ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একটু কল্পনা করে দেখুনতো … ওই ‘নৃশংসতম গ্রেনেড হামলা’ যদি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘বিএনপি’র কোনো জনসভায় বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে হতো ( তওবা তওবা – আল্লাহ না করুন ),
তাহলে বিএনপির ‘খালেদা জিয়া’ থেকে শুরু করে তার ‘গোয়েবলস মাইক’ মির্জা ফখরুল সহ অন্যসব ‘পাকি দালাল’
জ্ঞান-পাপীরা , তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা , ‘টক শো’ বিশেষজ্ঞরা আজ কি বলতো বা করতো ?!!
.. তাদের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট – তাতে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে , খালেদা জিয়ার নির্দেশে এতক্ষণে সারা দেশে
কয়েক লাখ গাড়ীতে , বাড়ীতে আগুন জ্বলতো .. সারা দেশে একদিনেই কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী
‘বিএনপি – জামাতের’ কর্মীদের হাতে নির্বিচারে খুন হতো .. সারা দেশে বোমাবাজীর মাতম লেগে যেতো …
‘গোয়েবলস – মির্জা ফখরুল’ তার মুখ লাল করে চিবিয়ে চিবিয়ে সারাদিন ধরে এভাবেই বয়ান করতো :-

– পৃথিবী সৃষ্টির পর এরকম নৃসংশ হত্যাকান্ড এই মহাবিশ্বের আর কোথাও ঘটে নাই !
– আজ থেকে সারা দেশে আজীবন লাগাতার হরতাল !
– এরা কি মানুষ নাকি জানোয়ার – আমরা এ কোন অসভ্য , বর্বর দেশে বাস করছি !
– দেশের মানুষ আজ ভালো নেই – দেশে আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছুই অবশিষ্ট নাই !
– এই জালিম সরকারের হাতে জনগণ আর এক মুহূর্তও নিরাপদ নয় !
– এই ব্যর্থ , ফ্যাসিস্ট সরকারকে এখনি – এই মুহুর্তেই পদত্যাগ করতে হবে !
– আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে !
– দেশের কোনো তদন্ত কমিটি মানি না – মানব না !
– জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি করে তাদের এদেশে এনে তদন্ত করাতে হবে !
– ইন্টারপোল , এফ বি আই , আই এস আই -কে দিয়েও তদন্ত করাতে হবে !
– মার্কিন সপ্তম নৌবহরকে এখনই বঙ্গোপসাগরে ভিড়াতে বলা হবে !
– বারাক ওবামা – হিলারীকে বলে এই মুহুর্তে এই জালিম সরকারকে গদিচ্যুত করাতে হবে !
– ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এখনই তাদের ‘বিশেষ প্রতিনিধিদল’ এদেশে পাঠাতে বলা হবে !
– সৌদী সরকারকে বাংলাদেশের সকল শ্রমিককে এখনই দেশে ফেরত পাঠাতে বলা হবে !
– ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বলবো যেন সব বাংলাদেশীকে বের করে দেয় ( বিএনপি – জামাতী ছাড়া ) !
– সরকার প্রধান সহ সকল মন্ত্রীকে এখনই গ্রেফতার করে বিচারে ফাঁসী দিতে হবে !
– কেউ যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য সকল এয়ারপোর্ট , বর্ডার সীল করতে হবে !

……. এরকম আরো কতো কি !!

পক্ষান্তরে , বিএনপির আধ্যাত্তিক নেতা (!) ‘তারেক রহমানের’ পরিকল্পনা ও তারই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে
পরিচালিত ‘আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শুন্য’ করার লক্ষ্যে ‘২১ আগস্ট ২০০৪’ -এর ওই বর্বরতম , নৃশংসতম
গ্রেনেড হামলায় ধংশযজ্ঞের ব্যাপকতার পরও জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁর
স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় সর্বত্র কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন দেশের কোথাও কোনো আওয়ামী লীগ
নেতা – কর্মী কোনপ্রকার হরতাল , অরাজক বা ধংসাত্মক কার্যকলাপ না করে , আইন নিজের হাতে নিয়ে ওই
জঘন্য হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ না নেয় .. মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং সবাইকে শান্ত
থেকে দলের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন … ইনিই হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য
উত্তরসুরী , বাংলার জনগনের যোগ্য নেতা – শেখ হাসিনা … ‘আওয়ামী লীগ’ আজীবন জনগনের ও দেশের
উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করছে এবং তারা কখনই ধংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না – যার প্রমান
বাংলার জনগণ বার বার পেয়েছে |

– মইন সিদ্দিকী

২২ আগস্ট ২০১২ , ঢাকা