ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

কথায় আছে, “শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড” কিন্তু সেই শিক্ষা সন্তানদের অর্জন করাতে পিতা-মাতার মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে । আর পিতা-মাতার এই মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেওয়ার পেছনে কাজ করছে ঢাকা শহরের আনাচে কানাচে গজিয়ে উঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো । সরকারের কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই – বাৎসরিক ভর্তি ফ্রি’র নামে পিতা-মাতাকে প্রতিবছর বাধ্য করছে, হাজার হাজার টাকা গুনতে । অতিরিক্ত ভর্তি ফ্রি’ দিতে না পারলে অবসান ঘটছে শিক্ষা জীবনের । সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পিতামাতারা খেয়ে না খেয়ে যোগার করছেন ভর্তির অতিরিক্ত টাকা ।

সরকাররের বেঁধে দেওয়া আইনের তোয়াক্কা না করে স্কুলগুলো পূর্বের চেয়েও বর্ধিত হারে অর্থ নিচ্ছে । পুরোনো ঢাকার কয়েকটি স্কুলে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, এসব স্কুলে বাৎসরিক ফ্রি গ্রহনের হার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন করা হয়েছে । এই স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে, কস্মোপলিটন এবং রিভার ভিউ ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি স্কুল । এই স্কুল দু’টোর শিক্ষার মান ভাল না হলেও সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মের তোয়াক্কা না করে গতবছরের তুলনায় দ্বিগুন হারে ভর্তি ফ্রি এবং মাসিক বেতন গ্রহন করা হচ্ছে । অথচ শিক্ষার মানের উন্নয়েনের কোন ব্যবস্থা করা হচ্ছে না । স্কুলগুলোতে নেই কোন যোগ্য শিক্ষক । গ্রাম থেকে শহরে আসা কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এসব স্কুলে শিক্ষক হিসাবে অল্প বেতনে কাজ করলেও তারা আবার প্রাইভেট পড়াবার জন্য ছুটছে বাড়িতে বাড়িতে । ঐসব শিক্ষকরা এটাকে ব্যবহার করছে – প্রাইভেট টিউশুনি পাবার হাতিয়ার হিসাবে ।

নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের শারীরিক ও মানুষিক বিকাশের জন্য স্কুলগুলোর খেলার মাঠ থাকার কথা থাকলেও এসব স্কুলে শিক্ষাথিদের জন্য খেলাধূলার জন্য কোন মাঠ নেই এবং খেলাধূলা করাও কোন ব্যবস্থা নেই । ফ্লাট বাড়ী ভাড়া করে স্কুল পরিচালনা করলেও “স্কুল উন্নয়নের নামেও টাকা গ্রহন করা হচ্ছে ।” জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত একজন শিক্ষকের দ্ধারা পরিচালিত স্কুল দু’টো সরকারের কোন নিয়মকানুনই যেন মানছে না । স্হানিয় প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না । শুধু এই দু’টি স্কুলেই নয় একই রকম চিত্র পুরান ঢাকা নারিন্দা, গেন্ডারিয়া, লক্ষ্মিবাজার জুড়ে । সরকারের যদি মোবাইল কোটের মাধ্যমে এখনি এই শিক্ষার নামে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহন না করে, তা হলে জাতীর মেরুদন্ডই একদিন বিলিন হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে ।