ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

গত শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ক্যানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ণ অন্টারিও-র প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস-চ্যান্সেলর বাংলাদেশি চাকমা বংশোদ্ভূত অধ্যাপক অমিত চাকমার সন্মানে ইউনিভার্সিটি অব টোরন্টোর স্কারবোরো ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির তরফ থেকে এক নাগরিক সম্বর্ধনার আয়োজন করা হয়।

IMG-20140913-00248

নাগরিক সম্বর্ধনায় অধ্যাপক অমিত চাকমা তার বক্তব্যের শুরুতে এক ইংরেজি গাল-গল্পের অনুবাদ করে বলেন যে,এইরকম সম্বর্ধনা সভায় ঈশ্বরের কাছে দু’বার ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। প্রথমবার ক্ষমা চাইতে হয় তাদের জন্য, যারা সম্বর্ধিত ব্যক্তিকে প্রশংসা করতে যেয়ে তাদের ভাললাগা, ভালবাসা থেকে তার সম্পর্কে বাড়িয়ে বলেন। দ্বিতীয়বার ক্ষমা চাইতে হয় নিজের জন্য, যেহেতু নিজেকে বসে বসে এসব ভাললাগা বাড়তি প্রশংসা বার বার শুনতে হয় বলে। উপরোক্ত বক্তব্যে অবশ্যই অধ্যাপক চাকমার বিনয় এবং মহানুভবতা প্রকাশ পেয়েছে দারুণভাবে। এটাও ঠিক উনি যথেষ্ট রসিক মানুষ, কিন্তু ছোট-বড় সবার প্রতিই সমান শ্রদ্ধাশীল, যা খুবই দুর্লভ গুণ।

কিন্তু আমার মনে হয়েছে, তার মহানুভবতার জায়গাটা অন্য কোথাও। নীচে সে বিষয়ে একটু বিশদ আলোচনায় যাবো।

আমি যখন বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতাম, তখন আমার এক সহপাঠিনী ছিল, যার নাম বেলী চাকমা। এই বেলী চাকমা থেকে প্রথম একটু বিশদ শুনেছিলাম কিভাবে বাংলাদেশের সৈন্যদের দ্বারা তারা অপরিসীম নিযার্তনের কবলে পড়ছে। যে জাতিগত স্বাধিকার এবং মযার্দা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সেই দেশ বিভাগ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলাম, সেই একই দৃষ্টিকোণ থেকেই পাহাড়ী জাতিসত্ত্বাসমূহ তাদের অধিকার ও মযার্দা রক্ষার্থে সশস্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাদের ভূমি থেকে বিতাড়ন, জাতিগত অস্বীকৃতি, সর্বোপরি, জোরপূর্বক বাঙালি অভিবাসীদের তাদের পাহাড়ী ভূমি দখল এবং তাতে অভিবাসন, ইত্যাকার অমানবিক এবং বৈষম্যগত আচরণই পার্বত্য চট্রগ্রামকে মূলতঃ ‘৮০-র দশকে ভয়াবহ রকম অশান্ত করে তুলেছিল। যার রেশ এখনো ধীরে-সুস্থে শক্ত-পোক্তভাবেই চলছে।

যে এক মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জত ভূলুন্ঠিত হয়েছে, সেই আমরাই পশ্চিম পাকিস্তানীদের মত একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছি সংখ্যালঘুদের অধিকারকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে থামিয়ে দিতে। এ এক শোষিত জাতির পরবর্তীতে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সামিল।

যদি ধরে নিই, আমরা সাধারণ মানুষেরা স্বৈরাচারী সামরিক শাসকদের কারণে অসহায় এবং নির্বাক ছিলাম, নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনমুখী ছিলাম, সে কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুকে নিয়ে কোন টু-শব্দ, উচ্চবাচ্য বা দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি নি। তবে পরবর্তীতে এখন পর্যন্ত যে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে তাদের কাছেও পাহাড়ি সংখ্যালঘু জনগণের অধিকার রক্ষার্থে ন্যূনতম আন্তরিকতার অভাব প্রখরভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের উপর সবরকমের সশস্র সন্ত্রাসী নির্যাতন, নিপীড়ন থেমে থাকে নি। আমরা সচেতন শিক্ষিত জনগণ পাহাড়ী সংখ্যালঘু জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক অনাচারের বিপক্ষে এখনো পর্যন্ত কোন সক্রিয় আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারি নি। তাদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে আমরা যথেষ্টই নির্বাক, নিষ্ক্রিয়।

কথায় কথায় সাদা চামড়াদের দিকে অবলীলায় অঙ্গুলি তুলে আমরা যখন তাদের বর্ণবাদী তকমা দিই, তখন একবারও কি আমরা ভেবে দেখেছি, আমরা কত বড় বর্ণ-বিদ্বেষী ও বৈষম্যবাদী, তা সে নিজের বর্ণ-ধর্মের লোকদের প্রতিই হোক বা অন্য বর্ণ বা ধর্ম বা জাতির প্রতিই হোক?

