ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এ প্রশ্নের মিমাংসা হয়েছে দীর্ঘ ৪২ বছর পূর্বে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা‘র ‘বিপক্ষ‘ শব্দ এখানে আর আসবে কেন?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কি জার্মানে এডলফ হিটলারের ‘নাজি পার্টি‘ বা ন্যাশনাল সোসালিস্ট ওয়ার্কারস পার্টি কি রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে? বা হিটলারের আদর্শ নিয়ে কেউ কোন উচ্চবাচ্চ করতে পারছে?

এমনকি ইটালী‘র ডিক্টেটর বেনিতো মুসোলিনী‘র ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি কি এখনো ইটালিতে রাজনীতি করছে? তাদের কোন অনুসারী কি তাদের পক্ষে কথা বলার সাহস রাখে?

জার্মানী বা ইটালী, দু‘টোই তো সভ্য দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত কোন শক্তি‘র কোন অস্তিত্ব নেই দেশ দু‘টোতে। কোন অনুসারী‘র দেখা পর্যন্ত পাওয়া যায় না। যুদ্ধোত্তর দেশ দু‘টির পরবর্তী নেতারা শুধু নন, সারা বিশ্বের বিজয়ী শক্তি হিটলার আর মুসোলিনীর অনুসারীদের খুঁজে খুঁজে বের করেছে আর মানবতা বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছে। যুদ্ধোত্তর বিজয়ী শক্তি কি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে নাকি মানবাধিকারকে লালন করেছে? এই বিচার অবশ্যই মানবাধিকারকে আরো এগিয়ে নিয়েছে। এখনো দেশে দেশে পরাজিতদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে। এটাই মানব জাতির আকাঙ্খিত।

কিছুদিন আগের কথা, আধুনিক যুগে খোদ ইউরোপে মার্চ ১৯৯২ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৫ পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় যুদ্ধাপরাধের জন্যে ইউরোপে এর হোতাদের বিচার হয়েছে।

ইদানিং বাংলাদেশে স্বাধীনতার ‘পক্ষ‘ আর ‘বিপক্ষ‘ শক্তি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এই ‘বিপক্ষ‘ শব্দটি আলোচনায় কেন আসবে? স্বাধীনতার বিরোধী জামায়াত আর মুসলিম লীগ‘র তো রাজনীতি করার কোন অধিকারই নেই। ‘৭২ সালের সংবিধানেও সেই অধিকার দেয়নি। তারপরও ‘৭৫‘র বঙ্গবন্ধুর দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তৎকালিন সামরিক সরকার আইনী সহায়তা দিয়ে এই সংগঠগুলোকে রাজনীতিতে পূনর্বাসন করেছে এবং পরবর্তীতে লালন পালন করে আরো বলিয়ান হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে যা আজ দেশের জন্যে কাল হয়ে দাড়িয়েছে। এদের রুখতে হবে যে কোন মূল্যে।

আমাদের দেশের জন্যে আরো দুঃখজনক যে, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সেক্টর কমান্ডারের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এখনো এদের নিয়ে জোট গঠন করে, এদের আন্দোলনে সমর্থন করে। দেশের প্রতি কি এদের কোন দায়িত্ববোধ নেই?

***
ফিচার ছবি: http://bangla.bdnews24.com থেকে সংগৃহিত