ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

আমার নাম তমাল হওয়ায় তমাল গাছের উপর আমার খুব আগ্রহ। বেশ কিছুদিন নেট এবং বই পরে কিছু তথ্য পাওয়া গেলো। দুঃখের বিষয় এ সম্পরকিত বেশি তথ্য নেই। সামনে আরও পেলে আরও লেখার ইচ্ছ রইল।

দৃষ্টি নন্দন কান্ড শাখা আর পত্র পল্লবিত “তমাল তরু” আবহমান বাংলার একটি পরিচিত গাছ৷

বৈষ্ণব কবির কবিতায় একে তমাল তরু বলা হলেও এটি তরু নয় , এটি একটি মধ্যম আকারের অরণ্যক বৃক্ষ৷

এর উদ্ভিদ জাগতিক নাম “গার্মেনিয়া জেলখো সাইমাস”৷ কৃষ্ণ কালো তমাল শাখাঁর ফাকে আকাশকে অপরুপ নীল দেখায় বলে বোধ হয় এর আরেক নাম নীলধজ৷

হিন্দু সমপ্রদায় তমালকে পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে পূজা দিয়ে থাকেন৷ এক সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের মাঠ-ঘাটে, বন-জঙ্গলে সারি সারি তমাল গাছ দেখা যেতো৷ এখন তা বিরল৷ তমাল এখন বিলীয়মান গাছ৷

তমাল শুধু রুপসর্বস্ব গাছ নয়, এর গুনও রয়েছে অনেক৷ এ গাছ থেকে রজন সদৃশ মূল্যবান উপাদান পাওয়া যায়৷ এর ফলের বীজ থেকে এক ধরনের মাখন প্রস্তুত হয়৷ যার ভেষজ গুণ রয়েছে৷

এই মাখন থেকে প্রস্তুত তেল ফাটা পায়ে লাগালে পা ফাটা সেরে যায়\ তমালের ফল,বীজ পাতা এবং নরম ডাল থেকে মূল্যবান ভেষজ প্রস্তুত হয়৷ বসন্তে গাছে ফল আসে , গ্রীষ্মে ফল পাকে ৷ পাকা ফল অল্পমধুর, সুস্বাদু, লোকে খায়৷ তমাল গাছ বেড়ে উঠতে সময় লাগে৷

বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে এখনও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু গাছ দেখা যায়৷ রুপে -গুণে অপরুপ এ গাছগুলো সংরক্ষণ জরুরী বলে মনে করে পরিবেশ বিদরা

তমাল মধ্যমাকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ। কাঠ শক্ত, গাছের বাকল ধূসর। পাতা গাঢ় সবুজ, উজ্জ্বল, ১০-১৫ ইঞ্চি লম্বা ও ৩-৪ ইঞ্চি চওড়া। ফুল সাদা, পুরু ও খসখসে। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে হলদে রঙের, মসৃণ, গোলাকার, দেখতে অনেকটা আপেলের মতো, তবে ফলের নিচের দিকটা সূচাল এবং বাঁকা। ফলের ৩-৪টি বীজ থাকে, বীজ লম্বাকৃতি এবং দেখতে কাঁঠালের বীজের মতো। বসন্তকালে ফুল ও তারপরে ফল হয় এবং গ্রীষ্মে ফল পাকে। পাকা ফল অমস্ন-মধুর, সুস্বাদু। জ্যাম তৈরির জন্যও ফল সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কাঁচা ফল শুকিয়ে বাজারে ‘আমশূল’ নামে পাওয়া যায়। দক্ষিণ ভারতে এর ফল তেঁতুলের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। শুকনো ফলের শরবত খেতে সুস্বাদু ও পিত্তবিপাকে হিতকর। দক্ষিণ ভারতের তাপ্তি নদীর তীরে এই গাছটি প্রচুর পরিমাণে জন্মে বলে তমালের অন্য নাম তাপিঞ্জ। গুটিফেরি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত তমালের বৈজ্ঞানিক নাম এধৎপরহরধ ীধহঃযড়পযুসঁং ঐড়ড়শ.
তমালের প্রচুর ভেষজ গুণ রয়েছে। পাকা ফল স্নিগ্ধ, পিত্তপ্রশমক, রুচিকারক, অগি্নবর্ধক, শীতল ও প্রসূতির পক্ষে হিতকর। ফলের রসে পানি ও মিছরি মিশিয়ে পান করলে জ্বরের প্রদাহ কমে এবং মধু মিশিয়ে চেটে খেলে কাশির উপশম হয়। ফল স্কার্ভি রোগেও উপকারী ও বেদনা শান্তিকর। তমালের নরম ডাল পানিতে পিষে ফোঁড়ায় দিলে ফোঁড়া আরাম হয়। তমালের কচি পাতা কলাপাতায় জড়িয়ে তার ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে আগুনে সেঁকে নিয়ে সেই ঝলসানো পাতার রস খাওয়ালে আমাশয় ভালো হয়। পাতার ক্বাথও অতি উপকারী।