ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহপাক বলেছেন, মানুষ সৃস্টিগত ভাবেই দূর্বল । আর এই দূবলতার বহি:প্রকাশই হচ্ছে হত্যাকান্ড । অন্য একটি প্রাণ ধ্বংস করে মানুষ নিজেকে শক্তিশালী রুপে জাহির করতে চায় । বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের উপড় যতো নির্যাতন,জুলুম , হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে তার প্রতিটিই ছিল ভয়ন্কর এবং নির্মম । পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে সাংবাদিকদের উপড় হামলা হচ্ছে না, বা হয়নি ।

সম্প্রতি সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকান্ডটি ছিল সবচাইতে নির্মম এবং ভয়ন্কর । খুনিরা কতোখানি নির্মম হলো – এভাবে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে তাদেরকে হত্যা করে তা আঘাতের ধরন দেখেই বুঝা যায় । বিভিন্ন মাধ্যমগুলোতে প্রচার করা হয়েছে, খুনিরা অপেশাদার । কিন্তু আমি বলতে চাইছি খুনিরা মোটেই অপেশাদার নয় , কেননা আঘাতের ধরন দেখে সহজেই অনুমান করা যায় – খুনিরা সাগর সরওয়ার-মেহেরুন রুনির শতভাগ মৃত্যু নিশ্চিত করে তবেই ঐ বাসা ত্যাগ করেছিল । তা না হলে একজন মানুষের শরীরে ২২ আঘাত করা একজন অপেশাদার খুনির পক্ষে কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয় । যারা এটা করছে তারা হয় সাগর সরওয়ার-মেহেরুন রুনির উপড় প্রচন্ড আক্রশ থেকে এটা করেছে নয়তো করেছে অর্থের বিনিময়ে । এ ক্ষেত্রে যার এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে – তার বা তাদের আক্রশের বহি:প্রকাশ ঘটেছে খুনিদের ছুরির আঘাতে ।

হত্যাকান্ডটির পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন । তিনি সেটা করে ছিলেন আবেগের কারনেই । কেননা এমন একটি হত্যাকান্ড দেখার পর কোন মানুষের পক্ষে শান্ত থাকা সম্ভব নয় । প্রধানমন্ত্রী,বিরোধী দলিয় নেত্রী সবাই একযোগে খুনিদের গ্রেফতাদের দাবী ও নির্দেশ দিয়েছেন ।

আমার বিশ্বাস, পুলিশ,RAB,ডিবি সবাই যে যার জায়গা থেকে সবাত্মক চেস্টা করে চলেছে । সাংবাদিকরাও যে যার মতো প্রতিবাদ , মিটিং মিছিল করছেন । কিন্তু সবার মনে রাখা উচিত -আলটিমেটাম দিয়ে অনক সময় কিছুই করা যায় না বা হয় না । পুলিশ,RAB,ডিবিকে তাদের মতো কাজ করতে দিন । এ মাসের মধ্যে যদি পুলিশ,RAB,ডিবি খুনিদের পাকরাও করতে না পারে সে ক্ষেত্রে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া যাবে । আর এ আন্দোলনে দেশের সর্বস্তরের মানুষ সাংবাদিকদের পাশে থাকবে ।

কিন্তু ততোক্ষন শিশু মেঘকে নিস্তার দিন । হত্যাকান্ডটির পর পরই শিশু মেঘকে নিয়ে যে ভাবে টানা হেছরা শুরু হয়ে গিয়েছিল সেটি এক প্রকার অপরাধ । নাবালক একটি শিশুকে এভাবে বড় বড় প্রশ্ন করে মিডিয়া কভারেজ পাওয়ার চেস্টাও খুনিদের চেয়ে কম বড় অপরাধ নয় ।

একটি টিভি চ্যানেলে দেখলাম, একজন মেঘকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে জর্জরিত করে ফেলছে । প্রশ্ন শেষে রিপোটার মেঘকে কোলে নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠে যান । ঐ রিপোটারের পোশাক, সাজসজ্জা দেখে মনে হয়নি তিনি শোকে, দু:খে মূহমান হয়ে আছেন । রিপোটিং দেখে মনে হয়েছে – কভারেজ পাওয়াই হচ্ছে তার কাছে মুখ্য । এরা আসলে সাংবাদিক নয় – সাংঘাতিক।

সবার কাছে অনুরোধ শিশু মেঘকে প্রশ্ন করে অপরাধী হবেন না , তাকে বিব্রত করার অধিকার কারো নেই । প্রশ্ন করার জন্য আইন শৃঙ্ঘলা বাহিনী রয়েছে । মেঘের আকাশ পরিস্কার হতে দিন ।

মেঘের বয়সি শত শত ছেলে মেয়ে ফুটপাতে অধাহারে অনাহারে শুয়ে আছে – দরদ যদি দেখাতে হয় তাদের জন্যও দেখান। মেঘের জন্য রাস্ট্র আছে , প্রধানমন্ত্রী আছেন,বিরোধী দলের নেত্রী,ফুপু,মামা,খালারা আছেন – কিন্তু ফুটপাতের ঐ ছেলে মেয়েগুলোর জন্য কেউ নেই ।