ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মৈত্রীবন্ধন

মুখ্যমন্ত্রী মমতার রুক্ষতা আর বাংলাদেশের দূর্বল কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে পায়নি কিছুই। উল্টো বেড়েছে সীমান্তে মানুষ হত্যার পরিমান । এক দিকে ব্যর্থ কুটনীতিক তৎপরতা অন্য দিকে মমতার মমতাহীন আচরণে ভারত বাংলাদেশের সর্ম্পক এখন দা-কুমড়া । বাংলাদেশ যেমন বর্তমান পরিস্থিতিতে না পারছে কিছু বলতে না পারছে কিছু করতে; ঠিক তেমনি মমতাকে নিয়েও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সৃস্টি হয়েছে নানা দ্বন্দ । কংগ্রেসও না পারছে মমতাকে রাখতে না পারছে গঙ্গায় বিসজন দিতে । তাই জমে উঠেছে ভারতের রাজনীতি ।

উভয় দেশের এই টাল-মাটাল অবস্থার মধ্যে ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর আয়োজনে চলছে মৈত্রীবন্ধন উৎসব । উদ্দেশ্য খারাপ নয়, উদ্দেশ্য ভাল । কিন্তু দাদারা, এসব মৈত্রীবন্ধন, টৈত্রীবন্ধন উৎসবে কাজের কাজ যে কিছু হয় না আপনারাও তা ভাল করেই জানেন । ভারত এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের এবং জনগনের মধ্যেও এ ধরনের উৎসবের কোন প্রভাব পরেনা । পরার কথাও নয় ।

আপনাদের নিজেদের উৎসব করার ইচ্ছে হয়েছে তাই করছেন । আপনাদের যা করতে ইচ্ছে হয় করুন না । নাচ-করুণ, গান করুন , পিকনিক করুণ কিন্তু তার মধ্যে রাস্ট্রের নাম ভাঙানের কি দরকার ? নাকি ভিসা পেতে সুবিধে হয়,বিনা স্মুল্কে উপহার বলে অনেক কিছু আনা যায় নেওয়া যায় তাই বন্ধনের নামে ….।

এখন ভারতে গিয়ে বাংলাদেশিরা গান গাচ্ছে আর দাদা দাদা করছে আবার ইলিশের মৌসুম এলে ভারতীয়রা আসবে ইলিশ ভাজা খাবে আর বলবে আহ: দাদা কি খেলুম ! এ জিনিষ চলতেই থাকবে । যেসব শিল্পি দিয়ে গান করাচ্ছেন তাদের টাকা দিলে তারা বস্তির সর্ম্পক উন্নয়নেও গান করবে ।

টাইমস ইন্ডিয়াকে বলছি- যদি পারেন এসব খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান ছেড়ে দিয়ে দু’দেশের নেতাদের মধ্যে এমন একটি সফল বৈঠকের আয়োজন করুণ যে বৈঠক থেকে উভয় দেশই প্রকৃতপক্ষে উপকৃত হবে । তা না হলে এসব মৈত্রীবন্ধন উৎসব বাংলাদেশের জনগনের কাছে কাটা ঘায়ে নুনুর ছিটা হয়ে লাগছে । সীমান্তে আমার বোন কাটা তারে ঝুলছে, আমার ভাইকে নেংটো করে পিটাচ্ছে আর আপনার হাসছেন গান শুনছেন,মাথা দোলাচ্ছেন আর সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন সর্ম্পক উন্নয়নের । আপনারা পারেনও বটে !!