ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

নির্মিতব্য নতুন হলের নামকরণে অটল ঢাবি, বাকৃবিতে ক্ষোভ

মোহাম্মদ জুয়েল আলম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ
নাটক কিংবা উপন্যাসে এক নায়িকাকে কেন্দ্র করে দুই নায়কের যুদ্ধ বা বিরহ দেখে থাকি। কাহিনির শেষে নায়িকা সত্যিকার নায়কের বাহুডোরে আবদ্ধ হোন বলে গল্পটি পাঠকের হৃদয় ছোঁয়ে যায়। বেশ কয়েকদিন হলো তেমনি এক নাম নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ইতোমধ্যেই “বিজয় ‘৭১” নামে একটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্মিতব্য নতুন হলের নামকরণ ‘বিজয় একাত্তর’ করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ব্যিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ। এ যেন এক বৃক্ষে একই বৃন্তে একই নামে ফোঁটা দুই প্রজাতির দুটি ফুল। যা অসম্ভব। ঢাবি’র এই সিন্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাকৃবি’র সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। “বিজয় ‘৭১” নামে প্রস্তাবিত নিমিতব্য ওই নতুন হলের নাম আগামী ২৭-২৮ জুন সিনেট সভার মাধ্যমে চূড়্‌ান্ত করা হবে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈদয় রেজাউর রহমান জানান।

জানা যায়, বাকৃবিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে একটি ভাস্কর্য যার নাম ‘বিজয়’৭১’। বিখ্যাত ভাস্কর শ্যামল চৌধুরীর তত্ত্ববাধানে ‘বিজয়’৭১’ ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। প্রতিদিন ‘বিজয়’৭১’ ভাস্কর্য দেখতে অগণিত মানুষ ক্যাম্পাসে ভিড় জমায়। দর্শনার্থীরা উদ্বূদ্ধ হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। উৎসাহিত হয় বাংলাদেশের মানুষের সফল আন্দোলনের জীবন্ত মূর্তি দেখে। অপর দিকে গত ১০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি নির্মিতব্য একটি নতুন হলের নামকরণ করা হচ্ছে ‘বিজয়’৭১’। গত ১০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী সিনেট সভায় সিদ্ধান্তটি গৃহীত হবে। এই সিন্ধান্তের বিপরীতে বাকৃবি’র সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও ঢাবি কর্তৃপ এ ব্যাপারে আজো তাঁদের সিন্ধান্তে অটল রয়েছেন।

এবিষয়ে বাকৃবি’র শিক্ষার্র্থীরা বলেছেন, “ঢাবি কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়, তাই এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যে করেই হোক বাকৃবির সকল শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঢাবির ওই সিদ্ধান্তকে প্রতিহত করা হবে।”

এ ব্যাপারে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর সাথে যোগায়োগ করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযদ্ধর ইতিহাসকে স্বরণ করে একই নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান, ভাস্কার্য কিংবা হলের নাম হতে পারে। এতে অসুবিধার কোন কারণ হবে না বলে আমি মনে করি।”

এ ব্যাপারে বাকৃবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল হক বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। আমি তাঁকে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছি। তাঁকে ঢাবিতে নির্মিতব্য ওই হলের অন্য কোন নামকরণ করা যায় কিনা সে ব্যাপারে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছি।”

#####

মোঃ জুয়েল আলম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