ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ডেসটিনি

ঘটনা এক :
ডেসটিনির কারণে অনেক সর্ম্পক ভেঙ্গে গেছে । আমার নিজের দেখা দুটো ঘটনার কথা বলছি – আমি যে সেলুনে চুলকাটাই সেটি পুরানো ঢাকায় । চব্বিশ পচিশ বছর বয়সের একটি ছেলে যে দোকানটির মালিক ও ।সেই সবসময় আমার চুল কাটে । একদিন চুল কাটতে গিয়ে ওর বিষন্ন মুখ দেখে প্রশ্ন করলাম – কি ব্যাপার, কি হয়েছে ? মন খারাপ কেন ? পাশেই চুল কাটতে থাকা একজন বললো, গেঞ্জাম হইছে ? আমি জন্মের পর থেকে এ এলাকাতে আছি তাই আতিপাতি, ছোট-বড়, মাস্তান,ভদ্র মোটামুটি সবাইকে চিনি । একটু ভেবে বললাম- কে গেঞ্জাম করছে ? কেউ কি চান্দা চাইছিল ? ছেলেটি উত্তর দিল না । মুখ আগের চেয়েও আরো কালো করে ফেললো । পাশের চুল কাটতে থাকা ছেলেটিই বলল – ওর গাল ফ্রেরেন্ড । বলে সেকি হাসি । আমি বললাম হাসি বন্ধে করে সব খুলে বল । ছেলেটি তখন বলল – মেয়েটির সঙ্গে ওর সর্ম্পক বছর দুইয়ের এতো দিন ভালই টিকে ছিলে তাদের সর্ম্পক । ভবিষ্যতে ঘর বাঁধার কমিটমেন্টও ছিল ।

কিন্তু সব কিছু হঠাত ভেস্তে গেল । আমি বললাম – কেন ? পরে আরো যা শুনলাম তা হলো, মেয়েটি ডেসটিনির সদস্য হয়েছে । সে যাচ্ছে ছেলেটিও তার সঙ্গে ডেসটিনির সদস্য হোক তাতে তারও কিছুটা ফায়দা হবে । কিন্তু ছেলেটির পক্ষে এতোগুলো টাকা দিয়ে সদস্য হওয়া সম্ভব নয় । সে ভাল করে নাও করতে পারছিল না শত হলেও প্রেমিক মানুষ । আজ হবো, কাল হবে করে বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে গেলে মেয়েটি ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে দোকানে এসে ছেলেটিকে হেনস্তা করে । এরপর ওদের সর্ম্পক মনে হয় আর টিকেনি । আমি খোজও নেইনি ।

ঘটনা দু’ই :

আমার এক দু’র সর্ম্পকের ভাতিজা । হঠাৎ একদিন ফোন করে বলল-চাচা আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই । আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন ? এমনিতে বছরে খোঁজ নাই আর আজ হঠাৎ দেখা করতে চাইছিস ঘটনা কি ? না মানে আপনার লগে একটা ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করমু । ও কোনরকম জড়তা ছাড়াই বলল । কি ব্যবসা ফোনেই বল । না মানে আমি ডেসটিনির সদস্য হইছি আমি চাইছি আপনিও সদস্য হন । কি বলবো বুঝতে পারলাম না । ডেসটিনির জন্ম হতে দেখেছি ডেসটিনির সঙ্গে জড়িত অনেককেই বহুদিন থেকে চিনি । অথচ সেদিনকার এক দুধের বাচা আমাকে সদস্য হবার প্রস্তাব দিচ্ছে । আমি বললাম – এসব নিয়ে আমার কাছে আসতে হবে না । ও বলল প্লিজ চাচা আমার কথা শুনেন, আমি আইসা আপনারে সব বুঝাই কই । দেখ পারভেজ – আমি ডেসটিনির সদস্য হবো না । বলে ফোন রেখে দিলাম । দু’দিন পর ওর মা মানে আমার ভাবির ফোন পেলাম – কিরে বাবু, অনেক বড় হইয়া গেছস ? দাম দেখাস, আমার পোলার লগে একটু কথা কওনেও সময় তোর নাই । খুব বড় লোক হইয়া গেছস তাই না । আমি কি বলব বুঝতে পারলাম না । চুপ করে রইলাম । কি করে বুঝাবো যে ওনার ছেলে প্রতারকদের পাল্লায় পরেছে । যে কোন সময় বড় রকমের ক্ষতির সন্মুক্ষিন হতে পারে ।
এ দুটি হলো আমার অভিজ্ঞতা । এমন হাজার হাজার অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষ সমাজে মিশে আছে । অজস্র ছাত্র,ছাত্রী,তরুণী, গৃহবধূ,শিক্ষক,ব্যবসায়ী,চাকুরীজীবি কোন না কোন আত্মীয়ের প্ররোচনায় তাদের প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে না পারায় প্রতারিত হয়ে বসে আছে । মাঝখান দিয়ে যে আত্মীয়ের মাধ্যমে ডেসটিনির সদস্য হয়ে ছিল, তাদের সঙ্গে সর্ম্পক ভেঙ্গে গেছে । ফাঁকে ডেসটিনি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা ।