ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

“গোপনে যে বেশ্যার ভাত খাই, তাতে ধর্মের কী জাত যায় ” লালন শাহ। আমি যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন ভাবী পৃথিবীটাও মনে হয় আমার মত ক্লান্ত হয়ে বিছানাই আশ্রয় নিয়েছে।পৃথিবী কী আমার মত মাঝে মাঝে থামে?শুধু আমি আর যে ঘুমিয়ে থাকে সেই থেমে যাই।এটি সে দিনই থামবে যে দিন অভিকর্ষ মহাকর্ষ থাকবে না। সূর্যটার কখনও লোডশেডিং প্রয়োজন পড়ে না। দিব্বি চলে যাচ্ছে।কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।আমাদের সোনার বাংলায় যখন সূর্যের আলো থাকে তখনও ঘটে অনেক ঘটনা,আবার যখন থাকে না তখনও ঘটে অনেক ঘটনা। কিছু মিডিয়াওয়ালারা পায়,কিছু পাই না, কিছু পেয়েও না পাওয়ার ভান করে।এতে করে তার কিছু পরিবর্তন হয়।হয় পকেট ফোলে না হয় শরীর ফোলে। অনেক দিন আগে একটা গল্প পড়েছিলাম ” একজনের জীবন, অন্য জনের খেলা “। এটি হইত আমি একাই পড়িনি প্রত্যেকটা ছাত্রই পড়েছে বা পড়তে হয়।হইত কেউ এটা না পড়েই সার্টিফিকেট পেয়ে যাই, নতুবা রেজাল্টের চিন্তায় ভূলে যাই। আমরা প্রতিদিন যে কংক্রিটের সিঁড়িগুলো পেরিয়ে দু’তলা, তিন তলা-দশ তলাই উঠি এক বারও ভাবী না এটা কারও ছোয়া মাখা।এটাতে কারও ঘাম মেখে আছে।ঝড়ের সময় যে খুঁটিটি ঘরটিকে খাড়া রেখেছিল,সেটি আজ বড় পুরাতন হয়ে গেছে।মায়ের ব্যবহারের আলমারিটি ঘরের মানান নষ্ট করে।এক জন ৩০ বছর নেতা থেকেও হাত পাখায় বাতাশ খেয়ে গেছেন এক জন ২০ বছর রাজনীতি করেই এক টাকায় পাওয়া বাড়িটিতে ৫২টা এসি রাখেন।আজও কিছু মানুষ শ্রমিক দিবস কে মন থেকে গ্রহণ করতে পারেনি।আজও কিছু মানুষ এ দেশটা কে পাকিস্তান ভাবে।আজও কিছু লোক জমি ফাঁকি দেয়। আজও কিছু লোক দশ টাকার জন্যও ফাইল আটকায়।আজও সবার পকেটে আছে কালো টাকা।কিন্তু আজ আর নিজের কম্বলটি বাদ রেখেই সাত কোটি সন্তান কে দেবার মত বাবা নেই।

বাবা চলে গেছেন ৩৭ বছর কিন্তু বংশবৃদ্ধি থেমে নেই।আজও কেউ রাজপথে বলে তুমি আমার পিতা,তুমি আমার নেতা। পৃথিবী যত দিন আছে স্বাধীনতা হারালেও হয়ত হারাবে না শুধু তোমার দেওয়া নাম “বাংলাদেশ”।বাবা বর্তমানে যে রক্ষী বাহিনী আছে এরা বড় বেশি ঘুষ খাই।যেকোন দণ্ডের আসামিই হাইকোর্ট থেকে জামিন পায়।আর যারা হারিয়ে মামলা করে তাদের বাকিটুকুও দিয়ে দেয় উকিলের পকেটে। আজ বিভিন্ন রকম পেশায় দেশটা ছেয়ে গেছে।আজ কাল এদেশে অনেক বুদ্ধিজীবী,সেদিন মনে হয় রাজাকারদের ভয়ে মুখ খোলেনি।জানিনা এরা শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জায়গা পাবে কিনা ,নাকি পুরানোদের হাড়গোড় উঠিয়ে এরা জায়গা দখল করবে।একটা পানির গ্লাসে কতটুকু পানি আছে যে কাউকে প্রশ্ন করলেই সে বলে অর্ধেক খালি আছে,কেউ বলে না অর্ধেক পানি আছে।মানুষ ভালো কাজের প্রশংসা করতে বড্ড বেশি ভুলে গেছে।আর সব চেয়ে দেখা যায় যাদের দুই কান কাটা তারা ফাঁস লাগাদের বেশি সমালোচনা করছে।বাংলাদেশে এমন কেউ নেই,যে বলতে পারে আমি কোন অন্যায় করিনি।এখন জুতা সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ পর্যন্ত সব খানেই লাগে উৎকোচ।আসুন একবার চেষ্টা করি ৫২’র ভাষা সৈনিকদের মত ভাষা কে ভালোবাসি,৭১’র মুক্তিযোদ্ধাদের মত দেশ কে ভালোবাসি।নাকি- চাদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করব কী?