ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ভোরে ফজরের আজানের পরপর ঢাকা সেনানিবাসের একটি বিশেষ বাড়ীতে এক বিশেষ ব্যক্তি খুব ফুরফুরে মেজাজে সেভ করছে .. এমন সময় এক জুনিয়র আর্মী অফিসার দৌড়ে এসে তাকে খবর দিলো যে , দেশের প্রেসিডেন্ট ( বঙ্গবন্ধু ) -কে কারা যেন মেরে ফেলেছে | এটা শুনে ওই ব্যক্তিটি খুবই আয়েশী ভঙ্গীতে সেভ করতে করতেই ইংরেজীতে বললো – ” প্রেসিডেন্ট মারা গ্যাছে তো কি হয়েছে – ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে ” !! … এই একটি মন্তব্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় – বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রকৃত নাটের গুরু কে | ওই বিশেষ ব্যক্তিটিই পরবর্তীতে বিশেষ বিশেষ নাটকীয়তায় দেশের প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া – ‘জিয়াউর রহমান’ | শোনা যায় , জিয়াউর রহমান নাকি বিশেষ মুক্তিযোদ্ধাও ছিল !! তবে , দুষ্ট গবেষকরা বলেন – তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের ‘ব্লুপ্রিন্ট’ ( Blue Print ) অনুযায়ীই তত্কালীন পাক – মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে পাকিস্তানী ‘সোয়াত’ জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে যাবার পথে হটাত নাটকীয়ভাবে “সোয়াতী” মুক্তিযোদ্ধা বনে যায় !! মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং দেশ স্বাধীন হবার পরেও জীবদ্দশায় তার প্রতিটি কাজ কর্মে পাকিস্তান ও তার দোসরদের ওই ‘ব্লুপ্রিন্ট’ -এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় |

স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত ‘যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী’ অপরাধে অভিযুক্ত পাকি দালালদের আইন করে বিচার কাজ শুরু করেন , প্রধান যুদ্ধাপরাধী – রাজাকারকুল শিরোমনি গোলাম আজমের নাগরিকত্ব বাতিল করেন , সমাজে অবক্ষয় রোধে মদ – জুয়ার লাইসেন্স নিষিদ্ধ করে দেন এবং সদ্য স্বাধীন দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সুদুর-প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে একের পর এক সেগুলি বাস্তবায়ন করতে থাকেন | … কিন্তু পরাজিত শক্তি হাল ছেড়ে দেয় নাই | মুক্তিযুদ্ধকালীন বঙ্গবন্ধুকে আটকাবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানীরা যেটা করার সাহস পায় নাই , স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তারা তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সহযোগিতায় সেই কাজটাই সম্পন্ন করলো — ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মরণ ছোবল মেরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে গুলিতে ঝাঁজরা করে হত্যার পর উল্লাসে মেতে উঠলো | এটা ছিল পাকিস্তান ও তাদের দোসরদের ‘ব্লুপ্রিন্ট’ বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ |

এরপরই শুরু হলো ‘ব্লুপ্রিন্ট’ -এর পরবর্তী অংশ বাস্তবায়নের কার্যক্রম | জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নিয়েই ‘দালাল আইন’ বাতিল করে ‘প্রধান যুদ্ধাপরাধী – রাজাকারকুল শিরোমনি’ গোলাম আজমের নাগরিকত্ব সসন্মানে ফিরিয়ে দিয়ে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনলো .. রাজাকারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করলো .. ইসলামের ঝান্ডাধারী এই জিয়াউর রহমানই আবার দেশে মদ – জুয়ার লাইসেন্স উন্মুক্ত করে দিলো !! বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার “মুক্তিযোদ্ধা” অফিসার , সৈনিক হত্যা করলো | এর পূর্বে সে তার স্ববংশীয় (!) খন্দকার মোস্তাককে দিয়ে ‘ইনডেমনিটি’ আইন জারী করিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার’ বিচারের পথ রুদ্ধ করার ব্যবস্থা করলো ( যদিও পরে তারা শেষরক্ষা করতে পারে নাই ) |

… এরপর বঙ্গোপসাগরে অনেক পানি গড়িয়েছে | ঘটনার পরিক্রমায় জিয়াউর রহমানের বিধবা পত্নী (!) – সোয়া দুইবার প্রধানমন্ত্রী ও এখন সংসদে (!) বিরোধী দলীয় নেত্রী ‘খালেদা জিয়া’ এখনও প্রতিটি ক্ষেত্রে তার স্বামীর পদান্কই অনুসরণ করছে … ব্যতিক্রম শুধু — তার স্বামীর ছিলো ‘একটি ছেঁড়া সুটকেস’ .. আর খালেদা জিয়ার মহা মূল্যবান সম্পদ ভর্তি ‘৪০০ সুটকেস’ – যেগুলি এখন সৌদি আরবে অত্যন্ত যত্ন সহকারে রক্ষিত আছে |

মইন সিদ্দিকী
১৬ জুলাই ২০১২ – ঢাকা