটি ব্যর্থ রাস্ট্রে পরিনত হোক ।
প্রতিদিন ধর্মীয় অনুশাসনের নামে কিছু মুর্খ,ধর্মান্ধ নেতাদের আন্দোলনের পটভূমিতে পরিনত হোক । ইসলাম এক মহান ধর্ম সে ধমের সঙ্গে জামাতের রাজনীতির কোন সর্ম্পক নেই । তাই এদের কঠিন বিচার করা ছাড়া দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা কখনওই আসবে না ।