ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কথায় আছে, খালি কলসি বাজে বেশি । অর্থাৎ যে কলসিতে পানি নেই বা কম তা সামান্য আঘাতেই ঠং ঠং টুং টাং করে বাজতে থাকে । বর্তমান সরকারের অবস্থাও ঠিক তেমনি খালি কলসি’র মতো হয়ে পরেছে । তাই বাজছে বেশি ।

প্রায় প্রতিদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন কোন না কোন সম্মেলন কেন্দ্রে এসিতে বসে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভাষন দিচ্ছেন বাহিরে তখন দেশের জনগন বিদ্যুত বিহীন অবস্থায় হাঁসফাঁস করছে । দেশের বাজার ব্যবস্থা হয়ে পরেছে গোটা কয়েক ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি তারাই আবার সচিবদের সঙ্গে বসে দ্রব্য মূল্যের দাম ঠিকঠাক করছেন । বাণিজ্যমন্ত্রী হাতে কাজ কর্ম নেই তিনি খুব সম্ভব অবকাশে আছেন ।

পুলিশের হাতে একের পর এক সাংবাদপত্র ও মিডিয়ার কর্মীরা লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্র্রী বলছেন – পুলিশ আগের চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে । তাদের উন্নতি হয়েছে । স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু তো দু’ধাপ এগিয়ে বলেই ফেলেছেন – পুলিশের কাছ থেকে দূরে থাকুন। এটি কিসের ইঙ্গিত?

খুব তো বড় বড় গলায় বলা হয়ে থাকে,পুলিশ নাকি জনগনের বন্ধু ! এখন প্রশ্ন হলো, পুলিশ যদি জনগনের বন্ধুই হয়ে থাকে তা হলে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে কেন ? সাংবাদিকরা কি অন্য গ্রহের মানুষ ? নাকি তারা জনগনের শত্রু ?

নাকি, আগামি নিবার্চন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না করে প্রধানমন্ত্রীরকে প্রধান করে তার অধীনে নির্বাচন করার মহরা চলছে । তারই ধারাবাহিকতায় কি পুলিশকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে? পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে পাটিয়ে, নির্যাতন করে ভয় -ভীতি দেখিয়ে যদি সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে ফেলে যায় তা হলে অতি সহজেই আগামী নির্বাচনের তরি পার হয়ে যাওয়া যাবে ।

সে আশা যদি সরকার করেই থাকে, তা হলে সে আশায় গুড়ে বালি বলতে হবে । কেননা, মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখা আর বাস্তবে তার বাস্তবায়নের মধ্যে বিস্তর ফারাক । যারা শেখ হাসিনাকে এ স্বপ্ন দেখাচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না যে কি ভয়ঙ্কর ফাঁদে তারা পা দিয়ে ফেলেছেন । এ চোরা বালি এখন শুধু নিচেই টেনে নেবে ।
অন্যের জন্য ফাঁদ পাতলে অনেক সময় সে ফাঁদে নিজেকেই পরতে হয়ে ।

দু:খের বিষয় ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না । বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর এই চামচা শ্রেণীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি । এমন কি হত্যাকাণ্ডের পর মিছিল করার জন্যও লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি । খালেদা জিয়াও নির্বাচন করেছিলেন টিকতে পারেননি । অন্য কেউ ও পারবে না ।

পরিশেষে বলছি- খুব যে উৎসব করে সাংবাদিক পেটাচ্ছেন, বুঝে শুনে পেটান, জনগন কিন্তু সব দেখছে । সাংবাদিকদের শরীরের এক একটি আঘাত শত সহস্র গুন শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে । তখন এ বালির বাঁধ আর টিকবে না ।

জয়নাল হাজারির কথা ভুলে গেছেন ? সাংবাদিক পিটিয়ে তিনি আজও ধুঁকে ধুঁকে মরছেন । না আছে দল জায়গা না আছে জনগনের মনে । তাই বলছি – খুব যে উৎসব করে সাংবাদিক পেটাচ্ছেন, বুঝে শুনে পেটান, জনগন কিন্তু সব দেখছে ।