সাভার ডেইরী ফার্ম এলাকায় বেলী চাকমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। তার বাবা সেখানে চাকুরি করতেন। বেলীর ছোট ভাইটাও আমাদের পরিচিত ছিল। তারা বললো, তাদের প্রতিবেশীরা তাদেরকে ভাল চোখে দেখে না, অবজ্ঞার-অবহেলার চোখে দেখে, কটুক্তি করে। প্রতিবেশীরা বলে, বেলীরা ইঁদুর, সাপ এসব খায়। সুতরাং বেলীদের তাচ্ছিল্যভরে দূরে সরিয়ে রাখে। এরা কিন্তু তাদের শিক্ষিত প্রতিবেশী। অথচ আমরা ক্লাসের সব ছাত্র-ছাত্রীরা বেলীর সাথে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্কে আগা-গোড়া বজায় রেখে চলেছি। কোন রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অবজ্ঞার চোখে মোটেও তাকে দেখিনি। বরং আমাদের দু’সহপাঠিকে তার প্রণয়াঙ্কাংখীও হতে দেখেছি। পড়াশুনা শেষে পরবর্তীতে আমাদের কেউ কেউ রাঙ্গামাটি বেড়াতে গিয়ে বেলীর খোঁজ করেছি। সে সেখানে এক স্কুলে শিক্ষকতা করছে।

মাঝে মাঝে বন্ধু-বান্ধবদের কাছে শুনি রাঙামাটি, বান্দরবন এলাকায় স্থানীয় বাঙালি বাস ড্রাইভাররা কীভাবে আচরণ করতো সংখ্যালঘু পাহাড়িয়াদের সাথে। একজনের মুখে শুনেছিলাম, তাদের বাসের আসনে বসার অধিকারই নেই। এক আদিবাসী ক্লান্ত বৃদ্ধ বাসের সিটে গিয়ে বসলে, বাস কন্ডাক্টর তাকে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় অকথ্য গালিগালাজ করে আসন থেকে উঠতে বাধ্য করে। তার কথা শুনে আশ্চর্য হলেও বুঝে নিয়েছি, যে জাতি তাদের স্বজাতের বাসার গৃহকর্মীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে, তাদের ঠিকমত খেতে দেয় না, চেয়ার-সোফায় বসতে দেয় না, ভোরের আলো ফোঁটার আগ থেকে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত যারা গৃহকর্মীদের বাসা-বাড়িতে খাটিয়ে মারে, আদিবাসীদের প্রতি তাদের আচরণ এমনই তো হওয়ার কথা। আর পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব সৈন্য-আধাসৈন্য ‘৮০-র দশকের উত্তপ্ত সময়ে ছিল, তাদের আচরণ পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর একাত্তরে বাঙালীদের প্রতি যেরূপ করেছিলো, তার থেকে কোন অংশে কম ছিলো কি? এসব অনাচারের কোন রকমের বিচার কি হয়েছে এখন পর্যন্ত? ভবিষ্যতেও কি হবার সম্ভাবনা আদৌ আছে? আর নেই বলেই তো ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নটা সামনে এসে গেছে, যেমন আমরা পাকিস্তানিদের আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে যাই।

জনাব অমিত চাকমার বক্তব্যে সে সময়টার উল্লেখ আছে। যদি আমি ভুল শুনে না থাকি, তিনি সেদিন তার বক্তব্যে বলেছেন, যে আর্মিদের ধাওয়া তিনি খেয়েছিলেন একসময়, সেই আর্মিরাই তাকে এখন তাদের গাড়িতে করে রাঙ্গামাটি নিয়ে যায়, যা আইরনিক (ironic)। আদিবাসী বা সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরু বাংলাদেশি বাঙালি মুসলমানদের এই নির্যাতন অধ্যাপক চাকমাকে কতটুকু বিচলিত করেছে, সেটা আমার জানা নেই। কিন্তু এতটুকু বলা যায়, তাকে যতটুকু দেখেছি বা জানি, তিনি সব কিছুর উপর ব্যক্তি মানুষ এবং তার সুষ্ঠু উন্নয়ন ও বিকাশকে আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করেন, গুরুত্ব দেন, এবং উপলব্ধি করেন। তিনি যেমন নিজের বিকাশকে শীর্ষ স্তরে নিয়ে গেছেন, তেমনি ব্যক্তি মানুষের উন্নতিকে সর্বদা শ্রদ্ধার চোখে দেখে যাচ্ছেন। আমি বলবো, এখানেই তিনি মহৎ।

