ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন ধরখার বাসষ্ট্যান্ড রিফাতনগর হাউজিং প্রকল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে আয়োজিত মাসব্যাপী শীতকালীন মেলার নামে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত জমজমাট জুয়ার বাণিজ্য চলছে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সামনে প্রকাশ্যে আসর বসলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সর্ব মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রিফাতনগর প্রজেক্টের একাংশের মালিক স্থানীয় সাংসদ শাহআলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত উপজেলা যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান লিটন গত ছয় দিন যাবৎ অদৃশ্য প্রভাবে ওই মেলায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চালাচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত ধাপে-ধাপে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীরা হাজার-হাজার টাকা নিয়ে জুয়ার আসরে অংশ নিচ্ছে।

অ্যাডভোকেট লিটন ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমš^য়ক করে কমিটি তৈরি করে প্রশাসনের নাকের ডগায় জুয়ার বাণিজ্য করছে।

গত শুক্রবার রাতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ধরখার ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোসলেহ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মেলায় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের সামনে প্রকাশ্যেই জুয়াড়িরা ওয়ান টেন, হাউজিং সহ অন্যান্য জুয়ার আসর চালাচ্ছে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাংবাদিকরা জুয়ার আসরের ছবি তুলতে গেলে জুয়ার বোর্ড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্টু মিয়া বলেন- ‘ছবি তুইল­া কি অইবো! সামনেই তো পুলিশ বসা, আমরা তারার লগে কথা বইল­াই তো জুয়ার আসর বসাইছি।’

মেলার উদ্যোক্তা যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান লিটন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ছিল মেলা এনে দেওয়া। এনে দিয়েছি। এখন মেলায় যা হচ্ছে সকলের সম্মতিতেই হচ্ছে।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর“ল আলম বিল্লাল বলেন, ‘আনন্দ দিতে হইলে কত কিছুই করতে হয়। আর জুয়া খেলা ছাড়া তো মেলা জমে উঠেনা।’

জুয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মেলায় কর্তব্যরত ধরখার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ফাঁড়িতে পুলিশই আছে তিন জন। এত কম পুলিশ দিয়ে এই জুয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে আমি ওসি স্যারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির“ল ইসলাম বলেন, ‘জুয়ার ব্যাপারটি আমার জানা নেই। তবে এ রকম হয়ে থাকলে তাদের বির“দ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।