ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

সাগর-রুনি হত্যা কান্ডের পর অনেক লেখা লেখি হয়েছে । এ নিয়ে ব্লগেও অনেক পোস্ট এসেছে । আমিও এ নিয়ে একটি পোস্ট লিখেছিলাম । “শিশু মেঘের আকাশ পরিস্কার হতে দিন…” সেটিও ছিল সাংবাদিক ভাইদের ধর্য পরিক্ষার আহব্বান জানিয়ে এবং শিশু মেঘকে প্রশ্নবানে জর্জরিত না করা অনুরোধ জানিয়ে ।

একটু ভিন্ন মতামত প্রকাশ করায় এবং বলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ভাইয়ের সঙ্গেও আমার এ নিয়ে মতবিরোধও দেখা দিয়েছিল । কিন্তু আমার সেই কথাগুলোই এখন একে একে সবাই বলছে । প্রধানমন্ত্রী ও কাল একই কথা বলেছেন । আজ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও প্রায় একই ধরনের কথা বললেন ।

আইন এবং তদন্তকারী সংস্থার তদন্তকে তার নিজের গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। আমি সাংবাদিক ভাইদের বলেছিলাম – অন্তত এ মাসটি অপেক্ষা করুন তারপর আন্দোলন করা যাবে। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহি সাংবাদিকেরা যেন তাদের ধর্য আর ধরে রাখতে পারছে না । তারা একটা কিছু হেস্ত নেস্ত করে ফেলার জন্য তৈরি হয়ে আছেন । কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না । এভাবে আসলে কিছু হয়ও না । আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে তাদের কাজ তাদের মতো করতে দিন । বেশি হুমকি-ধমকি, আল্টিমেটাম দিলে সাগর-রুনির পুরো কেসটাই ফেঁসে যাবে । তখন এর জন্য দায়ী থাকবে কে? সবার মনে রাখা উচিত, লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায় । তাই আসুন ধৈর্যশীলের পরিচয় দিয়ে অপেক্ষা করি।

সাংবাদিক ভাইয়েরা আসুন পর্যবেক্ষক হই ‌কারো কাছে কোন তথ্য থাকলে তা দিয়ে শৃঙ্খলাবাহিনীকে সহায়তা করি ।
আর তদন্তকারী সংস্থার প্রতি অনুরোধ প্রতিদিন সম্ভব না হলেও অন্তত এক সপ্তা অন্তর আপনাদের অগ্রগতি কতোটা হলো তা প্রকাশ করুণ । তা হলে আর গুজব ছড়াবার সুযোগ হাকবে না । রাখঢাক করার কিছু নেই তদন্তের স্বার্থে যে কাউকে গ্রেফতার করুণ; হোক সে সাংবাদিক,মিডিয়া মালিক কিংবা সাগর-রুনির বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন । পুরো দেশবাসি জানতে চায় প্রকৃত খুনি কে বা কারা ?

কেসের আলামত এবং বিবরন পড়ে যতোটুকু মনে হয়েছিল এবং যতোটুকু লিখে ছিলাম তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতামত হুবুহু মিলে গেছে । তাই আবারও বলছি-সাগর-রুনির হত্যাকারীরা তাদের খুব নিকটের কেউ । যে কিনা আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব,সহকর্মীদের মধ্যে মিশে আছে । দেখবেন -যখন কেসের সমাধান হবে আমরা সবাই চমকে উঠবো ।

পরিশেষ : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দয়া করে কারো বেডরুম পাহারার ব্যবস্থা করবেনা, তা হলে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।