ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জনগনের সঙ্গে প্রতারণাই করাই যেন রাজনৈতিক নেতাদের স্বভাবে পরিনত হয়েছে । নেতারা নির্বাচনের পূর্বে মুখে বলছেন এক আর নির্বাচিত হবার পরেই করছেন আরেক । নারায়নগঞ্জ এবং কুমিল্লা দু’টি সিটি কপোরেশন নির্বাচনে সেই বিষয়টিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে । ‌আইভি রহমানের কথাই ধরুণ, আওয়ামীলীগ থেকে নমিনেশন পাননি । পাননি দলিয় কোন নেতা কর্মীর সাহায্য, সহযোগীতা বরং তাকে সাহায্য করা স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে সহ্য করতে হয়েছে চরম নির্যাতন । স্থানীয় জনগন এবং সংবাদ কর্মীদের ব্যপক প্রচার প্রচারনার ফলেই আইভি রহমান নির্বাচিত হতে পেরেছেন ।

নারায়নগঞ্জের জনগন ভেবেছিল, যেহেতু আইভি কোন দলের নয় তাই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে বতর্মান সরকারের ব্যর্থতার জবাব দেওয়া হবে । কিন্তু কি হলো, নির্বাচিত হয়েই আইভি ছুটলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে । অথাৎ প্রতারণা করে বসলেন জনগনের সঙ্গে । শেখ হাসিনার কাছে যাবার আগে আইভি রহমান একবারের জন্যও নারায়নগঞ্জের জনগনের সঙ্গে আলোচনা করেননি বা তাদের পর্রামশ নেননি ।

ঠিক তেমনটি করতে যাচ্ছেন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত মেয়র সাক্কু । তিনি গতকালই মিডিয়ায় বলেছেন – তিনি ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে চান এবং বিএনপিতে ফিরতে চান । অথাৎ ভোটার বা জনগনের সঙ্গে আবারও প্রতারণা । নির্বাচনের পূর্বে বিনপির সঙ্গে সর্ম্পক ত্যাগ করে নিবাচিত হয়েই আবার পোষা বেড়ালের মতো মিউ মিউ শুরু করে দিয়েছেন । কুমিল্লার জনগন তো আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপিকে ভোট দেননি – দিয়েছেন সাক্কুকে । কুমিল্লার মানুষ ফিরিয়ে দিয়েছে দুটি রাজনৈতিক দলকেই । তাহলে কেন সাক্কু আইভির মতো ছুটছেন ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে ? সাক্কু কি কুমিল্লার জনগনের মতামত নিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার বা বিএপিতে আবার যোগ দেবার ? নেননি । কেননা নির্বাচনের পর জনগনের ইচ্ছা অনিচ্ছায় কারো কিচ্ছু যায় আসে না । এ যেন, জনগনের সঙ্গে প্রতারণার নতুন খেলা । আদালতে মামলা করে এ খেলা বন্ধ করা উচিত । আর এ সকল মিউ মিউ করা নেতাদের কাছ থেকে অতীতে দেশের মানুষ কিছু পায়নি নতুন করেও কিছু পাবে না । অতএব জনগন বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবুন ।