ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
সড়ক প্রতিযোগীতা

বেপরোয়া বাস চালকদের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশে একের পর এক ঘটে চলেছে হত্যাকান্ড। প্রতিদিন অকালে ঝরে যাচ্ছে এক একটি তাজা প্রাণ । সকালে সুস্থ্য মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরছেন লাশ হয়ে । গোটা নগরী যেন পরিনিত হয়েছে মৃত্যু ‌এক ফাঁদে। প্রতিকারের যথাযথ কোন ব্যবস্হা গ্রহন না করেই উপরোন্ত বলা হচ্ছে তারা দুর্ঘটনার শিকার । কিন্তু আমি বলছি, এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকান্ড । প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর সরকার যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতো তা হলে এ হত্যাকান্ডের পরিমান একেবারেই কমে যেত ।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনতার সাহায্যে পুলিশ পলায়নরত বাস চালককে আটক করতে পারলেও তারা আইনি দূর্বলতার কারণে জামিনে বের হয়ে এসে আবার উঠে বসছে চালকের আসনে । ফলশ্রুতিতে আবারো ঘটছে হত্যাকান্ড । বিভৎস একটি হত্যাকান্ড সমাজের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলেও নিবিকার থাকছে প্রশাসন ও সরকার ।

বর্তমান অবস্থা এমন ভয়াবহ হয়েছে যে, একটি দিন যাচ্ছে না যেদিন কেউ না কেউ বাসের আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে না । দৈনিকগুলো খুললেই পাওয়া যাচ্ছে বাসের আঘাতে প্রাণহানির সংবাদ । গতকালও বাসের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী হায়দার শরীফ (৪৮)।

দিনের বেলায় ঢাকা শহরে ট্রাক চলাচলের উপড় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ট্রাকের আঘাতে মৃর্ত্যুর হার কমে আসলেও বেড়ে গেছে বাসের আঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা । অল্প বয়স্ক বাসের চালকেরা সিটে বসার পরেই নিজেদের কিং ভাবতে শুরু করে আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠে । প্রতিযোগীতা করে একটির সঙ্গে আরেকটি পাল্লা দিয়ে ছুটতে থাকে । যত্রতত্র যাত্রী উঠা নামানো করাসহ প্রায়:শই দেখা যায় যে, মোটরসাইকেল,রিকশার পেছন থেকে আঘাত করে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিচ্ছে তার আরহিকে কিংবা চাপা দিচ্ছে কোন পথচারিকে বা স্কুল;কলেজের ছাত্র ছাত্রীকে ।

প্রচলিত আইনে কোন কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় আইনের ফাক ফোঁকর গলিয়ে এই সব হত্যাকান্ডগুলোকে দিব্যি দুর্ঘটনা সাজিয়ে ঘাতকরা অতি সহজেই আদালত থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে । এখনই যদি কঠিন আইন প্রণয়ন করা না যায় তাহলে এভাবে হত্যাকান্ডের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে । তাই নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হত্যাকান্ড বন্ধ কল্পে নিম্ন লিখিত ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন বলে মনে করি ।

১. ঘাতক চালককে মৃত্যুদন্ডসহ অর্থ দন্ডে দন্ডিত করা । যা কিনা ঘাতকের মৃত্যুদন্ড হলেও তার বসত ভিটা বিক্রি করে হলেও পরিশোধ করতে হবে ।

২.বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করাসহ মালিককে অর্থ দন্ডে দন্ডিত করা ।

৩.ট্রাফিক আইন আরো কঠিন করা এবং জরিমানার হার বর্ধিত করা । প্রতিটি রুটে নিদিষ্ট গতিতে গাড়ী চালাতে চালকদের বাধ্য করা ।
৪.রাস্তাপারাপার এবং চলাচলের সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রয়োজনে আইন করে বন্ধ করতে হবে ।

পরিশেষে বলছি,সাবধান ! দুর্ঘটনা নয় এগুলো সব হত্যাকান্ড ,ঘাতক আপনার ঠিক পাশেই ।