ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

কন্যাবন্ধু শাওন। ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন । আমি দু:খিত! বলতেই হচ্ছে, বিকৃত রুচির ঐ মানুষটি বাবার যোগ্যতা হারিয়েই কাছে টেনেছিলেন শাওনকে। আর শাওন বন্ধুবাবাকে করেছিলেন স্বামী! যে কিনা থাকার কথা পিতার আসনে। শাওন অবশ্যই দোষ করেছিলেন। কারণ, ঐ বয়সী মানুষকে বিয়ে করার জন্য নয়- দোষ হচ্ছে, বন্ধুবাবাকে বিয়ে করা। আর হুমায়ূন? ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছিলেন- কন্যাবন্ধুকে বিয়ে করে। পরিনতিতে কী হলো? এতিম হলো দুই পুত্র নিনিত- নিষাদ।

হ্যাঁ, ভালবাসা অন্ধ-যুক্তিহীন। তারপরও বলতে হয়, কোনভাবেই শারীরিক সম্পর্ক যুক্তিহীন থাকে না। ইতিহাস বলে, সন্তান মাকেও বিয়ে করেছে। কিন্তু সেটা হয়েছিল না জেনে। জানার পর সেই সম্রাট পুত্র আত্মহত্যা করেন। কিন্তু এখানে তো প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।

হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন অসম্ভব পাগলাটে রোমান্টিক মানুষ। শাওন সেই সুযোগটাই গ্রহণ করেছে। অবশ্যই সে দোষ করেছে। কিন্তু হুমায়ূন ? মাত্রাহীন অপরাধে অভিশাপে জর্জরিত হয়ে তাকে চলে যেতে হলো। স্ত্রী-সন্তানের অভিশাপে তার প্রিয় প্রকৃতিই যেন দায়িত্ব নিয়েছিল প্রতিশোধের। অত:পর ….

এখন প্রয়োজন হুমায়ূন সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করা। জীবনে যা ঘটে তা অনিবার্য। তাকে এড়ানো সম্ভব না। হুমায়ূনের ব্যক্তিজীবন নিয়ে আমরা কথা বলতাম না। কিন্তু তিনি তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে হয়েছিলেন আমাদের। যে কারণে হুমায়ূনের স্খলন আমাদের ব্যথিত করে। তিনি তো আর পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না।

হুমায়ূন অপরাধী। কিন্তু তার সৃষ্টি তো কোন অন্যায় করেনি। দ্রুত তাঁর কর্মযজ্ঞ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। আর পাপের শাস্তি দু‘জনই পেয়েছেন। একজন হয়েছেন স্বামীহারা আর অন্যজন ভালবাসার …..!!!!