ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

বাংলাদেশে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, ভুটান, পাকিস্তান ও মিশর থেকে বিপুল ফল আমদানী করা হয়। ঘরে থাকলে ফল দুই -চার দিনের মধ্যে নষ্ট হতে থাকে অথচ আমদানীকৃত ফল মাস চলে গেলেও নষ্ট হচ্ছে না। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের জন্য সুখবর নয়। ভ্রাম্যমান আদালতে নমুনা পরীার মাধ্যমে যে তথ্য বের হয়ে এসেছে তা রীতিমত ভয়াবহ। এতে দেখা যায়, দেশে যেসব ফল আমদানী হচ্ছে তার কোনটিই ফরমালিন মুক্ত নয়। বিএসটিআই রাসায়নিক পরীায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ও সুরতি কার্টুনের ভিতরের আঙ্গুরে পাওয়া গেছে ভয়াবহ মাত্রার ফরমালিন, আমদানী করা শুধু আঙ্গুর নয়, আপেল, কমলা, নাশপতি, মাল্টা, কিসমিস, বেদানাসহ সবধরনের ফলেই মেশানো হচ্ছে ফরমালিন। এতে ফল দীর্ঘদিন তাজা ও সতেজ থাকে।

দেশে মাঝে-মাঝে রাসায়নিক দ্রব্যমিশ্রিত ফলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের পরিচালনা করা হয়। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফলের ক্ষেত্রে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা আছে কী? স্থলপথে আমদানি করা ফলের কার্টুনের সাথে ভারতের রাসায়নিক পরীার রিপোর্ট সংযুক্ত থাকে। তার ভিত্তিতেই কার্টুনগুলো পরীা না করেই ছেড়ে দেয়া হয়।

অন্যান্য দেশের ফল চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত ফলমূল রফতানি চালান সরবরাহকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের দেয়া রেডিয়েশন ও পরীণ সনদসমূহ কাস্টমস হাউসে দাখিল করার পর কাস্টমস কর্তৃপ ছাড়পত্র প্রদান করে। আমদানিকৃত ফলমূলের গুণগতমান সম্পর্কে কৃষি অধিদফতরের উদ্ভিদ কীটনিরোধ সংরণ শাখার যাচাইসাপেে সনদ কাস্টমসে আমদানি ডুকমেন্টের সাথে দাখিল করার কথা। এ বিধি আমদানি-রপ্তানী নীতিমালায় রয়েছে। এছাড়া আদালত নৌ, স্থল এবং বিমানবন্দরের মাধ্যমে ফল আমদানির েেত্র বন্দরেই রাসায়নিক পরীার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ ও নীতিমালা থাকার পরও বন্দরে আমদানিকৃত ফলের রাসায়নিক পরীা করা হচ্ছে না কেন? আমদানিকৃত ফলের পরীা সঠিকভাবে না হওয়ায় দেশের মানুষ বিষাক্ত ফলের শিকার হচ্ছে।

বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত এসব ফল খেলে দীর্ঘমেয়াদী বদহজম, পেটের পীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস গ্যাস্টিক সহ নানা রোগ হতে পারে। ফরমালিন শরীরে গিয়ে চোখের রেটিনার তি করে। দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, কিডনি ও ফুসফুসের কর্মমতা কমিয়ে দেয়, শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান জার্নাল অব ফারমাকোলজি অ্যান্ড টক্সিসিটি সাময়িকীর চতুর্থ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ফরমালিন দেওয়া ফল খেলে পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

শুধুমাত্র ফলেই নয় দুধ ও দুগ্ধজাত পন্য, বিস্কুট বা বেকারী সামগ্রী ইত্যাদি খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল মেশানো হয়। দুধে ফরমালিন, তরকারি উৎপাদনের সময় পেষ্টিসাইড, হাবিয়সাইড, উইডিসাইড কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আলু ও টমেটোর মতো সবজি টাটকা ও রঙ্গিন দেখানোর জন্য রং, ইথিফেন, রাইপেন, বেকারি আইটেম ও মিষ্টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে টেক্সটাইল কালার ও লেদার কালার।

উচ্চ আদালতের ফল ও খাদ্যে ফরমালিন এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশ পিওর ফুড অর্ডিন্যান্সে খাদ্য সংরণে ফরমালিনের ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলা হয়েছে। এই অপরাধে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের জেল এবং সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা ও তিন বছরের জেল দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ মতা আইনে খাদ্যে ভেজাল দেয়া ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি করার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড রাখা হয়েছে । এ ছাড়াও ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান থাকলেও এ পর্যন্ত প্রয়োগের কোন বিধান নেই ।