ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

একটি পরিবারের কর্তা যখন কোন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে তখন পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউ না কেউ সেই পথই অনুসরণ করে । আমার বাবা একটি কথা বলতেন, “আগের লাঙ্গল যেদিকে যায় , পিছের লাঙ্গও সেদিকে যায়”। অথাৎ বড়দের দেখানো পথই ছোটরা অনুসরণ করে ।

কিছুদিন পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয়ে গেল । শাবিতেই কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে । লাল দল,নীল দল কতো দলে বিভক্ত হয়ে শিক্ষকেরা তাতে অংশ গ্রহন করেন । করেন দলাদলী, করেন শিক্ষক হয়ে অন্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা । করেন সরকারের দালালী । বিনিময়ে পেয়ে যান সরকারের সহানুভুতি সহ নানান সুবিধাসহ পদউন্নতি । সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঋতু পরিবর্তনের মতো পরিবর্তিত হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসি সহ সব কিছু ? পরিবর্তিত হয়ে যায় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের ফলাফলও ।

শিক্ষা অর্জনের কারখানাগুলো পরিনত হয়েছে ,দলাদলী,হানাহানি,মারামারি আর কুৎসা রটনার প্রতিষ্ঠান রুপে । আগে একটা সময় ছিল যখন মেধাবী ছাত্ররা শিক্ষকদের কাছাকাছি থাকতো কিন্তু এখন সময়ের পরিবর্তন হয়েছে এখন শিক্ষকেরা মেধাবী ছাত্রদের পরিবতে বেঁছে নেন সন্ত্রীদের । তাদের ব্যবহার করেন তাদের ইচ্ছে মতো। বিনিময়ে এই সব ছাত্র নামের সন্ত্রাসীরা সেমিস্টারের পর সেমিস্টার টপকে যেতে থাকে । যা ইচ্ছে তাই করার অনুমতিসহ পায় সাধারণ ছাত্রদের পেটানোর ল্যাইসেন্স ।

এই তো কয়েক দিন পূর্বে বুয়েটে এক ছাত্রকে পিটিয়ে প্রায় মৃত্যর দুয়ারে পৌছে দিয়েছিল কয়েকজন ছাত্র নাম ধারী সন্ত্রাসী । অন্যান্য ছাত্রদের দাবীর মুখে তাদের মধ্যে দু’জনকে বহিস্কার করা হলেও তারা আবার ফিরে আসতে কতোক্ষন? তারা যে কোন না কোন দলের কোন না কোন শিক্ষকের প্রিয় ভাজন । শাবিতেও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল – কিছু ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীকে তাদের হাতে লান্চিত হয়ে , সেই শিক্ষক পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন । আমরা দেখেছি মানুষ তৈরির কারীগরদের ক্রন্দনরত মুখ। আর সব শেষ ঘটনাটি ঘটলো গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদকে হত্যার মধ্যে দিয়ে ।

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সমিতির নামে যে, নিবার্চন হয় সেটাই বিশ্ব বিদ্যালয়গুলোতে পুষে রেখেছে সন্ত্রাসবাদ । নির্বাচনে জয়ী হবার জন্য শিক্ষকেরা হয়ে উঠেন অঘোষিত সন্ত্রাসী । তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়, সেই সাথে সরকারী ও বিরোধী দলের মদদে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির নামে বাসা বেঁধেছে যে ক্যান্সার তার শেষ শিকার হলেন জুবায়ের আহমেদ ।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, সবার আগে বন্ধ করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সমিতির নামে শিক্ষদের নির্বাচন, তাদের দলাদলী । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের বেতন আসে সরকারের পকেট পক্ষান্তরে জনগনের কাছ থেকেই শিক্ষকেরা কোন কারখানার শ্রমিক নন যে, দাবী দাওয়া আদায়ের নামে রাজনীতি করতে হবে । তাই শিক্ষকদের কোন দল থাকতে পারে না । শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ করার পর বন্ধ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালনগুলোতে ছাত্র রাজনীতি । কিন্তু বর্তমান পেক্ষাপট এমন হয়ে গেছে যে, দল ছাড়া যেমন কোন শিক্ষক নেই । তেমনি ছাত্রদের ক্ষেত্রে ছাত্রদল,কিংবা ছাত্রলীগ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঠিকে থাকার কোন সুযোগ সুবিধা নেই ।

অসৎ শিক্ষকদের কাছে সৎ ও যোগ্য শিক্ষকেরা বারংবার পরাজিত হচ্ছে । শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা । মেধাবী ছাত্ররাও হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষকদের লোভ লালসার কাছে । তাই এই সব দলাদলীর মূলে রয়েছে যে, শিক্ষকদের রাজনীতি করা প্রবনতা তা বন্ধ করতে হবে ।