ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

পালিত হল বিএনপি-জামাত ডাকা টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল। এবং সম্ভাব্য আরো হরতাল করার অগ্রিম ইঙ্গিত বিএনপি দিয়ে রেখেছে। সুতরাং আপাতত বোঝা যাচ্ছে বিএনপি তার যুতসই একটা ইস্যু পেয়ে গেছে। আবার কেউ বলছেন সরকার ইচ্ছা করেই বিএনপি কে হরতালের ইস্যুটি হাতে দিয়েছে। কারন নির্বাচনের আরো আড়াই বছর বাকী এই মুহুর্তে কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু। আসুন দেখি এই মুহুর্তে হরতাল আন্দোলন করার হাতিয়ার কি কারনে দিতে পারে। ।আওয়ামী লীগ এত কাচা কাজ তো করতে পারে না।

কারণ:

১। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার নির্বাচনের পুর্বে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনটি সরকার পুরন করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে যে পারবে তার কোন লক্ষণই নেই। বিশেষ করে ১০ টাকা কেজি চাল, ঘরে ঘরে চাকুরি, বিনামূল্যে সার( উপরন্তু সারের দাম বৃদ্ধি) এ কাজগুলো এখন দিবা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। তাই এসব বিষয় নিয়ে বিরোধী দল যাতে সোচ্চার হতে না পারে সে জন্য বিরোধী দলকে ব্যস্ত রাখা।

২।প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রাক্কালে কিছু চুক্তি ও সমঝোতা করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন বিদেশী চুক্তি হলে সংসদে উত্থাপন করার বাধ্য বাধকতা রয়েছে, তার উপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সফরের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হতে চলেছে এবং ভারতের কংগ্রেস নেত্রী আগামী কাল আসছেন। বিএনপি নিয়ম রক্ষার জন্য সংসদে গেলেও এসব বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠে তাই যদি তাদের মাঠে ব্যাস্ত রাখা যায় আর তার জন্য এর চাইতে হট বিষয় আর কি হতে পারে।

৩। একটু তিতা লাগলেও সত্য যে হরতাল বিষয়টা মানুষের কাছে অসহনীয় করে তুলার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান আওয়ামীলীগের। অপেক্ষাকৃত কম হরতাল আহবান করে বিএনপি এবং তার জন্য জনগনের কাছে বিএনপির একটা ইমেজ আছে। তাই আওয়ামীলীগ চায় এই ইমেজটা নষ্ট করতে এবং বিএনপি ও চায় আন্দোলনের ইস্যু । তো এত ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিএনপি বিগত আড়াই বছরে মাত্র পাঁচটা হরতাল। তাই এটা প্রমান করার জন্য যে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের চেয়ে কম যায় না তা দেখানোর জন্য যা তারা প্রচার করার জন্য কিছু ভালো ইস্যু তুলে দেয়া।

৪। আওয়ামীলীগের সোনার ছেলেরা অর্থাৎ ছাত্রলীগ/ যুবলীগ যারা জনগনের জন্য আন্দোলন যেমন ভাংচুর, মারামারি, হরতাল ইত্যাদি ছাড়া অবসর থাকতে পারে না। বিগত সময়ে বিএনপি তো মাঠে নাই,এবং ভাগ্যক্রমে তারা সরকারি দলে তাই হরতাল করার প্রশ্নই আসে না। ফলে তারা নিজেদের ভিতর মারামারি কাটাকাটিতে ব্যস্ত হইয়া গেছে। এতে দলের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হয় দলও সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়। তাই বিএনপি যদি মাঠে থাকে তাহলে তারা নিজেদের ভিতর বিভেদ ভুলে বিরোধী দলের উপর চড়াও হবে। এতে দলের ভাবমূর্তি একটু ক্ষুন্ন হলেও তারা সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী থাকিবে।

৫। যে কোন করনে হোক বাংলাদেশে আইনী ভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।(সবচেয়ে বেশি বার) সেই দিক থেকে শেখ হাছিনা একটু পিছিয়ে। কিন্তু বর্তমানে যে সকল কর্মকান্ড করছে তাতে আগামীতে নির্দলীয় সুষ্ঠ নির্বাচনে দল জেতা সম্ভব না। তাই সবচেয়ে বেশিবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব না। তাই এখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামীতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। তাই নির্বাচন ও গ্রহনযোগ্য হইবে না। তাই একবার যদি সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে নির্বাচন দিলে ক্ষমতায় নিশ্চিত আওয়ামী লীগ মানে শেখ হাসিনা ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী মানে সবচেয়ে বেশি বারের কাছাকাছি।

৬। আর এখনই যদি বিএনপি কে শুধু তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে ব্যস্ত রাখা যায় তাহলে আওয়ামীলীগের আরও কিছু এজেন্ডা রয়েছে যেমন বিনা ফি তে ভারতকে ট্রানজিট ও করিডোর( যদিও স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর বানানো হবে)দেয়া, টিপাইমুখ বাধ নির্মান করতে সম্মতি দেয়া, সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন কিছু বলতে না পারা। আরও কি আছে তা বোঝা যাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে।

তো বিএনপি এসব বিষয় নিয়ে বিএনপি মাঠে মাতামাতি করুক আর আওয়ামীলীগ হাসতে হাসতে দেশের ১২ টা বাজাক আর জনগন সিদ্ধান্ত নিক তারা কী করবে।