IMG-20140913-00259

যার কারণেই, সংখ্যাগুরু বাংলাদেশি মুসলমানদের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন ব্যক্তি মানুষের মূল্যায়নেই রয়ে গেছে। তার অর্থ তিনি আদিবাসী বা সংখ্যালঘুদের উপর বাঙালি মুসলমানদের নির্যাতনকে পুরো বাংলাদেশি মুসলমানদের নির্যাতন হিসেবে দেখেন নি। যদি দেখে থাকতেন, তাহলে এখন তিনি যে পর্যায়ে আছেন, সে পর্যায় থেকে অবলীলায় এইসব বৈষম্য, অন্যায় এবং নির্যাতনের কথা আমাদের সেভাবে জানান দিয়ে যেতেন। বলতে পারতেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম নির্যাতনের জন্য বাংলাদেশি মুসলমানদের ক্ষমা চাওয়া উচিত, যেভাবে আমরা পাকিস্তানিদের সম্পর্কে বলি। পাকিস্তান ক্রিকেট দল খেলতে এলে যেভাবে তাদের সমর্থনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলি এবং কোন পাকিস্তানি দেখলে তাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতেও কুন্ঠিত হই।

আমি বলছি না, সব বাংলাদেশিদের মধ্যে এরকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বাংলাদেশে আজ এক ধরণের মেরুকরণ হয়ে গেছে। স্বাধীনতার ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ এক পক্ষের মধ্যে আর কোন রকম কাজ করছে না, সেখানে দাঁড়িয়ে গেছে মুসলিম জাতীয় মূল্যবোধ। সে অংশের মানুষদের পাকিস্তান-প্রীতি মুসলমান ভ্রাতৃত্ববোধকেই সমুন্নত করার এক কৃত্রিম প্রচেষ্টা। আর অন্যদিকে যারা রয়েছেন, তারা হাজার বছরের বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার মধ্যে নিহিত ধর্মনিরপেক্ষতায় উজ্জ্বীবিত হয়ে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতেই পাকিস্তানিদের ‘৭১-র হত্যাযজ্ঞ ধ্বংস ধর্ষণ অত্যাচারকে এখনো ক্ষমা করতে পারছেন না। পাকিস্তানিদের এখনো সচেতনভাবে শত্রু বলে জ্ঞান করি। অধ্যাপক অমিত চাকমা এসবের অনেক উর্ধ্বেই অবস্থান করছেন বলে আমার ধারণা। নতুবা পাকিস্তানিদের প্রতি ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা এখনো বুকের গভীরে যে একধরণের ক্ষোভ পোষণ করে চলেছে, তার বিন্দুমাত্র আমাদের প্রতি ওনার আছে বলে মনে হয় নি। আবারও বলছি, সমষ্টিগত নয়,ব্যক্তিমানুষের প্রতি তার ভালবাসা, আবেগ এবং বিশ্বাসই তাকে আজ সন্মানের এই উচ্চ শিখরে আরোহণ করিয়েছে এবং সেই আলোকেই তিনি বাংলাদেশিদেরও বিচার করে গেছেন বা যাচ্ছেন। আর এ ধরণের জাতিগত বিদ্বেষের পেছনে যে রয়েছে প্রকৃত শিক্ষার ভয়াবহ রকম শূন্যতা, একজন একাডেমিক হিসেবে তা নিশ্চয় তিনি ভালভাবে জেনে গেছেন।

