ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কয়েকটি প্রশ্ন :
১২ মার্চ কি যুদ্ধ হবে ?
১২ মার্চ কি ঢাকা শহর দখল হয়ে যাবে ?
১২ মার্চ কি বর্তমান সরকার ক্ষমতা হারাবে ?
১২ মার্চ কি অনেক মানুষ মারা যাবে , হত্যা, হানা হানি হবে ?
কি হবে ১২ই মার্চ ????
** দু’টো দল কি দেশের,জনগনের স্বার্থের কথা একবারও ভাবে ? তারা কি জানে জনগন আসলে কি চায় ?

মূল আলোচনা :
বিএনপির ১২ই মার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকার ভেতরে বাহিরে অস্থির হয়ে উঠেছে । সরকারের বর্তমান ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে , আমরা কোন অগনতান্ত্রিক দেশের বাসিন্দা ।
প্রশ্ন হচ্ছে, ১২ মার্চের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামীলীগ বা সরকার এতো ভীত কেন ? বিএনপি তো গনতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনেই ১২ই মার্চের “চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি দিয়েছে ।”
সভা,সমাবেশ,মিছিল,মিটিং করা তো গনতান্ত্রিক একটি ধারা । এখন পর্যন্ত বিএনপিও এর বাইরে যায়নি । আর যতোক্ষন পযর্ন্ত একটি দল গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে ততোক্ষন পযর্ন্ত তাদের বাঁধা দেওয়া কিংবা প্রতিহত করার কোন প্রশ্নই উঠে না । সে অধিকারও কারো নেই ।

কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি তাদের কর্মসূচি ঘোষুনা করার পরেই সরকার বা আওয়ামীলীগের মাথা যেন খারাপ হয়ে গেছে । আতিপাতি নেতা থেকে শুরু করে নতুন প্রথম শ্রেনীর নেতারা পযর্ন্ত মিডিয়াতে বলছেন, তারা বরদাসত করবেন না, সহ্য করবেনা, রাজপথ থেকে হটবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি । আবার বিএপির তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বাঁধা দিলে পরিনাম ভাল হবে না । দু’দলের হুমকি ধমকিতে সাধারণ মানুষের পেটের মধ্যে ঘাটে যাচ্ছে অবস্থা । তার উপর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ১২ই মার্চের আশে পাশে আরো কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষুনা করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো অস্থির করে তুলেছে । তারা ধরেই নিয়েছেন বিএনপি ১২ই মার্চ বিশৃঙ্খলা করবে । আর তাই আওয়ামীলীগ শান্তি বজায় রাখার জন্য – মাঠে নেমেছে । অনেকটা গায়ে মানে না আপনে মোড়ল অবস্থা ।

এটা আসলে প্রমান করে যে বর্তমান আওয়ামীলীগ মেধা শূণ্য,নেতা শূণ্য হয়ে পরেছে । দলনেত্রীর অবহেলায় প্রথম শ্রেনীর নেতারা সাইড লাইনে বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরেছেন । কেউ কেউ চলে যাচ্ছেনা না ফেরার দেশে । দলনেত্রী যে সব অযোগ্য সুবিধাবাদিদের দিয়ে দল পরিচালনা করছেন – এসব কর্মসূচি যে তাদের অনুর্ব্বর মাথা থেকে আসছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

আরে দিননা বিএনপিকে মিটিং,মিছিল সমাবেশ করতে তারা যদি ঢাকা শহরে বিশৃঙ্খলা সৃস্টি করে তার জন্য তো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে । সেটাওতো আপনাদেরই । কিন্তু আগে থেকেই তাদেরকে প্রতিহত করার কর্মসূচি হাতে নিয়ে দেশের আইনশৃঙখলা পরিস্থিতে হুমকির মুখে ফেলে দেবার অধিকার এ দেশের জনগন আওয়ামীলীগকে দেয়নি ।

মানুষ এমনিতেই অনেক অশান্তির মধ্যে রয়েছে । আর্ন্তরজাতিক বাজারে খাদ্যের দাম, ভোজ্য তেলের দাম কমলেও এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা সরকারের ছত্রছায়ায় এসবের দাম বৃদ্ধি করছে লাগামহীন ভাবে । আজ শুনলাম তারা বাজারে তৈল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে । কই এসব নিয়ে তো প্রধানমন্ত্রী আপনারা কোন মাথা ব্যথা দেখছি না । আপনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ।

উল্টো বিএনপির নেতা কর্মীরা ১২ই মার্চের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করতে ঢাকায় এসে যেন কোন হোটেল থাকতে না পারে, খেতে না পারে সে জন্য হোটেল, রেস্টরেন্টের মালিকদের সরকার এবং আওয়ামীলীগকে পক্ষ থেকে ধমকানো, ভয় দেখানো কোন আইনী প্রক্রিয়া বলতে পারেন ? আইন মন্ত্রী বলেছেন, “অপরিচিত কাউকে দেখলেই গ্রেফতার করতে ,”এটা কি ধরনের কথা ? এটা কোন গনতান্ত্রিক সরকারের নমুনা বলতে পারেন ?

আমরা সাধারণ মানুষ, যারা আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে ছিলাম তারাই বলছি ; রাস্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ । এবং জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্রমশ আধারে ডুবতে বসেছে ।

আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হবার পরেও নির্লজ্জের মতো স্বরাস্ট্র ও পররাস্ট্রমন্ত্রী স্ব স্ব পদে বহুত তবিয়তে আছেন । প্রধানমন্ত্রী নীরব হয়ে আছেন । মৌনতা তা সমথনের লক্ষন । এটাই প্রমান করে সরকার কতোটা ব্যর্থ ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেড রুমের নিরাপত্তা তো আপনি দিতে পারবেন না, পথের নিরাপত্তা দিতে ও যে আপনার সরকার ব্যর্থ সেটাই প্রমাণ হলো, কূটনেতিক হত্যার মধ্যে দিয়ে । বলি কোন জায়গাটার নিরাপত্তা আপনার সরকার দিতে পারবে বলতে পারেন ? আমরা তা হলে সেখানে সমবেত হবো ।

একটি উপদেশ : কথায় আছে বাঙালী মাগনা পাইলে নাকি আলকাতরাও খায় । না মাগনা না , নিজের পকেটের বিদ্যূত , ইন্টারনেট বিল আর মেধা খরচ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরে একটা উপদেশ দিচ্ছি । শুনলে শুনেন না শুনলে ……. “এখন ও সময় আছে দ্রব্য মূল্যের লাগাম কঠিন হাতে টেনে ধরুন, বিদ্যূতের সরবরাহ নিশ্চিত করুণ, তা নাহলে তারেক রহমানকে তো বিদ্যূতের খাম্বার জন্য আজ দেশ ছাড়া করেছেন । কুইক রেন্টাল বিদূত্যের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা কোথায় গেছে ? সে প্রশ্ন তুলে জনগন যদি আপনাকেও দেশ ছাড়া করে তখন আমার মতো সাধারণ মানুষের কিছুই করার থাকবে না । ”