ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

The real question is not whether life exists after death; the real question is whether you are alive before death. – OSHO


হে চাপাতি চালানো মুমিন মুসলমানগণ!

তোমরা কি তোমাদের পূর্বপুরুষদের দুর্দশার অবস্থা স্মরণ করো নাই? তোমরা কি চাপাতির কোপানো পথ পরিত্যাগ করিয়া শান্তির পথের অনুগামী হইবে না? তোমাদের কি এই কথা মনে করাইয়া দিতে হইবে যে, হত্যা হত্যাই ডাকিয়া আনে। আফগানিস্তানে তোমাদের তালিবান ভ্রাতৃবর্গের কী অবস্থা হইয়াছে, তাহা নিশ্চয়ই ভুলিয়া যাও নাই! স্বীকার করি যে, আমেরিকার নাছারাদের আফগানিস্থানে যথেচ্ছভাবে ভয়াবহ বোমা হামলায় অনেক নিরীহ নিরপরাধ নারী-পুরুষসহ মাসুম বাচ্চা নির্মমভাবে ইহলোক ত্যাগ করিয়াছে। সেই সাথে তোমরা তো বিপুলভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছো। একবার চিন্তা করিয়া দেখো, তাহার জন্য প্রথমতঃ দায়ী কে? কেনই বা পুরো বিশ্বকে তোমরা অস্থির করিয়া তুলিলে? তাহাতে লাভের চাইতে কি ক্ষতিটাই মানব সম্প্রদায়ের বেশি হয় নাই? তোমাদের উস্কানীমূলক কর্মে এত নিরীহ মানুষের প্রাণ প্রদীপ নিভিয়া যায় নাই?

শুনিয়াছি তোমরা আল্লাহ্‌র পথে জীবন উৎসর্গ করিয়া শহীদ হওয়াকে খুব সন্মানজনক মনে করো। তোমরা পরকালে আবার নতুন করিয়া জীবন প্রাপ্য হইবে বলিয়া বিশ্বাস করো। তাহা তো বিশ্বাসীদের জন্য বড়ই সুখের। তবে কোন যুদ্ধে তোমরা এই জগতের মানব সন্তানদের প্রাণ-সংহার করিতেছো?

তোমরা কি দেখিতে পাইতেছো না, একবার এই জগৎ হইতে বিদায় নিলে কেউ আর এই জগতে ফিরিয়া আসিতে পারে না? তবে কেন তোমরা অর্থহীনভাবে¬ এই প্রাণসংহার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখিয়াছো। ধারণা করিতে পারিতেছি, তোমরা কোন এক অদৃষ্ট বলে আকর্ষিত হইয়া বেহেশ্‌তের লোভময় আকর্ষণে এই নরহত্যায় মাতিয়া উঠিয়াছো। এক অজানা সর্বশক্তিমানের ভয়ে থর থর করিয়া কাঁপিতেছো কি? অথচ দেখো, তোমাদের জন্য জান্নাত নির্দিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তোমরা কাপুরুষের মত পশ্চাৎদিক হইতে আসিয়া মধ্যযুগীয় কায়দায় নরহত্যা সম্পাদন করিবার পরও এই পৃথিবীতে বাঁচিয়া থাকিবার জন্য পলায়নপর রহিয়াছো। যদিও জানি, ধর্ম তোমাদের বলিয়াছে, জান বাঁচানো ফরজ। তবে কি কাপুরুষের মত পলায়নপর জীবন লইয়া বাঁচা ফরজ করা হইয়াছে? তবে তো তোমরা মানুষের ভয়ে গা-ঢাকা দেবার ছবক রপ্ত করিয়াছো।

অথচ তোমরাই বলো, তোমরা এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করো না। তাই অবশ্যই প্রশ্ন দেখা দিয়াছে, তোমরা সুপুরুষ বা সাহসী নও কেন? তোমাদের সর্বপরাক্রমশীল সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ থাকা সত্ত্বেও, বলতো তোমরা কেন বীরের মত সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হইতে পারিতেছো না? তোমাদের পরাক্রমশীল বীরেরা কি তোমাদের জন্য এই শিক্ষাই রাখিয়া গিয়াছেন?

