ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

একজন সাধারণ মানুষ জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য নানা মুখি কাজ কর্ম করে থাকে । কেউ চাকরি করে, কেউবা ব্যবসা করে । কেউবা একটুখানি সুখের জন্য পরিবার পরিজন দেশে রেখে বিদেশে পারি জমায় । সবাই জীবন ও জীবিকার তাগিদে কোন না কোন কর্মের সঙ্গে যুক্ত । সারা বছর হার ভাঙা পরিশ্রম করে যে আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের ভরন পোষন করে । মোট আয় থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারকে আয় অনুযায়ী কর দিয়ে থাকে । সেই কর দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় । প্রতিবছর জাতীয় বাজেট পাশ হবার পরই ফাইন্যান্স এ্যাক্ট বা অর্থ আইন পাশ করা হয়ে থাকে । এই আইনের বিধান অনুযায়ী এবং মোট আয়ের ভিত্তিতে করযোগ্য আয় নিরুপণ করা হয় । সকলে এ আইন অনুযায়ী কর দিতে বাধ্য থাকে । কেউ যদি এ আইন অমান্য করে তাহলে কর খেলাপি হিসাবে রাজস্ব বিভাগ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং নেয় ।

উন্নত বিশ্বে একজন নাগরিক যে হারে কর দিয়ে থাকে পরবর্তীতে অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির অবসর কালীন সময় সে অনুসারে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে । কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, এ দেশে মানুষ কর দেবার কোন সুফল ভোগ করতে পারে না । তাই তো সাধারণ মানুষ আয় কর দিতে উৎসাহ বোধ করে না । জনগনের টাকা দিয়ে সরকার চলে , চলে পুলিশ প্রশাসন আর সেই পুলিশই সাধারণ মানুষকে পিটায়, পেটায় সাংবাদিক । তারা ভুলেই গেছে যে তাদের প্রতি মাসের বেতন আসে জনগনের দেওয়া করের টাকা থেকে ।

তার উপরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে সরকার সাধারণ করদাতাকে কর প্রদানে আরো নিরুসাহিত করছে। দেশের দুর্নীতিবাজদের যদি বছরের পর বছর অবৈধ পথে অর্জিত কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ সরকারই স্বয়ং করে দিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় তা হলে কিসের আশায় সাধারন কর দাতারা কর দিতে উৎসাহিত হবে ? তাই তো ২ কোটি টাকা সম্পদের মালিকের সংখ্যা দেশে মাত্র ৪ হাজার।

সোজা বাংলায় কালো টাকা হলো অবৈধ পথে অর্জিত হারাম টাকা । যে টাকায় না নির্মাণ করা যায় মসজিদ না মন্দির । তবে কেন সরকার এই কালো টাকার মালিকদের আইনের আওতায় না এনে বরং অনুষ্ঠান করে তাদের অবৈধ পথে অজির্ত অর্থ হালাল করার সুযোগ দিয়ে থাকে ?

বাংলায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে – অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহ্য করে তারা উভয়ে সমান অপরাধী। ঠিক তেমনি দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে তাদের অবৈধ পথে অর্জিত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দিয়ে সরকার ও কি সমঅপরাধী হয়ে যায় না?

কালো টাকার মালিকদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন যে নীতিমালার অধীনে সুনির্দিষ্টভাবে কালো টাকার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

পরিশেষে বলছি, আসুন দুর্নীতিবাজদের ঘেন্না করি এবং যারা সেই দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলি।