ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

’৯০ দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে শুরু হয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল যাত্রা। দেশের প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট চ্যানেল- চ্যানেল আই। বিটিভিসহ বাংলাদেশে তখন মোট চ্যানেলের সংখ্যা ছিল ৩টি। আর আজ আমাদের দেশে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ১৫। আজ সন্ধ্যা ৭টায় আরো একটি নতুন চ্যানেলের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। নাম- Channel 24। আমরা জানি না, কী এমন নতুন বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর থাকবে এই চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালা। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের কোন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলেই প্রকৃত শিক্ষা বিষয়ক কোন অনুষ্ঠান নেই। নেই শিশু-কিশোরদের চেতনা শাণিত করার কোন অনুষ্ঠান। একমাত্র বিটিভিতে চলছে ‘সিসিমপুর’ আর চ্যানেল আইয়ে হচ্ছে ‘ক্ষুদে গানরাজ’। অন্যদিকে, একুশে টেলিভিশন এবং এটিএন বাংলায় হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের খবর চাষ। প্রশ্নটা এখানেই। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আদৌ সেই মানুষটার চেতনাকে উন্নীত করার কোন সুযোগ থাকে কী ? যদি না থাকে- তাহলে দায়টা কার?

মোটেও আমরা বলছি না, সার্বক্ষণিকভাবে কিশোর-কিশোরীদের মাতিয়ে রাখবে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো। কিন্তু এও তো সত্য, ওই গোষ্ঠীকে চেতনায় সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদেরই? আশা করবো, চ্যানেল ২৪ কর্তৃপক্ষ বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। বেশ ক’বছর আগে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় চ্যানেল ২৪ জন্মের পূর্ব মুহূর্তে একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। যতদূর মনে পড়ে, বিজ্ঞাপনের ভাষা ছিল এ রকম- ‘আসছে ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেল। এর জন্য নাম প্রয়োজন। প্রিয় পাঠক, আপনারা নাম পাঠান। যার নাম নির্বাচন করা হবে, তাকে দেয়া হবে উপযুক্ত সম্মানী। আপনারা দ্রুত… তারিখের মধ্যে নাম পাঠান।’ তখনই জাতীয় দৈনিকের একজন সাংবাদিক সমকাল পত্রিকার অভ্যর্থনা কক্ষে বসেই দু’টো নাম নির্ধারিত বক্সে ফেলেন। ওই দু’টো নামের একটি ছিল- N-24। সেখানে উল্লেখ ছিল, N মানে News। অর্থাৎ চ্যানেলটির নাম ছিল- News 24। পরবর্তীসময়ে চ্যানেল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের নীতি পরিবর্তন করেন। বলেন, চ্যানেলটি হবে শুধু সংবাদ নির্ভর না, সেখানে অনুষ্ঠানও থাকবে। খুবই ভাল কথা। এরপর চ্যানেলের নাম রাখা হল- Channel 24।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, যে সাংবাদিকের দেওয়া নাম নিয়ে এই চ্যানেলের অর্ধেক নাম নেয়া হল সেখানে তার কোন কৃতিত্ব নেই। কোনভাবেই এমন আচরণ অন্তত কেউ Channel 24 কর্তৃপক্ষের কাছে আশা করে না। অন্যদিকে, এমনটিই আচরণ করেছে গাজী গ্রুপ। বেশ ক’মাস আগে এই গ্রুপ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নাম আহ্বান করে। সেখানে উল্লেখ ছিল- নির্বাচিত নামদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে। সেখানে নাম দেয়া হয়েছিল- Education for Life University (EFL University). পরবর্তীকালে জানানো হয়, এই নামটি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। বিজয়ী নামদাতার কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাসার ঠিকানা, ই-মেইল আইডি ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন। বলেন, অতি দ্রুত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। ওই শেষ …। পত্রিকার মাধ্যমে এভাবে নাম আহ্বান করে নির্বাচিতদের প্রতারিত করার কী অদ্ভুত কৌশল! আমরা কার কাছে গিয়ে আমাদের কষ্টের কথা জানাবো? তেমন কর্তৃপক্ষ কোথায়?

http://www.dailyeducationbd.com/