ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

জাতির শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযুদ্ধা,প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও ছোট গল্পকার আল মাহমুদের ৭৭তম জন্মদিন আজ।

কবি, কথাসাহিত্যিক আল মাহমুদের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ব্যবসায়ী পরিবারে। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এ শহরে এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার অন্তর্গত জগত্পুর গাঁয়ের সাধনা হাইস্কুলে এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু হাইস্কুলে লেখাপড়া করেন। এ সময়ই তার সাহিত্য সাধনার শুরু।

ঢাকা ও কলকাতার সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে ১৯৫৪ সাল থেকে তার কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। কলকাতার নতুন সাহিত্য—চতুষ্কোণ, চতুরঙ্গ, ময়ূখ ও কৃত্তিবাসে লেখালেখির সুবাদে ঢাকা ও কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম পরিচিত হয়ে ওঠে। এ সময় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় তার কয়েকটি কবিতা ছাপা হলে সমসাময়িক কবি মহলে তাকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকায় তখন তিনি নিয়মিত লিখতে শুরু করেন।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার ত্রিশ দশকীয় প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জীবন, গ্রামীণ দৃশ্যপট, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের কর্মমুখর জীবন চাঞ্চল্য ও নর-নারীর চিরন্তন প্রেম বিরহের বিষয়কে অবলম্বন করেন। আধুনিক বাংলাভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যেই অত্যন্ত স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্তায় আঞ্চলিক শব্দের সুন্দর প্রয়োগে কাব্য রশিকদের মধ্যে আল মাহমুদ নতুন আনন্দ ও অনুভূতির সৃষ্টি করেন। সমালোচকরা তাকে জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দ দাশ থেকে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন ধারার কবি প্রতিভা বলে উল্লেখ করে থাকেন। এ সময় ‘লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ প্রকাশিত হয়। আল মাহমুদ মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কারে ভূষিত হন।

’৫২ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। সেই পালানোর পর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরতে পারেননি। এজন্য তাকে বলা হয় ‘ফেব্রুয়ারির ফেরারি পাখি’। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে আল মাহমুদ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ের বেশে দেশে ফিরে ‘গণকণ্ঠ’ নামের একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি দেশে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বৈপ্লবিক আন্দোলনকে সমর্থন করার অপরাধে গ্রেফতার হন।

তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো,,,,,,,,,, আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে/হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশ।’ কিংবা সোনালি কাবিন কবিতায়- ‘বধূবরণের নামে দাঁড়িয়েছে মহামাতৃকূল/গাঙের ঢেউয়ের মতো বলো কন্যা কবুল কবুল।’ আবার ‘আম্মা বলেন, পড়রে সোনা/আব্বা বলেন, মন দে/ পাঠে আমার মন বসে না/কাঁঠালচাপার গন্ধে।’

মহান আল্লাহর কাছে তার সু-সাস্থ্য কামনা করছি। মহান এই দেশ প্রেমিক কবি যেন দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করে যেতে পারেন মহান আল্লাহর কাছে দীর্ঘায়ু কামনা করি।