ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

ছোট বেলায় রাজ্যের কৌতুহল ছিল ছড়াটা নিয়ে । যতোবার ছড়াটি পড়তাম ততোবার ভাবতাম , বড় হলে হয়তো ডালিম গাছ থেকে মৌ নামিয়ে খাওয়া যাবে । কেননা আমার শৈশব,কৌশর ছিল ঢাকা শহরের ইট পাথরের দেয়ালে ঘেরা । সেখানে ডালিম গাছ তো দূরের কথা – টবে লাগানো গোলাপ, বেলির সুভাসই ছিল প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকার এক মাত্র প্রচেস্টা ।

বড় হয়ে লেখা পড়া শেষ করে কামাই রোজগার শুরু করেছি । ছেলে মেয়ে নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সংসার । রাতে মেয়েকে ওর মা সুর করে ছড়া শুনিয়ে ঘুম পাড়ায় – আঁতা গাছে তোতা পাখি ,ডালিম গাছে মৌ ……
গতরাতে খাওয়া দাওয়ার পর,টিভি দেখার সময় হঠাৎ করেই ব্রেকিং নিউজ – “আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ।” হাসিনা সরকারের মাঝ রাতের ক্যু । দেশের মানুষ যখন দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধিতে হিমসিম খাচ্ছে।সরকারের ছত্রছায়ায় ভোজ্য্য তেলের ব্যবহায়িরা তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে চলেছে – সেগুলো নিয়ন্ত্রনের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার নিজেই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে – আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছে।

ভরা সেচ মৌসুমে জ্বালানী তেলের বৃদ্ধি মানে – কৃষকের মাথায় ঠান্ডা মাথায় আঘাত করা । হাসিনা কি সেটা বুঝে না ? বেশ ভাল করেই বুঝে – কিন্তু দেওলিয়া সরকারের মহারাণীর আর কিছুই করার নেই কেননা কোন ব্যাংক বা প্রতিস্টান আর দেওলিয়া সরকারকে ঋন দিচ্ছে না । তাই জনগনকেই বেছে নিয়েছে বলির পাঠা হিসাবে ।

আর মাত্র দুটো বছর আসুন অপেক্ষা করি , রাতের আধারে জ্বালানী তেলে বৃদ্ধির জবাব জনগন ঠিকই দেবে। আবার যখন নতুন সরকার আসবে তারাও এই একই কাজ করবে …….আর আমরা আমজনতা – জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ছড়া পড়ে যাবো – আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ ……

একটি প্রশ্ন রেখে শেষ করছি – আন্তরজাতীক বাজরে জ্বালানী তেলের বর্তমান মূল্য ব্যারেল প্রতি ৮৪ ডলার , কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কিনছে ১২৩ ডলার করে, কেন এই বেশি দামে তেল কেনা ? কার পকেটে যাচ্ছে ব্যারেল প্রতি অতিরিক্ত ৩৯ ডলার ?