মহানবীর কালে তাহার নির্দেশে আরবের তিন কবিকে গুপ্ত ঘাতকেরা হত্যা করিয়াছে বলিয়া জানিয়াছি। তাহাদের মধ্যে একজন বয়োবৃদ্ধ এবং একজন পাঁচ সন্তানের মা-ও রহিয়াছেন বলিয়া পড়িয়াছি। সাম্প্রতিককালে তোমাদেরই গুপ্ত হত্যার শিকার অভিজিৎ রায়, তাহার “বিশ্বাসের ভাইরাস” গ্রন্থে উপযুক্ত উদ্ধৃতি এবং রেফারেন্স সহকারে এই বিষয়টিকে তুলিয়া ধরিয়াছেন [পৃষ্ঠা – ৫০]। খুব স্বাভাবিকভাবে আশা করিয়াছিলাম, অভিজিৎ রায় যদি মিথ্যা তথ্য দিয়া থাকেন, তাহার বিপরীতে তোমরা কলম ধরিবে। আরেকটি গ্রন্থ রচনা করিয়া তাহার মিথ্যার বেসাতিকে জনগণের কাছে উন্মোচন করিবে। কিন্তু না, তাহা না করিয়া তোমরা তাহার প্রাণসংহার করিলে, যেভাবে গুপ্ত ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্দয়-নৃশংসভাবে নবীজির জীবদ্দশায় আরবের তিন কবির জীবন নাশ করিয়াছে। অথচ মৃত মানুষের জীবন ফিরাইয়া দিবার ক্ষমতা তোমাদের যেমন নাই, নবীজিরও তেমন নাই। আমি বিশ্বাস করিতে বাধ্য হইবো কি, তোমরা নবীজির সেই সময়ের গুপ্ত হত্যাকে পূর্ণোদ্যমে অনুসরণ করিয়া চলিয়াছো? এই রকম গুপ্ত হত্যা কাহারা, কখন করে, তাহা কি তোমরা স্পষ্ট করিয়া তুলিতেছো না?

হে দুর্মর পামর! দুরাচার!
তোমরা কি এতই অক্ষম, দুর্বল হইয়া পড়িয়াছো যে, বিরুদ্ধবাদীদের মোকাবেলায় সবচেয়ে ঘৃণ্য, নিম্নমানের জঘন্য পন্থা অবলম্বন করিতেছো? তোমরা কি জানো না, তোমাদের পূর্ব-পুরুষরা এইরকম পন্থা অবলম্বন করিয়াছে বলিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষরূপী শয়তান হিসেবে পরিগণিত হইয়াছে। তাহারাও মনে করিয়াছে ’৭১-এ বুদ্ধিজীবি হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার চাকাকে থামাইয়া দিবে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা মুখ থুবড়াইয়া পড়িবে। আসলে কি তাই হইয়াছে? বাংলাদেশের মানুষ সে সংকটকে কাটাইয়া আজ সেই মানুষরূপী শয়তান, তোমাদের পূর্বসুরীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইয়াছে। শুধু বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে নয়, বিশ্ববাসীকে তাহাদের অন্যায়-অবিচারের ঘৃণ্য বিবরণ অবহিত করিতেছে। এতে কি তোমাদের মত করিয়া লালিত শান্তির ধর্মের বড় উন্নতি হইতেছে? তোমরা কি দিন দিন কোনঠাসা হইয়া পড়িতেছো না? মানুষের কাছ হইতে তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ছাড়া আর কিইবা অর্জন করিতে পারিতেছো? এতে কি তোমাদের দেখানো ধর্ম চর্চার মাহাত্ম্য বাড়িতেছে? যদি এখনও তোমাদের মাথায় সামান্যতম সুস্থ মগজ থাকিয়া থাকে তবে একবার ভাবিয়া দেখ তো!

