ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

চারিদিকে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে। কি হলো রায়ে? এই রায় কি দেশের জনগণের কাছে কী প্রত্যাশিত ছিল? পত্রিকায় শুরু হয়ে গেছে মাতামাতি, চিৎকার, মানি না, মানবো না শ্লোগান।

কী রায় হয়েছে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগের এরই মধ্যে আমরা তা জেনে গেছি। জেনে গেছে সারা বিশ্বের মানুষ। ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত। রাষ্ট্রপক্ষ একটি অভিযোগের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে তা প্রমাণিত করতে পারেননি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। যে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে তা দিয়েই কি সর্বোচ্চ শাস্তির জন্যে যথেষ্ট নয়?

গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে এবার একটু লক্ষ্য করুন।

১. মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় কয়েকজন নীতি নির্ধারকের ‘ডিনার‘ খাওয়ার ব্যবস্থা যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং আ্ইনমন্ত্রী সফিক আহমেদ।
২. সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারী), জামায়াতকে হঠাৎ মিছিল-সমাবেশ করতে দিচ্ছে সরকার এর মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে কি না প্রশ্নের জবাবে বিএনপি‘র স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে দল ভাঙার বা জোটের কাউকে কাউকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
৩. সোমবারই ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে শোডাউন করার লক্ষ্যে পুলিশ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের শাপলা চত্ত্বরে অনুমতি দিয়েছিলো। মজার ব্যাপার হলো, আজ মাহাবুবুল আলম হানিফ জানান তিনি পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন কেন জামায়াতকে অনুমতি দেয়া হলো (বিষয়টা এমন তিনি জানেন না বা পুলিশ তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য)।
৪. কয়েকদিন আগে যে শিবির ছিল প্রচন্ডভাবে পুলিশের প্রতি মারমূখী, পুলিশের রাইফেল ছিনিয়ে পুলিশকে পিটিয়েছে, সেই শিবিরের মিছিল থেকে পুলিশকে এখন ফুল দেয়া হয়।
৫. সরকার আপিল করবে বলে জানিয়েছে। এই জানানোর মধ্যেও রয়েছে বিভ্রান্তি।

কোদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে ক‘টি অভিযোগ প্রমাণিত তা দিয়ে যে কোন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হতে পারে। কিন্তু ‘কসাই কাদের‘র হয় না। অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় আমরা এখন ওকে ’কসাই কাদের‘ বলতেই পারি।