ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

কোন কথা বলা যাবে না। অতিশয় ভদ্র (!) মানুষের মতো চলাফেরা করতে হবে। যা দেখবো, তার সমালোচনা কালো অক্ষরে করা যাবে না। ঘরের বাইরে গেলে নতুন বউয়ের মতো মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকতে হবে। সঙ্গে মুচকি হাসি! পারলে সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়া। এরপর আর কী থাকে?

এই সম্মানজনক পেশাটার এমন করুণ দশা হল কেন? এর জন্য কি সাংবাদিক গোষ্ঠীই দায়ী? না কি এই ঘুণধরা সমাজব্যবস্থা? একটু পিছনে ফিরি।

স্বাধীনতার পর থেকে এরশাদ শাসনামলের শেষ পর্যন্ত এই পেশা নিয়ে যা হয়েছে তা রীতিমতো মহাকাব্য। কিন্তু সাংবাদিকের সম্মানহানি কতটুকু হয়েছে? ’৯০’র পর থেকে যা হচ্ছে তা রীতিমতো ভীতিকর। যে বিষয়টি বহুমাত্রিক ব্যাখ্যার দাবি রাখে তা হচ্ছে, দায়বদ্ধতা। অন্যের সমালোচনা করার আগে যদি আমরা আত্মসমালোচনা করি, তাহলে দেখবো- একজন শিক্ষিত এবং মার্জিত মানুষ যখন এই পেশায় প্রবেশ করেন তখন ধরে নিতে হবে সেই মানুষটি কোন না কোন দায়বদ্ধতা থেকেই এই পেশায় নিজেকে তৈরি করতে চাচ্ছেন। কিন্তু পদে পদে ভয়ঙ্কর কালো থাবায় নীল হচ্ছেন তারা। অথচ বর্তমান দৃশ্য অন্যরকম। হরহামেশা সাংবাদিক খুন হচ্ছে। কেউ গুলি খেয়ে, কেউ গাড়ির নিচে আবার কেউ বা গুম! এই ঘটনার গভীরে না গেলে কোনদিনই এর সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে সহজ সত্য হচ্ছে- সাংবাদিক নির্যাতনের জন্য মূলতঃ সাংবাদিকই দায়ী! হ্যাঁ, কেউ বলতেই পারেন, কোনভাবেই এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য না। মনে রাখতে হবে, সাংবাদিক নির্যাতনের আজকের এই দৃশ্য আঁকা শুরু হয়েছে আড়াই দশক আগে। তখন তথাকথিত, লোভী, নীচ সাংবাদিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল রুচিশীল, মার্জিত, শিক্ষিত সাংবাদিক গোষ্ঠী। ফলে তাদের হাতেই সাংবাদিক সমাজের নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। যারা অত্যন্ত কালপোষাকি। অনেকটা বেশ্যার মতো। সামনে সুন্দর, ভিতরে দুর্গন্ধ-কদাকার।

জনকণ্ঠের শামসুর রহমান থেকে যদি শুরু করি তাহলে সাংবাদিক মৃত্যু তালিকা হবে লম্বা। গত ১ বছরের মধ্যে ক’জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে? ক’জন সাংবাদিক পঙ্গুত্ববরণ করেছেন? ঐ ঘটনার কী ধরনের বিচার হয়েছে? দেখা যাবে, কিছুই হয়নি। ফলে সামান্য পুলিশ কনস্টেবলও সাহস পায় সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার। আর যেসব সাংবাদিকের কথা আগে বলেছি, সেই লোভী গোষ্ঠীর করুণ শিকার আমরা! আমাদের দুর্বলতা এবং অনৈক্য কাটিয়ে ওঠতে পারলে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার সংখ্যা নিঃসন্দেহে কমে যাবে। অনুরোধ থাকলো- আগে আমাদের ঠিক করি, পরে অন্যকে পরামর্শ দেই ঠিক হওয়ার। কারণ, এই সমস্যার মূলে ঘুরেফিরে আমরাই।