ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

শিরোনাম কাহিনীটা পরে বলি। আগে মূল কথায় আসি। যদি বলি, এখন চলছে ডিজিটাল সরকারের যুগ। তাহলে মনে হয়, ভুল হবে না। কারণ, বর্তমান সরকারের যে দল, সেই দলের জনপ্রিয় একটি শ্লোগান- ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। তরুণরা তো বটেই, আমরা, মধ্যবয়সীরাও ঐ শ্লোগানে মুগ্ধ হয়েছিলাম নির্বাচন সময়ে। এক, দুই, তিন করে বর্তমান সরকারের চার বছরে হাঁটছি আমরা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে দেশের কতো অংশ ডিজিটালাইজড হয়েছে ? অংক কষার প্রয়োজন নেই। যে কেউ বলতে পারবেন বিষয়টি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে নিয়ে আসা হলো দোয়েল ল্যাপটপ। জেলা-ইউনিয়ন-গ্রাম পর্যায়েও ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বাহারী ল্যাপটপ। সরকারি বিভিন্ন অফিসেও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের টেবিলের সামনে ঝকঝক করে কম্পিউটার। প্রশ্ন হচ্ছে- এর ব্যবহার নিয়ে? একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা। ঠাণ্ডা রুমে বসে আছেন। টেবিলে ল্যাপটপ। নানা প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল। হঠাৎ তিনি কম্পিউটার অন করলেন। বললেন, তাড়াতাড়ি করো। আমার ছেলে বিদেশ থেকে আসবে একটু পর। আমি এয়ারপোর্ট যাবো। কই, আমার কাগজটা দাও? বললাম, ওটা তো আমার মেইলে আছে? মেইলটা কি সঙ্গে এনেছো না বাসায়? এমন কথা শুনে আমার মাথা চক্কর দিয়ে ওঠলো। কী শুনছি এসব? একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা যদি এমন কথা বলেন, তাহলে আমাদের দেশের প্রকৃত অবস্থাটা কী? বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের সমাজকে ডিজিটালাইজড করতে হলে- যারা সমাজকে চালাচ্ছেন, আগে তাঁদের ‘ডিজিটাল’ বিষয়টা ভাল করে বোঝানো উচিত। না হলে, সরকারের মহৎ এই উদ্যোগ শতভাগ ব্যর্থ হতে বাধ্য। কারণ, এনালগ পদ্ধতির মানুষকে ডিজিটালে নিয়ে আসতে কিছু পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন। আমরা তা করিনি। আর এই না করা আমাদেরকে ভয়ঙ্করভাবে বিভ্রান্ত করতে পারে। আমরা নিশ্চিতভাবেই পিছিয়ে যাবো প্রযুক্তিগত শিক্ষাজ্ঞান থেকে। প্রত্যাশা থাকলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।