সম্ভাব্য ‘বাংলাস্থান’-এর পতাকা – ছবি: অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত

হে ইসলাম ধর্মের ধারকরূপী বিপথগামী অমানুষরা!
তোমরা কি ভুলিয়া গিয়াছো, যে কোন প্রগতিশীল আদর্শ বাঁচিয়া থাকে তাহার অন্তর্নিহিত শক্তির কারণে। শত প্রতিকূলতাও সে শক্তিকে দাবাইয়া রাখিতে পারে না। নিরীশ্বরবাদী বা অন্য ধর্মাবলম্বীরা তোমাদের ধর্ম বা ধর্মের প্রচারকের বিরুদ্ধে কোন কটুক্তি বা নিন্দাবাক্য করিলেই যদি তোমাদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত লাগে, তবে বুঝিতে হইবে, সেটা তোমাদের ধর্মবিশ্বাস বা ধর্মের ভেতরে সংকটের কারণে। বাপ-মাকে উদ্দেশ্য করিয়া গালাগালি করিলে যেমন অন্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করা, হত্যা করা একটা বাজে শিক্ষা, তেমনি তাহা একটা মহা অপরাধ। পৃথিবীর কোথাও গালাগালি-কটুক্তির জন্য নরহত্যাকে উৎসাহিত করা হয় নাই।

কেউ যদি তার ধর্ম, সৃষ্টিকর্তা এবং নবীকে অপমান করা হইয়াছে বলিয়া অন্যকে হত্যা করার মত ঘটনার জন্ম দেয়, তবে বুঝিতে হইবে তাহার সেই ধারণ করা আদর্শ অতিশয় বিপদজনক এবং ভয়ংকর। এই পৃথিবীতে মানুষের প্রাণটা সৃষ্টিকর্তার মূল্যবান নেয়ামত বলিয়া তোমরা প্রচার করো। সেই আশরাফুল মুখলুকাতকে কত সহজে পৃথিবী হইতে নির্মুল করিতেছো। তোমাদের মুখেই বড় বড় করিয়া শুনিয়াছি, একজন মানুষকে হত্যা করা না কি একটা মানব জাতিকে হত্যা করা। আর নিরীশ্বরবাদীরা তো পরকালের অপেক্ষা না করিয়া শুধুমাত্র এই পৃথিবীতেই তাহাদের জীবনকে সব কিছু মনে করিতেছে এবং সেইভাবে তাহারা তাহাদের জীবনকে সাজাইতেছে সর্বমানবের সুখের জন্য। ইহাতে যদি তাহারা তোমাদের চোখের কাঁটা হইয়া যায়, তবে কি সেটা ভয়াবহ নয়? যতদূর জানি, ধর্মও বলিতেছে, এই জগতে মানুষের জন্য মঙ্গলজনক এবং কল্যাণকর কর্মই পরকালে বেহেশ্‌ত নিশ্চিত করিবে। নিরীশ্বরবাদীদের চিন্তাও যেহেতু মানুষের সর্ব মঙ্গলের জন্য, তাহা হইলে, অন্ততঃপক্ষে এই ইহকালের বিষয়-আশয়ে তোমাদের সাথে তাহাদের কোন দ্বন্ধ বা বিরোধ হওয়ার কথা নয়। তবুও হইতেছে কেন, একবার ভাবিয়াছো কি?

নিশ্চয়ই আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি, তোমাদের ধর্ম বিশ্বাস এবং চর্চার ভেতর কোথাও না কোথাও মহা গলদ রহিয়াছে। কেননা তোমাদের মত নোংরা রুচিবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ বেহেশত বা জান্নাত বলিয়া কোন শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোৎকৃষ্ট স্থানে প্রবেশ করিবে, তাহা আমি বিশ্বাস করিতে পারিতেছি না। একজন পরিচ্ছন্ন রুচিবোধ এবং উন্নত মান ও দৃষ্টিভঙ্গির মানুষই কোন সর্বোৎকৃষ্ট স্থানে উপনীত হইবার অধিকার প্রাপ্ত হয়। সেই রকম উৎকৃষ্ট মানব হওয়া হইতে তোমরা অনেক দূরে অবস্থান করিতেছো। নিশ্চয়ই তোমাদের ভাষায় এবং ব্যাখ্যায় তোমরা শহীদ হইলেও তোমাদের জন্য জান্নাত বা নিদেনপক্ষে বেহেশ্‌তে উপযুক্ত স্থান সংরক্ষিত থাকিবে না।

