ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

ডেসটিনি
জানতাম যদি শুভন্করের ফাঁকি ;
আমার ঘরে পরতো না ভাই শূণ্য !!

এক সময় গানটা রেডিও টিভিতে খুব বাজানো হতো । এখন হয় কিনা জানিনা । বহুদিন গানটা শুনা হয় না । শুভঙ্করের ফাঁকি গানটা শুনে বোকার মতো শুভঙ্করকে খুঁজে বের করার অনেক চেষ্টা করেছি । কলেজে পড়ার সময় পেয়েও গিয়ে ছিলাম এক শুভঙ্করকে । দু’বছর ক’মাসের তিষার সঙ্গে প্রেম করার পর ফালিয়ে গিয়ে ঘর বেঁধেছিল । সাহসী সে শুভঙ্কর আর তিষা এখন কোথায় কেমন আছে তাও জানিনা। তবে শুভঙ্কর যে তিষাকে ফাঁকি দেয়নি সেটাই ছিল – গানটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেবার জন্য যথেষ্ট ।

এবার আসল কথায় আসি , গতকালের প্রথম আলোতে এমএলএম কোম্পানী “ডেসটিনি” নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে । http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-03-30/news/236562 আজও প্রকাশ পেয়েছে এরেকটি সংবাদ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-03-31/news/236798 তাতে উঠে এসেছে কোটি কোটি মানুষকে বোকা বানিয়ে বা ব্রেন ওয়াশ করে কি ভাবে “ডেসটিনি” হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা ।

নিজের দেখা ছোট্ট একটি অভিজ্ঞতার কথা বলছি – বছর দুই আগে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় গিয়েছিলাম -সেগুন কাঠের কিছু ফার্নিচার বানাবো বলে । আমার এক আন্কেল তখন খাগড়াছড়ির দিঘিনালার সিওসি অথবা জিওসি ছিলেন । ঢাকা থেকে বাসে চট্টগ্রামে পৌছানোর পর সেখান থেকে সেনা বাহিনীর জিপে চড়ে রওনা দিয়েছি খাগড়াছড়ি । অপরুম মনোরম দৃশ্যের মাঝে দিয়ে যখন খাগড়াছড়ি পৌঁছালাম তখন দুপুর হয়ে গেছে । আঙ্কেল খুব আদর করে খাওয়ালেন । খাওয়া দাওয়ার পর জিপে করে পুরো দীঘিনালা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন । নিয়ে গেলেন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে । পাহাড়ি মানুষের জন্য সরকার এবং সেনাবাহিনী যে কি পরিমান কাজ করছে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না । দীঘিনালার মতো ছোট্র একটি জায়গাতেও কম করে আট দশটি সরকারি স্কুলের দেখা পেলাম । উপজাতিয় ছেলে মেয়েরা সুন্দর সুন্দর পোষাক পরে পায়ে সেন্ডেল বা জুতা পায়ে দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ।

ঘুরতে ঘুরতে একসময় দেখতে পেলাম, সেনাক্যাম্পের পুকুর পাড়ে বড় বড় আম-জাম গাছের নিচে অনেক ছোট ছোট নতুন গাছ লাগানো হয়েছে । কিছু কিছু গাছ মরেও গেছে । আমার আগ্রহ দেখে আন্কেল বললেন, এগুলে ডেসটিনি নামের একটি প্রতিস্টান লাগিয়েছে। আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেসটিনি কেন গাছ লাগাবে ? আঙ্কেল বললেন- অনেক অনুরোধ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওয়াত এগুলো লাগিয়েছে । গাছের রক্ষনাবেক্ষন ও তারাই করবে । কিন্তু ইতিমধ্যে কিছু গাছ মরে গেলেও কেউ খোঁজ নেয়নি ।

চিন্তা করুণ খাগড়াছড়ির মতো জাগয়ায় যেখানে গাছ পালা দিয়ে পুরো প্রকৃতি ঢেকে আছে সেখানে ডেসটিনি চালাচ্ছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আঙ্কেল আরো বললেন, ডেসটিনির এমডির শশুর বাড়িও এখানে চলো তোমাকে নিয়ে যাই । আন্কেলের সঙ্গে জিপে করে গেলাম এমডির শশুর বাড়ি । তিনতলা একটা বাড়ি তখন তৈরিরত অবস্থায় ছিল । বহুদূর থেকে রাস্তা পাকা করে সে বাড়িতে যাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে – যাই হোক ভদ্রলোক তখন ঐ বাড়িতে ছিলেন না ।

ঢাকায় এসে শুনলাম, ডেসটিনির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আড়ালে চলছে নতুন নতুন সদস্যদের কাছে সেই সব গাছ বিক্রি করা । সেই গাছগুলো নাকি নতুন সদস্যরা ছয় হাজার করে কিনছেন । প্রতি সদস্য নাকি পাঁচ থেকে সাত বছর পর সেই সব গাছ বিক্রি পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা পাবেন । পরে গাছগুলোর খোঁজ নিয়ে জেনে ছিলাম সেগুলোর একটাও আর বেঁচে নেই সব ধুকে ধুকে মরে গেছে । কিন্তু ততদিনে ডেসটিনির পকেটে চলে গেছে কোটি কোটি টাকা । আমি বুঝতে পারলাম, শুভঙ্করের ফাঁকি আর কাকে বলে ।

ডেসটিনির সদস্যদের খোঁজ নিয়ে দেখতে বলছি- আপনারাও একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন না, যে গাছটির মালিক আপনাদের ডেসটিনি বানিয়েছিল সেটি বেঁচে আছে কিনা?