ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

এইমাত্র ‘কাবিল শান্তি কমিটি’ -র একটি জরুরী রুদ্ধদ্বার বৈঠক ‘অরওয়ের রাজধানী নসলো’ -তে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল .. বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ‘কাবিল শান্তি কমিটি’ -র উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি , বিশ্বের এযাবত্কালের সবচেয়ে মহান ‘গিরিঙ্গি প্যাঁচম্যান – কেনরী হিচিনজার’ … এই আচমকা জরুরী বৈঠকে আগামী বছরের জন্য ‘একটি দেশের’ পরবর্তী ‘কাবিল শান্তি পুরস্কার’ বিজয়ী হিসেবে অতি অল্প সময়ে মহাবিশ্বে হৈচৈ ফেলে দেয়া একমাত্র মহান শান্তির বাহক ‘মানভীর তাহমুদ’ -এর নাম সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় … তবে , ওই বিশেষ জরুরী সভার বিষয়বস্তু ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ বিধায় , এই সুখবরটি নাকি আগামী বছরের যেকোনো সময় প্রকাশ করা হবে … কিন্তু সৌভাগ্যবশত: বৈঠকস্থলের বাইরে অবস্থানরত আমার বিশেষ প্রতিনিধি ‘মুদি মিয়া’ ওই রুমের দরজার ‘কী – হোলে’ কান পাতিয়া ‘গোপন বৈঠকের’ গোপন সিদ্ধান্তের যে বিশেষ মর্মবাণী উদ্ধার করতে পেরেছেন – অর্থাত , কোন কোন বিশেষ প্রাক – যোগ্যতাবলে ‘মানভীর তাহমুদ’ -কে তাঁদের ভাষায় – ‘শান্তির বরপুত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে , সেটার সারাংশ ‘আম – জনতার’ খেদমতের জন্য পেশ করা হলো .. ( এখনই না জানালেতো পরে আবার বলবেন যে , আমি আগে জানাই নাই কেনো … মর জ্বালা ) : –

….. ‘মানভীর তাহমুদ’ তার বাবার মুদি দোকানের সমস্ত মাল ‘তাগারগাঁও আলতলা’ এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনেক বছর যাবত ‘বাকীতে’ বিলিয়ে দিয়ে ‘তিন হাজার’ ক্ষুদ্র পরিবারে ‘শান্তির সুবাতাস’ বইয়ে দিয়েছেন !!

….. ওই মহত কর্ম সম্পাদনের পর তিনি আরো শান্তির উদ্দেশ্যে ওই এলাকার একটি কারখানায় ‘তিন হাজার’ টাকা বেতনে চাকুরী যোগাড় করেন .. কিন্তু তার মতো মহত হৃদয় ব্যক্তি ওই ‘পদটি’ দখল করে রাখতে সায় দিলো না … তিনি আরেকজন অনাহারী লোককে তার পদটি ছেড়ে দিয়ে আবারও ‘শান্তির অন্বেষণে’ বেরিয়ে পড়লেন .. এতে করে ওই অনাহারী লোকটির পরিবারে ‘ওম শান্তি’ বিরাজ করতে লাগলো !!

….. এরপর বেশ কিছুদিন তিনি আরো অনেক বেশী শান্তির আশায় ‘বটতলায়’ ধ্যানে নিমগ্ন হলেন এবং কিছুদিন পর ওই বটগাছের উপর থেকে একটি ‘আলাদিনের চেরাগ’ তার মাথায় পতিত হলো .. এতে অবশ্য তার কপালে একটু চোট লেগে কপালটা ফেঁটে গেছিলো .. আর যায় কোথায় .. ‘ফাঁটা কপাল’ আর কাকে বলে … এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই .. সেই ‘আলাদিনের চেরাগের’ বদৌলোতে তিনি এখন ‘মল মার্কা গ্রুপের’ একচ্ছত্র অধিপতি .. এখানে কয়েক হাজার লোক ধান্ধা – ফিকির করে তাদের সংসারে ‘শান্তি ‘ আনয়ন করছে … এই ‘গ্রুপের’ উদ্দেস্য হলো – হাজার হাজার গৃহহীন লোককে একটি করে বাড়ী অথবা বাড়ী করার উপযোগী জমি দান করা .. খুবই মহত উদ্দেস্য ….. শুধুই ‘টেকা আর টেকা’ .. এতো টাকা হটাত করে হাতে পেয়ে তিনি যারপরনাই আনন্দিত … আহা – কি আনন্দ আকাশে বাতাসে .. চারিদিকে শুধুই ‘শান্তি আর শান্তি’ !!

….. এর মাঝে তিনি তার ‘শান্তি’ বর্ষণের অংশ হিসেবে ‘কোনালী ব্যান্ক’ -কে প্রায় ‘তিন হাজার কোটি টাকা’ দান করে দিলেন – যাতে করে তাদের পরিবারের হাজার হাজার লোকেরা আরো বেশী শান্তিতে থাকতে পারে … তিনি তো সেদিন অতি আনন্দের সাথে বলেই ফেললেন যে – এখন থেকে সবার ঘরে ঘরে তিনি পূর্বের চেয়ে ‘২০ গুণ বেশী শান্তি’ বিলিয়ে দিবেন … তবে , তার বয়স হয়েছে – তাই তাত্ক্ষণিক অসুখের চিকিত্সার জন্য তিনি সর্বদা ‘ডাক্তার – কবিরাজ’ তার সাথেই রাখেন … খুবই জ্ঞানের কথা … তিনি যে বুদ্ধিমানও বটে – এটা আবারও প্রমান হলো !!

….. বয়সের কারণে তিনি এখন আর পূর্বের মতো হাঁটতে পারেন না – তাই তিনি খুবই অল্প কয়েকটি গাড়ী কিনেছেন … এর মধ্যে রয়েছে – মাত্র ১৯ টি নতুন মডেলের অত্যাধুনিক পাজেরো , ল্যান্ড রোভার , প্রাডো .. ইত্যাদি ….. একটু চিন্তা করে দেখেন – তার এই মহত কর্মের পিছনেও ‘শান্তির দর্শন’ আছে … আজকালকার গাড়ীর বাজারে গাড়ী ব্যবসায়ীদের এই মহা – দুর্দিনে তিনিই একমাত্র মহান ব্যক্তি , যিনি ওই ১৯ টি শোরুম থেকে নগদে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের গাড়ী গুলি কিনে গাড়ী ব্যবসায়ী পরিবারদের মনে অনেকদিন পর ‘শান্তি বর্ষণ’ করলেন .. পাশাপাশি অনেকদিন পর বেতন পাওয়াতে গাড়ীর ওই শোরুম গুলির কর্মচারীদের পরিবারেও ‘শান্তি’ আসলো … আর , তার গাড়ীর আগে – পিছে যে ১০ / ১২ টি গাড়ী পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় – সেসব গাড়ীর চালক , তার দেহরক্ষীদের ইনকামের টাকা দিয়ে তাদের পরিবারেও ‘শান্তির প্লাবন’ ….. আহা .. আহা … শুনেও শান্তি !!

….. এবার তাহলে আপনারাই বলুন – ‘কাবিল শান্তি পুরস্কার’ মানভীর তাহমুদ পাবেন – নাকি আমার মতো ‘আবাল’ পাবে ?!!

— মইন সিদ্দিকী
৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ – ঢাকা