তোমাদের আদর্শ যদি সর্বোৎকৃষ্ট হয়, তবে কে, কি বলিয়াছে, তাহাতে তো তোমাদের মাথা ব্যথার কারণ হইতে পারে না। কারণ, সত্য তো দিনের আলোর মত পরিষ্কার হইবে এবং মাথা তুলিয়া সকল অন্যায় এবং কুৎসার বিরুদ্ধে নিজের ভেতরের শক্তিতেই জাগিয়া উঠিবে। তোমাদের জয় অবশ্যম্ভাবী হইয়া দেখা দিবে। সেখানে অন্যের উপর আক্রমণ করা, ধর্মকে অন্যের উপর চাপাইয়া দেয়া, রক্তের নেশায় মাতিয়া উঠা কোন ধর্মের সভ্য ব্যক্তিবর্গের আচরণ হইতে পারে না। বরং তোমরাই তোমাদের ধর্মের শান্তির বাণীকে অশান্তি এবং হিংসার বাণীতে পরিগণিত করিতেছো। যাহার জন্য আজ পৃথিবী জুড়িয়া ইসলাম ধর্মের সপাটে কাটা-ছেঁড়া চলিতেছে! আর তাহা হইতে কি বাহির হইয়া আসিতেছে, একবারও কি চক্ষু মেলিয়া দেখিতেছো? পারিলে সে সবের উত্তর জগৎবাসীকে জানাইয়া দিতে তোমাদের এত দ্বিধা কেন? অন্যের উপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করাটা খুব সহজ একটি বিষয়ে পরিগণিত করিয়াছো। তোমরা নিম্নগামিতার দিকে দ্রুত ধাবমান হইতেছো কেন?

হে ধর্মীয় ছদ্মবেশী অজ্ঞান ইবলিশ!
নিশ্চয়ই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞ, সর্বজ্ঞানী। তবে তো তোমাদের ক্ষতি কিছুই হওয়ার নয়। তোমরা কি সর্বজ্ঞানীর আশীর্বাদ পুষ্ট নও? যদি আশীর্বাদ পুষ্টই হইতে তবে তো নিরীশ্বরবাদীদের যুক্তি-তর্কের উপযুক্ত উত্তর দিতে পারিতে। তাহাদের প্রশ্ন, কৌতূহল, বা বিরুপ বক্তব্যের উপযুক্ত জ্ঞানের মাধ্যমে যথার্থ জবাব দিতে পারিতে। তোমরা কি সুনিশ্চিত নও যে, যদি কোন সর্বজ্ঞানী থাকেন, তিনি তোমাদের প্রতি মোটেই সদয় নন? আর তাই জ্ঞানের উত্তর জ্ঞানে না দিতে পারিয়া ক্রোধে অন্ধ হইয়া ভিন্ন মতাবলম্বীকে হত্যাকেই সুবিধাজনক এবং সহজ সমাধান মনে করিতেছো। তোমরা কি তবে ব্যর্থ এবং অভিশপ্ত নও? তোমরা কি তোমাদের ধর্ম ও আদর্শকে নিরীশ্বরবাদীদের যুক্তি এবং আদর্শের কাছে পরাস্ত করিতেছো না?