ক্যানাডা অভিবাসীদের দেশ হওয়াতে অধ্যাপক অমিত চাকমার সমাজ বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে বিকশিত হওয়ার সুযোগটা ত্বরাণ্বিত হয়েছে। উনি যেমন অন্য সবকিছুর উর্ধ্বে থেকে শুধু ব্যক্তি মানুষের ভেতরের শক্তি, সৌন্দর্যকে মূল্যায়িত করে গেছেন, ক্যানাডা সে দৃষ্টিভঙ্গির পরিপূরক হওয়াতে তার সফলতার শিখরে আরোহণ ও দ্রুত হয়েছে। কোন ধরণের বৈষম্য বা বাধা তার চলার পথকে দাবিয়ে রাখতে পারে নি। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন, তার পরিশ্রম, মেধা, ব্যক্তিত্বের সবলতা এবং উৎসাহ দিয়ে। তাকে দেখে কখনোই আমার হত্যোদমী মানুষ মনে হয় নি। বন্ধু বৎসল, হাস্যোজ্জ্বল্‌, এক কাছের মানুষ মনে হয়েছে। তিনি মানুষকে তার স্বভাবসূলভ আচরণে উৎসাহিত বা প্রভাবিত করতেও পারেন। এত কিছু বলার কারণ, ওনার সাথে আমার প্রথম পরিচয়, ‘৯০-এর দশকের প্রথমভাগে ক্যালগেরিতে। তখন তার পুরো নাম জানতাম, অমিতাভ চাকমা।

কিন্তু যখনই শুনি, তিনি পশ্চিমা বিশ্বে বা বিদেশ-বিভূঁইয়ে বা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আসীন হয়ে বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করছেন, তখনই খটকা লাগে। আসলেই কি?

তাহলে এবার পিছ ফিরে যেতে হচ্ছে। ৯০-এর দশকেই সম্ভবতঃ ‘৯৫ কি ‘৯৬-এ ক্যালগেরির এক দৈনিক, ক্যালগেরি সান (Calgary Sun)-এ ড. অমিত চাকমার একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল। সেই সময়ে তার সাফল্যকে সেই পত্রিকা হাইলাইট করে সে সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। বিদেশ-বিভুঁইয়ে ঐ সাক্ষাৎকার পড়ে এক লজ্জার অনুভূতি আমাকে আবৃত করেছিল। আমাদের দেশেরই একজন মানুষ। তার সফলতার গৌরব গাঁথা বর্ণনা করা হচ্ছে। অথচ আমি কী না নিরংকুশভাবে সে গৌরব গাঁথার আনন্দ ভাগ করে নিতে পারছি না। একটা কাঁটা বিঁধে গেছে আমার গর্বে, আমাদের স্বাধীনতার সেই গৌরব-গাঁথায়। পত্রিকার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী লেখক/সাংবাদিক নিঃসংকোচে বলে ফেললেন যে,অমিত চাকমা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, যেখানে তার জাতিগোষ্ঠি সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে পারসিকিউটেড(persecuted) হচ্ছে।

পারসিউকিশানের (persecution) পুরো অর্থটা সে সময় বুঝে উঠিনি, পড়ার সময় এতটুকু বুঝতে পেরেছি আদিবাসী চাকমা-দের উপর নির্যাতনকে বোঝানো হচ্ছে। অভিধানে অর্থ খুঁজলে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো। কারো সাথে তার বর্ণ,ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে নিষ্ঠুর অন্যায় আচরণ করলে তাকেই পারসিকিশান বলা হয়। সুতরাং আমরা অধ্যাপক অমিত চাকমা-কে নিয়ে গর্ব করলেও এই দেশ কি জানে না, আমরা বাংলাদেশি মুসলমানরা আদিবাসীদের সাথে কেমন আচরণ করছি?

সাক্ষাৎকারটি অধ্যাপক চাকমার কঠিন এবং কষ্টকর পরিশ্রমী অতীতকে তুলে ধরে। যেমন, আলজিয়ার্সে ছাত্র হিসাবে থাকাকালীন তিনি বন্ধু, পরিবার পরিজনহীন হয়ে প্রচন্ড একঘেঁয়ে নীরস জীবন অতিবাহিত করছিলেন। এই অবস্থায় তিনি তার বাবার কাছে চিঠি লেখেন যে, তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান। সে সময় অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের কারণে তার বাবা উত্তর দেন, দেশে তোমার জন্য কিছুই অপেক্ষা করছে না। অগত্যা এক কষ্টকর স্বজনহীন একাকীত্বসম ছাত্রজীবনকে তার মেনে নিতে হয়।

ক্যালগেরি সান, অমিত চাকমার এই কঠোর পরিশ্রমী জীবনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সাক্ষাৎকারের শেষ লাইনটি এমনি লিখেছে, আমরা কী অমিত চাকমার মত এমন আরো অভিবাসী বেশি বেশি করে এই দেশে পেতে পারি না!