ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বাংলাদেশের সকল কলেজগুলোর সমন্বয়ে ১৯৯২ সালের ৩৭ নং আইন অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের অত্যধিক চাপ লাঘব করা এবং অধীভুক্ত কলেজগুলোর মান উন্নয়ন। এটি মুলত লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকে গঠিত হয়। বর্তমানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে মধ্যবিত্ত তথা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে সন্তানদের জন্য এটিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। ১২ লাখ শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি আজ চরম অবহেলায় এবং সংকটে দিন অতিবাহিত করছে। হাজারো সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। সেশন জট এ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমস্যা হয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে দাড়িয়ে আছে। অর্নাস ও মার্স্টাস সহ পাচ বছরের শিক্ষা জীবনে ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত তিন অথবা সাড়ে তিন বছরের সেশন জটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যার বিরুপ প্রভাব ফেলছে চাকুরি ক্ষেত্রে। এই অনাকাঙ্খিত সময়ের জন্য শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষার সুয়োগ খুব একটা কাজে লাগাতে পারছে না। আবার বেসরকারি চাকুরির বাজারে প্রতিযোগিতা করতে তাদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পড়ছে গভীর হতাশায়। তাদের সাজানো স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে। স্বপ্ন পুরন ও বেকারত্বের দায় মোচনের জন্য তাদের অনেকেই পা বাড়াচ্ছে এম এল এম কোম্পানিগুলোর প্রতারনার ফাঁদে। যেখানে সর্ব শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তারা দিশেহারা।

বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব কোন প্রেস নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশ্নপত্র বিজি প্রেস থেকে ছাপানো হয়। যেখানে সরকারী সকল প্রকার ছাপানোর কাজ করে থাকে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র পেতে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। ফলে নিদ্রিষ্ট সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় না। যার ফলাফল সেশন জট। এছাড়াও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব আরও সময়কে নষ্ট করে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে রয়েছে শ্রেনী সংকট, শিক্ষক সংকট, লাইব্রেরীগুলোতে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। লাইব্রেরিগুলোতে কিছু পরিমান বই পত্র থাকলেও এর ভিতরের বেহাল দশা যেন ছাত্র-ছাত্রীদের লাইব্রেরী বিমূখী করে তুলেছ। আর এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনীগুলো জাঁকজমক মলাটে প্রকাশ করেছ নিম্নমানের গাইড বই। অনেকটা বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা সে সকল গাইড অনুসরন করেছ।

ঢাকার মধ্য অবস্থিত কলেজগুলোর প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত পরিমান শিক্ষক থাকলেও মফস্বল শহরের কলেজগুলোর প্রতিটি বিভাগ চলে তিন অথবা চার জন শিক্ষক দ্বারা। তারমধ্যে দুই এক জন প্রায় সময় ছুটিতে থাকেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং অন্যান্য কারনে বেশির ভাগ সময় ক্লাশ বন্ধ থাকে।এতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। তার কারন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা কথিত কর্তা ব্যক্তিদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা। এটি এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়া। পূর্বে দুই বা এক জন ভিসি ছাড়া প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ইতিমধ্যে বর্তমান ভিসি, প্রো-ভিসি সহ প্রায় ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি ও নিয়োগে অনিয়ম এবং নম্বর জালিয়াতির মতো ঘটনাও ঘটেছে। যা একটি লজ্জাজনক ব্যাপার।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদ ভারপ্রাপ্তদের পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সিনেট, সিন্ডিকেট, পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিটির কিছু কিছু পদ এখনো শূন্য রয়েছে। ফলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের তদারকি দায়বদ্ধতা থাকছে না। প্রতিষ্ঠানটি চলছে কর্তা ব্যাক্তিদের খেয়াল খুশি মতো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি আর অদক্ষতাই এর সমস্যাগুলোকে বাড়িয়ে তুলেছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানটির সংকট ও সমস্যা নিরসনে সরকারীভাবে কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহন করা হয় নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানো হবে। কিন্তু তার বাস্তবয়ন এখনো হয় নি। সকলের মুখ থেকে পাওয়া গিয়েছে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং পূর্ণ কার্যক্রম ১২ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন রক্ষা করবে। একটি উপযুক্ত পরিবেশ এবং মান সম্মত আধুনিক গবেষণাগার পেলে এ প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া যাবে অনেক মেধাবী মুখ। যারা দেশের জন্য আনবে সুনাম ও খ্যাতি। অথচ এ সকল লুকায়িত প্রতিভাবানদের প্রতিভা বিকশিত করার কোন সুযোগ তো দেওয়া হচ্ছে না বরং তাদের শিক্ষা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।