ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে রেজাল্টের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। পুরো ব্যপারটা বুঝতেই আমার দীর্ঘ সময় লেগেছে এবং যখন খানিকটা বুঝতে পার‌্লাম তখন দেখলাম পুরো ব্যাপারটাতে প্রচন্ড রকম হাসির খোরাক আছে। তাই ভাবলাম আর কিছু না পারি পুরো ব্যপারটা সকলের সাথে শেয়ার তো করতে পারবো।

রেজাল্টের ভিত্তিতে ভর্তির মুল কারন ( সরকার বলছে) মেধার মূল্যায়ন এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব? মেধার মূল্যায়ন কোনভাবেই রেজাল্ট দেখে করা সম্ভব নয়, কারণ পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া আরে মেধাবী যে এক জিনিস নয় তা আমাদের এই মহান শিক্ষাবিদদের কে বোঝোবে? আমি এরকম ভুঁড়ি ভুঁড়ি উদাহরণ দিতে পারবো যারা একটি ইংরেজী বাক্য ঠিকভাবে তৈরী করতে পারে না অথচ পরীক্ষায় জি পি এ ৫ পেয়ে বসে আছে। তাহলে এখানে মেধার মূল্যায়নটা কোখায়? অনেক সময় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকার দরুন পরীক্ষায় আশানুরুপ ফলাফল করতে পারেনা তার মানে কি সে মেধাবী না, তাকে আপনি ভর্তির জন্য অংশগ্রহনের সুযোগ দিবেন না এটা কি গণতান্ত্রিক দেশে স্বৈরতান্ত্রিক ‍সিদ্ধান্ত হয়ে গেলো না? অনেকে একটু খারাপ ফল করলেও ভর্তি পরীক্ষায় অবর্ণনীয় পরিশ্রম করে তা পুষিয়ে নেয়। তাহলে এটা কি সেই মেধাবীকে নিরুৎসাহিত করা হলো না?

এবার আসা যাক, কোচিং বাণিজ্যের ব্যপারে, অভিযোগ গুরুতর, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দূর্নীতি, আমি এর সাথে একমত কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটাতে পারতেছে কেন কোচিংগুলো সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারার ক্ষমতা সরকারের থাকা উচিত তা েযদি না থাকে তবে তার দায়ভার কেন কোমলমতি শিশুরা নেবে? এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, যে একসময় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভাইভা হতো, কিন্তু পরে দূর্নীতির কারনে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। যেখানে পরীক্ষার একটা অংশ দুর্নীতিমুক্তি রাখা যায় নাই সেখানে পুরো প্রক্রিয়া দূর্নীতি মুক্ত থাকবে এটা কি করে বিশ্বাস করবে জণগণ? কথায় আছে টাকা হলে এ দেশে বাঘের চোখ পাওয়া যায়।

এবার সরকারের কাছে কিছু প্রশ্ন করতে চাই?

১. ধরে নিলাম আপনাদের দেয়া পদ্ধতি নিছিদ্র এবং এতে সত্যিকার অর্থে মেধার যাচাই হবে, কোন দূর্নীতি হবে না তাহলে এই সিদ্ধান্ত কেন এখন জানানো হচ্ছে ? এটা কি আরো আগে জানানো উচিত ছিলো না? যারা জানেন তারা অবশ্যই বুঝবেন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেমটা এমন যে এর সাথে বাংলাদেশের আর কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কোন মিল নাই অর্থাৎ যারা মেডিকেলের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তারা এখন মেডিকেলে রেজাল্টের কারনে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ না পেলে কোথাও ভর্তি হতে পারবে না। তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ নীতিনির্ধারককে কে দিয়েছে? নাকি ওনারা ভাবেন যে এনাদের থেকে এই জীবন গুলোর দাম কম? এছাড়া ও প্রশ্ন আছে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করা টাকা খরচ করে অনেক দরিদ্র অভিভাবক গত তিনমাস ধরে সন্তানকে মেডিকেলে ভর্তি করানোর আশায় কোচিং করাচ্ছেন তাহলে এই টাকাগুলোর কি কোন দাম নাই? নাকি টাকার পরিমাণটা কম বলে নীতিনির্ধারকদের চোখে লাগে না? এছাড়াও যারা গত বছর কোথাও ভর্তি না হয়ে এক বছর ধরে পড়াশোনা করেছে শূধু মেডিকেলে ভর্তি হবে এই আশায় তাদের জীবনের এই সময়গুলোর কি কোন দাম নাই? নাকি এই দেশে রমজান মাসে সুলভ মুল্যে সময় কিনতে পাওয়া যায়? অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তর মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন কেউ যদি বছর গ্যাপ দিয়ে থাকে তাহলে সেটা তার দায়ভার সেটা আমি কেনো নিবো? অত্যন্ত বিবেচকের মত কথা। অভিভাবকের কাছে এমন কথাই আমরা শুনতে চাই!!!!!!!!!!!

এখন থেকে মনে হয় এটা বোঝা যায় বাস্তব জীবন থেকে আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কতখানি দূরে , তারা জানেন পর্যন্ত না কবে থেকে শিক্ষার্থীরা পড়া শুরু করে কবে কিভাবে কে ভাবে? জনবিচ্ছিন্ন মানুষ যদি জনগণের সিদ্ধান্ত দেয় তবে তা এমন হবে বই কি?

আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই যে, আসলে এ প্রক্রিয়া সামনের দিনগুলোতে দূর্নীতি ছাড়া আর কিছু উপহার দিবে না। অভিভাবকদের একটি পরামর্শ না দিয়ে পারছিনা তা হল, আপনার সন্তান হোক সে মেধাবী বা নয় আপনি এক বস্তা টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকেন ইনশাল্লাহ আপনার সন্তান ডাক্তার হবেই।

আমি বুঝি না কেন আমাদের রাজনীতিবিদদের প্রতি এত আক্রোশ? যে আসে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা শুরু করে এবং এটাকে গিনিপিগ বানায় । কিছুদিন পর পর গায়েবী অহি নাযিল হয় আর সিস্টেম বদলায়। কই থেকে আসে আর কে যে দেয় কেউ জানে না। এভাবে আর কত দিন চলবে? চোখের সামনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। আমি তো চুপ থাকতে পারলাম না যদি পারেন অন্যকে একটু সচেতন করুন আর একটু ভাবুন আপনার বিবেক কি বলে?……

কি হাসি আসে নাই? আমাদের উজ্জ্বল ভবিষৎ এর পতাকাবাহী মানুষদের কার্যক্রম দেখে???? না আসলে আমি নগন্য জ্ঞানহীন অতীব দু:খিত।