ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

এইতো সেদিনের কথা | মালয়েশিয়ার সামগ্রিক রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা তত্কালীন বাংলাদেশের তুলনায় খুব একটা উন্নত ছিলো না| সে সময়েই আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদ সেই দুর্দশাগ্রস্ত মালয়েশিয়ার হাল ধরেন | তিনি ” আমাদের জাতির জনক – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ” – এর মতোই অত্যন্ত দূরদর্শী নেতা ছিলেন বলেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নিয়েই ” বিশ্ব ব্যাঙ্ক ” -কে মাত্র ৬ মাস সময় দিলেন তাদের অফিস গুটিয়ে মালয়েশিয়া থেকে চলে যেতে | কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে – যদি বিশ্ব ব্যাঙ্ক পূর্বের মতোই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতেই থাকে , তাহলে মালয়েশিয়াকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়েই বিশ্ব ব্যাঙ্কের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে আজীবন | বিশ্ব ব্যাঙ্কের মূল মন্ত্রণাদাতা দেশগুলোর সব রকমের রক্তচক্ষু অবজ্ঞা করে এবিষয়ে ড. মাহাথির মোহাম্মদ কোনরকম আপোষ করেন নাই বলেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংককে ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যেতে হয়েছিলো |

এরপরই শুরু হলো ড. মাহাথির মোহাম্মদ -এর অত্যন্ত বাস্তববাদী নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার নতুন করে উন্নয়নের পথ চলা | এর মাঝেও দেশের ভিতরে বিশ্ব ব্যাঙ্কের দালালরা অনেক চেষ্টা করেছিল উন্নয়ন কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য | কিন্তু মাহাথির কঠিন হস্তে সেসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মালয়েশিয়াকে বিশ্বের দরবারে, বিশেষত: এশিয়াতে একটি অন্যতম উন্নত দেশের মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন |

আমি বিশ্বাস করি যে , আমাদের জাতির জনক – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান – এর যোগ্য উত্তরসুরী , তারই কন্যা , উন্নয়নের রূপকার , জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে সকল ধরনের বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের সকল অন্যায় আব্দারের তোয়াক্কা না করেই যথেষ্ঠ দৃঢ় ও বাস্তব সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই জাতির প্রানের দাবী “পদ্মা সেতু” তৈরী করার ঘোষণা দিয়েছেন | তাঁর এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের প্রতি দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক ( কিছু পাকি – মনোভাবাপন্ন জামাত ও বিএনপির গুটিকয়েক সমর্থক ছাড়া ) অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে ইতিমধ্যেই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ‘পদ্মা সেতু’ নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য রীতিমত উন্মুখ হয়ে আছেন | এখন বাংলার জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে , একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতি সাধন করা এবং তাঁর দ্বারাই বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে অচিরেই একটি উন্নত ও মর্যাদাশীল জাতি ও দেশ হিসাবে – তথা ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ……. এবং সেই দিন সমাগত … ইনশা-আল্লাহ |

মইন সিদ্দিকী

১১ জুলাই ২০১২ – ঢাকা