হে ভন্ড অসৎ মূঢ়!
তোমরা তো সাধারণ জ্ঞানে স্বাভাবিক সত্যকে উপলব্ধি করিতে পারিতেছো না। নিরীশ্বরবাদীদের যুক্তি ও তর্কের প্রতিকূলতা মোকাবিলা যদি অন্যের প্রাণ সংহারের মাধ্যমে ঘটিয়া থাকে, তবে বুঝিতে হইবে, হয় তোমাদের পালনকারী এবং তাহার প্রদত্ত আদর্শ দুর্বল, নয়তো তোমাদের কর্মকান্ডই তোমাদের সৃষ্টিকর্তাকে খর্ব করিতেছে। তোমরা নিরীশ্বরবাদীদের চাইতে ভিন্নমত পোষণ করো বলিয়া নিরীশ্বরবাদীরা কি তোমাদের প্রাণনাশে প্রস্তুত হইয়াছে? তোমাদের পক্ষের ব্লগার-ফেসবুকাররাও কিন্তু অনলাইনে বিচরণ করিতেছে। তাহাদের নাম-ঠিকানাও কম-বেশি জানা আছে। কিন্তু তাহাদের উপর আদৌ হুমকি বা আঘাত আসিতেছে কি? কলমের যুদ্ধ নিরীশ্ববাদীরা কলমেই করিতেছে। কিন্তু তোমাদের কর্মকান্ডে তোমাদের সর্বশক্তিমান আজ মানব সমাজে নৈতিকভাবে সর্বদুর্বলতম অভিধায় ভূষিত হইতে শুরু করিয়াছে। কী লজ্জা! ধিক তোমাদের!

হে চাপাতিপ্রাণ মুমিন মুসলমানগণ!
তোমাদের ধর্ম, নবী বা সৃষ্টিকর্তাকে কটুক্তি করিলেই দোষের হয়। আর তোমরা যে অন্য ধর্মাবলম্বী ও নিরীশ্ববাদীদের লইয়া অহরহো কৌতুকে রত থাকো, কটুক্তি করো, তখন কি তাহাদের বিশ্বাসের অবমাননা হয় না? আর তোমরা মিথ্যা ধর্মানুভূতির ধুয়া তুলিয়া মানব সমাজ বা মানবতার অন্যান্য সব প্রাকৃতিক অনুভূতিকে যে প্রতিনিয়ত বলাৎকার করিতেছো, তাহা কি তোমাদের বিবেক এবং অন্তর্চক্ষু ও বহির্চক্ষুতে গোচরীভূত হইতেছে না? তাহা হইলে তোমরাই বলো, আল্লাহ কাহাদের অন্তরকে স্বাভাবিক দর্শন হইতে মুদিয়া রাখিয়াছে?

তোমাদের ধর্ম এবং ধর্মানুভূতি খুবই ঠুনকো বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে। ক্রোধ, ইগো, অন্ধত্বই সবার উর্ধ্বে উঠিয়া আসিতেছে। ভাবনা্র এক বিষাক্ত জগৎ তোমাদের মস্তিষ্কে এমনিই এক বদ্ধতা তৈরি করিয়া রাখিয়াছে, তোমরা তাহার বাহিরে স্বাভাবিক চিন্তা, বোধ এবং বিবেককে জলাজ্ঞলি দিযাছো। যাহা সহজ সরল প্রাকৃতিক, তাহা হইতে দূরত্ব তৈরি করিয়া চলিয়া বদ্ধ জলাশয়ের পচনশীলতাকে উত্তম বা শ্রেয় মনে করিতেছো। হায়, তোমাদের স্থূল মস্তিষ্ক যথেষ্ট উর্বর নয় বলিয়া কি তোমরা চাপাতিহস্ত হইয়া অন্যের উর্বর মস্তিষ্কের মগজ বিদীর্ণ করিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছো?

আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি, তোমরা আল্লাহ নও, এই বৃহদাকার মানবগোষ্ঠীকে ভয়ানকভাবে ভয় করো। এই কারণে তোমরা পুরোপরিভাবেই অন্ধকারবাসী। অন্ধকারের প্রাণীরাই আলোর জগতের মানুষকে নিদারুণ ভয় পায়। আলোতে তোমাদের চক্ষু অন্ধ হইয়া পড়ে বলিয়া আলোর জগতের মানুষকে মারিতে হন্য হইয়া উঠো। কী নির্মম অধঃপতন! তোমাদের এই অধঃপতন মানবজাতি যুগে যুগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখিয়া আসিতেছে। ’৭১-এ দেখিয়াছে বাংলাদেশে ধর্মের নামে মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণ। কিন্তু তোমরা কি জয়ী হইতে পারিয়াছো? অন্ধকারের প্রাণী আবার অন্ধকারে পলায়ন করিয়াছে।

অভিজিৎ রায়ের “বিশ্বাসের ভাইরাস” বইটি পড়িতে পড়িতে আমার মনে একটি প্রশ্নের উদয় হইয়াছিল। নবীজি ভালভাবে জানিতেন, দাসপ্রথা একটা অসন্মানজনক ঘৃণ্য বড়ই নিষ্ঠুর অমানবিক প্রথা। দুই-একজন দাস-দাসীকে মুক্তি দিয়া বা বিবাহ করিয়া দাস-দাসীকে উপযুক্ত মর্যাদা দানের দৃষ্টান্ত স্থাপনের পরিবর্তে পুরো দাসপ্রথাকে বিলুপ্ত/নিষিদ্ধ/হারাম কেন আল্লাহ্‌র পেয়ারা নবী করিলেন না, এই প্রশ্নটা আমার মনে তীব্রভাবে হানা দিয়াছে। শুকরের মাংস হারাম বলা হইয়াছে বলিয়াই তো তা গ্রহণ করা হইতে মুসলমানরা বিরত রহিয়াছে। যদি যুদ্ধ জয়ের পরে পরাজিত পুরুষ এবং তাদের স্ত্রী-কন্যাকে নবীজি উপযুক্ত মর্যাদা দানের কথা বলিতেন, তবে কি আর আমাদের যুদ্ধবন্দীদের মর্যাদা রক্ষার্থে জাতিসংঘের ‘প্রিজনার অব ওয়ার’ সনদের জন্য অপেক্ষা করিতে হইতো? দাসপ্রথা রদ এবং পরাজিত রাজ্যের সাধারণ নারী-পুরুষদের মানবিক অধিকার সংরক্ষণ করিতে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত সংগ্রাম করিতে হইতো না। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মা-বোন-কন্যাদের ‘গণিমতের মাল’ বলিয়া ব্যবহার করিবার দুঃসাহস, ধর্মের ভয়ে ভীত মুসলিম নামধারী ধর্মব্যবসায়ী ভন্ড রাজনীতিবিদরা দেখাইতে পারিত কি? ইসলাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রোপাগান্ডা চালাইয়া পাক হানাদাররা বাঙালি মা-বোন-কন্যাদের ইজ্জত লুন্ঠন করিবার দুঃসাহস পাইতো কি? নিরীহ-নিরপরাধ নারী-পুরুষকে নির্বিবাদে হত্যা এবং ঘর-বাড়ি লুন্ঠন করিবার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করিতে তাহাদের বুক কি কাঁপিত না?

হিটলারের নাৎসী বাহিনীর সাথে তোমাদের তুলনাও করা সম্ভব হইতেছে না। তোমাদেরকে ‘নরকের কীট’ বলিলেও যথার্থ ব্যাখ্যা হয় না। তোমরা যেভাবে অন্ধকার হইতে আসিয়া নিরীশ্বরবাদী এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা করিয়া আবার অন্ধকারে লুকাইতেছো, তাহাও বেশিদিন কার্যকরী হইবে বলিয়া আমি ধারণা করি না। কোন রকমের অন্যায়-অসত্য-অসভ্য আচরণ ইতিহাসে দীর্ঘায়িত হয় না। উপযুক্ত প্রতিরোধ, প্রতিক্রিয়া সময়মতো গড়িয়া উঠে। তোমাদের এই মরণ কর্মকান্ড অব্যাহত থাকিলে তাহার প্রতিকার নির্ঘাত অতি আসন্ন হইয়া উঠিবে। তোমাদের বিকৃত অসত্য এবারও জয়ী হইবে না, তাহাতে নিশ্চিত থাকো। বিপথগামী তোমাদের জন্য আল্লাহ জান্নাত তো দূরে থাক, সামান্য বেহেশতও মজুত রাখিবে না। তোমরা মনুষ্য নামের খুব বড় মাপের শয়তান বা তাহার বংশধর। তোমাদের পতন অবধারিত! ধ্বংস তোমাদের অনিবার্য!!!