ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

‘লন্ডন অলিম্পিক কমিটি’র বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে লন্ডনে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | এটা তাঁর কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক সফর নয় | অথচ কতো বড় হীন ও নিকৃষ্ট মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে ‘ পাকিদের ককটেল পরিকল্পনায় জন্ম নেয়া ‘ রাজনৈতিক দল ‘বিএনপি’ ও তাদের যুক্তরাজ্য শাখার কর্মী ও সমর্থকরা !! নিশ্চয়ই তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের পরামর্শেই তারা নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রীকেই লন্ডনে ঢুকতে না দেওয়ার দাবিতে খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত ধর্ণা দিয়েছে !! ইতিমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় – ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ‘স্মারক-লিপি’ দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লন্ডনে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে !! শুধু তাই নয় , অলিম্পিককে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সাংবাদিকদের পদভারে মুখরিত লন্ডনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাতে পদে পদে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তার জন্যও ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি’র ব্রিটেন শাখা | তাদের এরকম জঘন্য কাজের পিছনে মূল উদ্দেশ্যটা কী ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯৭১ -এর ‘মানবতাবিরোধী’ অপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করেছেন বলেই কী ‘বিএনপি – জামাতের’ এই গাত্রদাহ ? সার্বিক অবস্থাদৃস্টে সেটাই মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে | ‘বিএনপি – জামাতের’ অন্যান্য তথাকথিত দাবী-দাওয়া তো শুধুমাত্র তাদের আসল মতলব-কে জনগণ থেকে আড়াল করবার জন্য একটা অপকৌশল – এটা বোঝার জন্য তো ‘ডিকশনারী’র প্রয়োজন পড়ে না |

… কতো নীচু স্তরের মানসিকতার বংশজাত হলে ‘বিএনপি’ এরকম জঘন্য কাজ করতে পারে – সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না !! আসলেই – ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয় ‘ | ‘বিএনপি’ ইতিমধ্যেই প্রমান করেছে যে , তারা ‘খাঁটি পাকি-পন্থী’ দল | তাই বাংলাদেশের মান-সন্মান নিয়ে তারা কোনো কালেই চিন্তিত নয় – যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো তাদের এই চরম ঔধত্যপুর্ণ আচরণ | কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী / রাষ্ট্রপতি বিদেশ সফরে গেলে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন দাবী – দাওয়া নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে প্ল্যাকার্ড বহন করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে – যেটা এর আগেও আমরা দেখে এসেছি | কিন্তু এবারের ব্যাপারটা তো কোনো অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না | বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিটেনে ঢুকতে না দেওয়ার মতো চরম ঔধর্ত্যপুর্ণ ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আবেদন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেবলমাত্র ‘বিএনপি’-ই করতে পারে – কারণ তারা নিজের নাক কেঁটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে এই মহাবিশ্বে অদ্বিতীয় এবং এটাই তাদের পাক-জন্মজাত অভ্যাস |

দেশের সন্মান রক্ষার্থে বাংলাদেশ সরকার এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এই হীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নিয়েছে – সেটা দেশের জনগণ জানতে চায় এবং এই ঘটনায় জড়িত সকলের ( বাংলাদেশে ও যুক্তরাজ্যে ) বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগে আইনের আওতায় কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছে – তিনি বিএনপি’র যত বড় নেতা বা নেত্রী -ই হোক না কেনো | … বাংলার জনগণ এখনো ভুলে যায় নাই – কীভাবে শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘৭১ -এর ‘মানবতাবিরোধী’ অপরাধীদের বিচারের উদ্দেশ্যে জনমত গঠন করার কথিত অপরাধে এই ‘বিএনপি’ সরকারই মিথ্যা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বানিয়ে তাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছিল !! তাই , এখনই দেশপ্রেমিক সকলের বিএনপি’র এই জঘন্য দেশ-বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে কঠোর ও সক্রিয় প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া উচিত … Enough is Enough.

– মইন সিদ্দিকী
২২ জুলাই ২০১২ – ঢাকা