ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আজ আমাদের নারী সমাজ এত অসহায় কেন? আজকাল খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় যৌতুক প্রথার বলি তথা নারী নির্যাতন। নববধুর হাতের মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়। ১০/১২ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটানোর পরও যৌতুকের জন্য শাশুড়ী ননদেকে নির্যাতন । যৌতুকের জন্য নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা। আমাদের সমাজে যার পুত্র সন্তান জন্মে, তিনি মনে মনে সাত রাজার ধন হাতে পেয়েছেন বলে গর্ব করেন, আর যার মেয়ে সন্তান জন্মে, তিনি মনে করেন কোন কালের পাপের শাস্তি দিচ্ছেন বিধাতা মেয়ে দিয়ে। কারণ, মেয়েকে জন্ম থেকে বড় করা পর্যন্ত অর্থাৎ লালন-পালন করা, লেখাপড়া শিখানো পর্যন্ত মা-বাবা মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে যৌতুকের মরণ ছোবল হতে রেহাই পাননা। যৌতুকের জন্য আমাদের সমাজের মেয়েরা প্রাণি আর পণ্যে পরিণত হয়েছে । যৌতুক শুধু নারী নির্যাতন নয়, এটা অভিশাপও বটে। যৌতুকের অভিশাপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার কত পরিবার। শুধু তাই নয়, এর কারণে কত তাজা প্রাণ অকালেই ঝরে পড়ছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা দেখেন না পাত্রের চরিত্র ভাল কি মন্দ; শিক্ষিত না অশিক্ষিত। দেখেন না কর্মজীবী না বেকার। মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারলেই তারা পাপের অভিশাপ থেকে বেঁচে যান। অনেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধের সাথে ১২ বছরের কিশোরী বিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেন না। অপরদিকে ছেলে গুন্ডা, মাস্তান ,চাঁদাবাজ, লম্পট হলেও পিতা মাতার কাছে অত্যন্ত আদরের ধন। কারণ ছেলেকে বিয়ে দিয়ে যৌতুকের মালামালে খালি ঘর পূরণ করার জন্য পণ্য হিসেবে পাবেন মোটা অংকের টাকা, মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী, টেলিভিশন, ভি,সি,আর, ডিস এন্টিনা অথবা প্লট বাড়ি কিংবা বিদেশ যাওয়ার খরচ। এই প্রথা কবে, কখন শুরু হয় তার কোন সঠিক সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে এর বিরুব্ধে অনেক কবি সাহিত্যিক আমরণ সংগ্রাম করেও এর মূল উৎপাটন করতে পারেননি। এজন্য দায়ী আমাদের ভোগবাদী সমাজ। এরা ভোগের ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার হয়ে মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছে। চাওয়া কে যখন পাওয়ার নেশায় পেয়ে বসে, তখন তাদের আর হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা। যদি ছেলের পিতা-মাতা চিন্তা করতো, পুত্রবধু হলো আমার ছেলের জীবন সঙ্গিনী ও সুখ দুঃখের সাথী। বিয়ের পর মেয়ের কাছে মা-বাবা হতে যায় পর,অজানা অচেনা, শ্বশুর বাড়ি হয় নিত্য নতুন। তারা তখন তথায় হয়ে যায় খুবই অসহায়।
আসুন, সকলে মিলে যৌতুকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। এবং তা থেকে সকলে বিরত থেকে বাংলাদেশকে যৌতুক মুক্ত করি। আল্লাহ পাক আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন!