ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের শিল্পকারখানাগুলো এখন বন্ধ হবার উপক্রম হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটছে ঠিক তার উল্টো। বিনে পয়সার গ্যাস দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি এলাকায় গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল।

তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ৩ নন্বর কূপের ত্রুটির কারণে গত ২০০৬ সাল থেকে তিতাস নদীর পূর্ব পাড়ের আনন্দপুর এবং শ্যামপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রথমে গ্যাস লিকেজের এলাকা হিসেবে তিতাস নদী এবং এর পূর্বপাড়ের ২টি গ্রাম হলেও পড়ে তা ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ে তিতাসের পশ্চিম পাড় বাকাইল গ্রামেও। এখন এই লিকেজ প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসের উদগিরণ বন্ধ করতে তিতাস গ্যাস ফিল্ডস কর্তৃপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক আমেরিকান কোম্পানী বুটস এন্ড কুডস এর মাধ্যমে প্রায় ৭০ কোটি টাকা খরচ করে ৩ নন্বর কূপটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এর পরও তিতাস নদীর দুই পাড়ে গ্যাস উদগিরণ বন্ধ হয়নি। যদিও গ্যস ফিল্ডস কর্তৃপক্ষের দাবী লিকেজ আগের চেয়ে অনেক কমেছে। লিকেজের কারণে নদীর তলদেশ ফুটো হয়ে এবং নলকূপ থেকে অব্যহতভাবে বের হওয়া গ্যাস দিয়ে বাকাইল, আনন্দপুর এবং শ্যামপুরে গড়ে উঠেছে শতাধিক কারখানা। দেশীয় প্রযুক্তিতে চুল্লী তৈরী করে লিকেজ গ্যাস দিয়ে বানানো হয়েছে চুন তৈরীর কারখানা ও গ্লাস ফেক্টরী। এই কারখানাগুলোতে কাজ করছে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক। কারখানার জন্যে ৪/৫ কাঠা জমির ভাড়া এখন মাসে লাখ টাকা। আর গ্যাস সংগ্রহের জন্যে একটি পরিত্যক্ত নলকূপের ভাড়া গুনতে হয় মাসে ৪০ হাজার টাকা। ফলে এলাকাটি এখন শিল্পাঞ্চলে রূপ নিয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্লাস্টিকের নল দিয়ে যেভাবে গ্যাসের লাইন দেয়া হয়েছে তা যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ এই কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। লিকেজের কারণে ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষতিপূরণের জন্যে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব র.আ.ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, গ্যাস লিকেজের কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে উঠায় তারা লাভবানই হচ্ছেন।

***
লেখক : আজিজুল আলম সঞ্চয়
ফোন : ০১৬৭৪৬৩৮৫০২
ব্রাহ্মণবাড়িয়া